Showing posts with label উপসর্গ. Show all posts
Showing posts with label উপসর্গ. Show all posts

Wednesday, 18 May 2016

শব্দগঠনের উপায় (উপসর্গ)

বিভিন্ন উপায়ে শব্দ গঠন করা যায়। যেমন : কার যোগে-ম+আ=মা, ফলা যোগে-রত্ন/বিশ্ব/পদ্ম/পদ্য/ক্রয় /ধর্ম/ক্লান্ত, ব্যঞ্জন যোগে-পক্ক ইত্যাদি। আবার গঠনের দিক দিয়ে শব্দ দুই প্রকার। যেমন:
১. মৌলিকশব্দ: যেসব শব্দ সন্ধি, সমাস, উপসর্গ, প্রত্যয়, বিভক্তি ইত্যাদির মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে আলাদা করা যায় না তাদের মৌলিকশব্দ বলে। যেমন: বই, কলম, হাত, পা, লাল ইত্যাদি।
২. সাধিতশব্দ: যেসব শব্দ সন্ধি, সমাস, উপসর্গ, প্রত্যয়, বিভক্তি ইত্যাদির মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে আলাদা করা যায় তাদের সাধিত শব্দ বলে। যেমন: গাছে (গাছ+এ), বোকামি (বোকা+আমি), ডুবুরি (ডুব+ উরি), বিদ্যালয় (বিদ্যা+আলয়), রবীন্দ্র (রবি+ইন্দ্র)। ছেলে ও মেয়ে (ছেলে-মেয়ে), কুসুমের মতো কোমল (কুসুমকোমল), মনরূপ মাঝি (মনমাঝি), মধুর>মাধুর্য, দীন>দৈন্য, ছাইদানি, হেডমৌলবি ইত্যাদি।
উপসর্গ
যেসব অর্থহীন বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি শব্দের আগে যুক্ত হয়ে নতুন নতুন শব্দ গঠন করতে সাহায্য করে তাদের উপসর্গ বলে। অথবা উপসর্গ হলো অর্থহীন বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি যারা শব্দের আগে বসে নতুন শব্দ গঠন করে। যেমন: আ—আগাছা, পরা—পরাজয়। উপসর্গ শব্দের আগে বসে শব্দটিকে (বিশেষ্য বা ক্রিয়া) হাবোধক বা নাবোধক দুটি অর্থেও প্রকাশ পেতে পারে। শব্দের আগে ‘আ’ বসলে হবে উপসর্গ আর ‘আ’ শেষে বসলে হবে প্রত্যয়। যেমন: আগাছা (আ+গাছ+আ), আকাঁড়া, আধোয়া, আকাঠা। তবে সংস্কৃত শব্দের শেষে ‘আ’ যোগ হয় না। যেমন: আকণ্ঠ, আমরণ, আসমুদ্র, আরক্ত, আভাস, আদান, আগমন ইত্যাদি। আবার অ/আ/অপ উপসর্গ আছে যারা নাবোধক কিন্তু শব্দের আগে বসে নাবোধ প্রকাশ করে না। যেমন: অপর্যাপ্ত, অপ্রচুর, অমূল্য, অপরূপ, আকণ্ঠ ইত্যাদি।
বলা হয় উপসর্গের অর্থবাচকতা অর্থাৎ নিজস্ব কোন অর্থ নাই কিন্তু অর্থদ্যোতকতা অর্থাৎ নতুন শব্দ গঠন করার ক্ষমতা আছে। উপসর্গের নিজস্ব কোন অর্থ নাই তবে কয়েকটি উপসর্গের অর্থ আছে। যেমন: অতি, অনু, ইতি, কু, সু, প্রতি, সম, রাম, কম, দর, খোশ, না, ফুল, হাফ, সাব, হেড ইত্যাদি। আবার ‘আ, নি, বি, সু’ সংস্কৃত ও বাংলা উভয় উপসর্গেই আছে।
ব্যাকরণবিদগণ উপসর্গ সম্পর্কে বলেন
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় বলেন: সংস্কৃতে কতকগুলি অব্যয় আছে যেগুলি ধাতুর পূর্বে যুক্ত হইয়া ধাতুর অর্থে পরিবর্তন ঘটিয়ে ধাতুর নতুন অর্থের সৃষ্টি করে। সংস্কৃত ব্যাকরণে ধাতুর পূর্বে প্রযুক্ত এইরূপ অব্যয়কে বলা হইয়াছে উপসর্গ।
ড.রামেশ্বর : শব্দ বা ধাতুর আদিতে যা যোগ হয় তাকে বলে উপসর্গ।
অশোক মুখোপাধ্যায়: কিছু অব্যয় আছে যারা ধাতু বা শব্দের আগে যুক্ত হয়ে তাদের অর্থ বদল করে দেয়। এদেরই বলা হয় উপসর্গ।
ড. মুহম্মদ এনামুল হক: যে সকল অব্যয় শব্দ কৃদন্ত বা নামপদের পূর্বে বসিয়া শব্দগুলির অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ বা অন্য কোন পরিবর্তন সাধন করে, ঐ সকল অব্যয় শব্দকে বাংলা ভাষায় উপসর্গ বলে।
উপসর্গের বৈশিষ্ট্য বা কাজ
১. কিছু বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি যারা ধাতু বা নামশব্দের আগে বসে
২. যাদের নিজস্ব কোন অর্থ নাই
৩. যারা অর্থের পরিবর্তন করে
৪. যারা অর্থের সম্প্রসারণ ও সংকোচন করে
৫. যারা নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি করে বা অর্থের পূর্ণতা দেয়
উপসর্গের প্রকরণ
সংস্কৃত উপসর্গ (২০টি)
সংস্কৃত উপসর্গ +সংস্কৃত শব্দ = সংস্কৃত শব্দ। যেমন: অতি, অনু, অধি, অপ, অপি, অব, অভি, আ, উৎ, উপ, নি, নির, দূর, পরা, পরি, প্র, প্রতি, বি, সু, সম।
২০টি সংস্কৃত উপসর্গযোগে নতুন সংস্কৃত শব্দ গঠন যায়। যেমন:
উপসর্গ, অর্থ ও গঠিত নতুন শব্দ
১. অতি
বেশি, অস্বাভাবিক, পার হওয়া  : অতিবৃষ্টি, অতিচালাক, অতিভক্তি, অতিক্রম
২. অনু
পেছনে, তুল্য, বারবার, সাথে  : অনুরাগ, অনুবাদ, অনুসরণ, অনুশীলন
৩. অধি   
আধিপত্য, উপরি                : অধিকার, অধিবাসী, অধিষ্ঠান, অধিকার, অধিবাস
৪. অপ
বিপরীত, খারাপ, স্থানান্তর, খুব : অপমান, অপচয়, অপহরণ, অপরূপ
৫. অপি   
যথা, বেশি               : অপিনিহিতি, অপিচ
৬. অব
হীনতা, সাফল্য, নামা, স্বল্পতা,
সম্যকভাবে               : অবজ্ঞা, অবদান, অবতরণ
৭. অভি   
সম্যক, গমন, দিক         : অভিব্যক্তি, অভিজ্ঞ, অভিভূত, অভিযান
৮. আ
পর্যন্ত , সামান্য, বিপরীত  : আমরণ, আসুমদ্র, আভাস, আদান, আগমন
৯. উৎ
ঊর্ধ্বমুখিতা, প্রস্তুতি, অপকর্ষ   : উন্নতি, উত্তোলন, উৎফুল্ল, উৎপাদন, উচ্চারণ
১০. উপ
    সামীপ্য, সদৃশ, ক্ষুদ্র, বিশেষ  : উপকূল, উপবন, উপগ্রহ, উপভোগ, উপহার
১১. দুর/দু/দুঃ
    মন্দ, কষ্টসাধ     : দুঃসাহস, দুঃশাসন, দুঃসপ্ন, দুঃসাধ্য, দুঃসংবাদ,
    দুর-এর জন্য র বা রেফ হয়      দুর্গম, দুর্নাম, দুর্লভ
    আর দূর অর্থ দূরে, এটি উপসর্গ নয়
১২. নি /নিঃ
নিষেধ, নিশ্চয়, আতিশায্য, অভাব : নিবৃত্তি, নিবারণ, নিখুঁত, নিকৃষ্ট, নিঃশ্বাস, নিঃসন্তান, নিঃস্বার্থ
১৩. নির   
অভাব, নিশ্চয়, বাহির বা রেফ হবে : নিরক্ষর, নির্ণয়, নির্ভর, নির্মাণ
১৪. পরা   
আতিশয্য, বিপরীত         : পরায়ণ, পরাশক্ত, পরাজয়, পরাধীন, পরাহত, পরাভব
১৫. পরি   
বিশেষ, শেষ, সম্যক, চারদিক  : পরিপূর্ণ, পরিধান, পরিশ্রম, পরিকল্পনা
১৬. প্র
প্রকৃষ্ট, খ্যাতি, আধিক্য, গতি   : প্রজ্ঞা, প্রবল, প্রসার, প্রচার, প্রবেশ, প্রস্থান
১৭. প্রতি
সদৃশ, বিরোধ, বারবার      : প্রতিধ্বনি, প্রতিবাদ, প্রতিদ্বন্দ্বি, প্রতিদিন, প্রতিদান
১৮. বি
বিশেষ, অভাব, গতি, অপ্রকৃতস্থ : বিশুদ্ধ, বিজ্ঞান, বিবর্ণ, বিশৃঙ্খল, বিফল
১৯. সু
ভাল, সহজ, আতিশয্য       : সুকণ্ঠ, সুনীল, সুগম, সুজন, সুলভ, সুনজর
২০. সম   
সম্মুখ, সামনে, খবর, সমান   : সম্পূর্ণ, সম্মুখ, সংবাদ, সমাদর, সম্মান
দেশি উপসর্গ (২১টি)
দেশি উপসর্গ+দেশি শব্দ = দেশি শব্দ। যেমন: অ, অজ, অঘা, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন, কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা। ২১টি দেশি উপসর্গযোগে নতুন দেশিশব্দ গঠন যায়। যেমন:
উপসর্গ, অর্থ ও গঠিত নতুন শব্দ
১. অ
মন্দ, না, পরিমাণ    : অকেজো, অচেনা, অচিন, অজানা, অঢেল, অফুরন্ত
২. অঘা
বোকা             : অঘারাম, অঘাচণ্ডী, অঘাগুশাই
৩. অজ
     মন্দ              : অজগাঁ, অজপাড়াগাঁ, অজপুকুর
৪. অনা
মন্দ              : অনাবৃষ্টি, অনাচার, অনামুখো
৫. আ
অভাব, বাজে, অশুভ  : আধয়া, আলুনি, আগাছা, আকাল, আকথা
৬. আড়
বাঁকা, অর্ধেক, প্রায়   : আড়চোখে, আড়ভাঙা, আড়কোল
৭. আন
না, কাঁচা, চঞ্চল          : আনাড়ি, আনকোরা, আনচান, আনমনা
৮. আব
     অস্পষ্ট            : আবছায়া, আবডাল
৯. ইতি
আগে, পুরানো       : ইতঃপূর্বে, ইতোমধ্যে, ইতিকথা, ইতিহাস
১০. উন     কম        : উনপাঁজুরে, উনোভাত, উনোন, উনচল্লিশ, উনবিংশ
১১. কদ   
খারাপ, ছোট       : কদাকার, কদবেল
১২. কু
নিন্দনীয়, মন্দ       : কুকাজ, কুকথা, কুনজর, কুচরিত্র
১৩. নি
নাই              : নিখুঁত, নিখোঁজ, নিলাজ, নির্বোধ, নিরেট
১৪. পাতি  
ছোট, ক্ষুদ্র    : পাতিহাঁস, পাতিলেবু, পাতিনেতা
১৫. বি
না, নিন্দা, ভিন্ন : বিকল, বিস্বাদ, বিফল
১৬. ভর   
পরিপূর্ণ      : ভরপেট, ভরদুপুর, ভরপুর, ভররোদ, ভররাত
১৭.রাম
বড়, ছোট, উৎস: রামছাগল, রামধনু, রামবাগুন, রামকলা, রামরাজা
১৮. স
সাথে, উপযুক্ত  : সরব, সজোর, সকাল, সক্ষম, সঠিক, সবল
১৯. সা
অবস্থা, উৎকৃষ্ট : সাবালক, সাজিয়া, সাজোয়ান
২০. সু
ভাল, সৎ     : সুকাজ, সুনজর, সুচরিত্র, সুখবর, সুদিন, সুনাম
২১. হা
অভাব      : হাভাতে, হাহুতাশ, হাপিত্যেশ
বিদেশি উপসর্গ (২১টি)
বিদেশি উপসর্গ +বিদেশি শব্দ =বিদেশি শব্দ। যেমন: ফারসি-কম, কার, খোশ, দর, না, নিম, ফি, ব, বে, বদ, বর। আরবি-আম, খাস, গর, বাজে, লা। ইংরেজি-ফুল, সাব, হাফ, হেড। হিন্দি-হর।
২১টি বিদেশি উপসর্গযোগে নতুন বিদেশি শব্দ গঠন যায়। যেমন:
উপসর্গ, অর্থ ও গঠিত নতুন শব্দ
আরবি
১. আম
     সাধারণ      : আমজনতা, আমদরবার, আমমোক্তার, আমকথা
২. খয়ের   
তোষামদ          : খয়ের খাঁ
৩. খাস   
বিশেষ      : খাসমেহমান, খাসমহল, খাসমসজিদ, খাসকথা
৪. গর
অভাব      : গরমিল, গরহাজির, গররাজি
৫. বাজে   
খারাপ      : বাজেকাজ, বাজেকথা, বাজেখরচ
৬. লা
না         : লাজওয়াব, লাপাত্তা, লাশরিক
ফারসি
৭. কম
স্বল্প        : কমজোর, কমপোখত
৮. কার   
কাজ        : কারখানা, কারসাজি, কারচুপি, কারবার
৯. দর
মধ্যস্থ অধীন   : দরপত্তনি, দরখাস্ত , দরদাম
১০. না
না         : নারাজ, নাচার, নামঞ্জুর, নাখোশ, নালায়েক
১১. খোশ  
ভাল        : খোশমেজাজ, খোশখবর, খোশগল্প, খোশআমদদ
১২. নিম   
অল্প        : নিমরাজি, নিমমোল্লা, নিমকথা
১৩. ফি   
প্রতি        : ফিরোজ, ফিহপ্তা, ফিদিন, ফিমাস, ফিবছর, ফিসন, ফিসাল
১৪. ব
সাথে       : বনাম, বকলম, বমাল
১৫. বর   
বাইরে, মাঝে  : বরখাস্ত , বরদাস্ত , বরখেলাপ, বরবাদ
১৬. বে   
না         : বেআদব, বেআক্কল, বেনামি, বেকারম, বেহায়া, বেতার
১৭. বদ
খারাপ/মন্দ   : বদমেজাজ, বদরাগি, বজ্জাদ, বদহজম, বদমাশ
ইংরেজি
১৮. ফুল   
সম্পূর্ণ       : ফুলহাতা, ফুলশার্ট, ফুলপ্যান্ট, ফুলবাবু, ফুলমোল্লা
১৯. হাফ   
অর্ধেক      : হাফহাতা, হাফশার্ট, হাফপ্যান্ট, হাফস্কুল, হাফটিকিট
২০. সাব   
অধীন       : সাবঅফিস, সাবজজ, সাবইন্সপেক্টর
২১. হেড   
প্রধান       : হেডঅফিস, হেডমাস্টার, হেডমৌলবি
উপসর্গের বৈশিষ্ট্য অথবা উপসর্গের অর্থবাচকতার অর্থদ্যোতকতা
হার শব্দের আগে যথাক্রমে আ, উ, উপ, প্র, পরি, বি, সম (সং) ইত্যাদি উপসর্গ যোগ করে ভিন্নভিন্ন অর্থপূর্ণ শব্দ গঠন করা যায়। নমুনা সরূপ দেখানো যায়-আহার (খাওয়া), উদ্ধার (রক্ষা), উপহার (গিফ্ট), প্রহার (মারা), পরিহার (পরিত্যাগ), বিহার (ভ্রমণ), সংহার (হত্যা) ইত্যাদি। তাহলে উপরের নমুনা থেকে বোঝা যাচ্ছে, উপসর্গের নিজস্ব কোন অর্থ নাই কিন্তু তাদের ক্রিয়া বা নামশব্দের আগে বসে নতুনশব্দ গঠন শব্দের অর্থ পরিবর্তন, সম্প্রসারণ ও সংকোচন করা এবং অর্থের পূর্ণতা দান করার ক্ষমতা আছে। এইজন্য বলা হয়, উপসর্গের অর্থবাচকতা অর্থাৎ নিজস্ব কোন অর্থ নাই কিন্তু অর্থদ্যোতকতা বা নতুনশব্দ গঠন করার ক্ষমতা আছে।

Friday, 18 December 2015

উপসর্গ

উপসর্গ : বাংলা ভাষায় কিছু কিছু অব্যয়সূচক শব্দাংশ বাক্যে পৃথকভাবে স্বাধীন কোনো পদ হিসেবে ব্যবহৃত না হয়ে বিভিন্ন শব্দের শুরুতে আশ্রিত হয়ে ব্যবহৃত হয়। এগুলোকে বলা হয় উপসর্গ। এগুলোর নিজস্ব কোন অর্থ নেই, তবে এগুলো শব্দের পূর্বে ব্যবহৃত হয়ে শব্দের অর্থের পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা সংকোচন সাধন করে।

উপসর্গ কোন শব্দ নয়, শব্দাংশ। এটি শুধুমাত্র শব্দের শুরুতে যোগ হয়। খেয়াল রাখতে হবে, উপসর্গ শুধুমাত্র শব্দেরই আগে বসে, কোন শব্দাংশের আগে বসে না। সুতরাং যে শব্দকে ভাঙলে বা সন্ধিবিচ্ছেদ করলে কোন মৌলিক শব্দ পাওয়া যায় না, তার শুরুতে কোন উপসর্গের মতো শব্দাংশ থাকলেও সেটা উপসর্গ নয়। এক্ষেত্রে নতুন শব্দের সঙ্গে মৌলিক শব্দটির কোন অর্থগত সম্পর্ক নাও থাকতে পারে।

শব্দের শুরুতে যোগ হয়ে এটি- নতুন শব্দ তৈরি করতে পারে, অর্থের সম্প্রসারণ করতে পারে, অর্থের সংকোচন করতে পারে এবং অর্থের পরিবর্তন করতে পারে।

উপসর্গের নিজস্ব অর্থবাচকতা বা অর্থ নেই, কিন্তু অন্য কোন শব্দের আগে বসে নতুন শব্দ তৈরির ক্ষমতা বা অর্থদ্যোতকতা আছে। যেমন, ‘আড়’ একটি উপসর্গ, যার নিজস্ব কোন অর্থ নেই। কিন্তু এটি যখন ‘চোখে’র আগে বসবে তখন একটি নতুন শব্দ ‘আড়চোখে’ তৈরি করে, যার অর্থ বাঁকা চোখে। অর্থাৎ, এখানে আড় উপসর্গটি চোখে শব্দের অর্থের পরিবর্তন করেছে। আবার এটিই ‘পাগলা’র আগে বসে তৈরি করে ‘আড়পাগলা’, যার অর্থ পুরোপুরি নয়, বরং খানিকটা পাগলা। এখানে পাগলা শব্দের অর্থের সংকোচন ঘটেছে। আবার ‘গড়া’ শব্দের আগে বসে তৈরি করে ‘আড়গড়া’ শব্দটি, যার অর্থ আস্তাবল। এখানে আবার শব্দের অর্থ পুরোপুরিই পরিবর্তিত হয়ে গেছে। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে, উপসর্গের নিজস্ব অর্থবাচকতা না থাকলেও তার অর্থদ্যোতকতা আছে। উপসর্গ অন্য কোন শব্দের আগে বসে নতুন শব্দ তৈরি করতে পারে।

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গ মূলত ৩ প্রকার- বাংলা উপসর্গ, তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ ও বিদেশি উপসর্গ।

বাংলা উপসর্গ : বাংলা ভাষায় বাংলা উপসর্গ মোট ২১ টি। বাংলা উপসর্গ সবসময় খাঁটি বাংলা শব্দ বা তদ্ভব শব্দের পূর্বে ব্যবহৃত হয়। বাংলা উপসর্গগুলো হলো-

অঘা
অজ
অনা

আড়
আন
আব
ইতি
ঊন (ঊনা)
কদ
কু
নি
পাতি
বি
ভর
রাম

সা
সু
হা

নিচে বাংলা উপসর্গগুলোর প্রয়োগ দেখানো হলো-

উপসর্গ
অর্থ
উদাহরণ/ প্রয়োগ


নিন্দিত
অকেজো (নিন্দিত কাজ করে যে), অচেনা, অপয়া
অভাব
অচিন (চিন-পরিচয়ের অভাব), অজানা, অথৈ
ক্রমাগত
অঝোর (ক্রমাগতভাবে ঝরতে থাকা), অঝোরে

অঘা
বোকা
অঘারাম, অঘাচন্ডী

অজ
নিতান্ত/ মন্দ
অজপাড়াগাঁ (একেবারে নিতান্তই পাড়াগাঁ), অজমূর্খ, অজপুকুর

অনা
অভাব
অনাবৃষ্টি (বৃষ্টির অভাব), অনাদর
ছাড়া
অনাছিষ্টি (সৃষ্টিছাড়া), অনাচার
অশুভ
অনামুখো (অশুভ, মুখ যার অশুভ)


অভাব
আলুনি (লবনের অভাব), আকাঁড়া, আধোয়া
বাজে, নিকৃষ্ট
আকাঠা, আগাছা

আড়
বক্র/ বাঁকা
আড়চোখে (বাঁকা চোখে), আড়নয়নে
আধা, প্রায়
আড়পাগলা (আধা পাগলা), আড়ক্ষ্যাপা, আড়মোড়া
বিশিষ্ট
আড়গড়া (আস্তাবল), আড়কোলা, আড়কাঠি

আন
না
আনকোরা (যা এখনো কোরা হয়নি, একদম নতুন)
বিক্ষিপ্ত
আনচান, আনমনা (মনের বিক্ষিপ্ত অবস্থা)

আব
অস্পষ্টতা
আবছায়া (অস্পষ্ট ছায়া), আবডাল

ইতি
এ বা এর
ইতিপূর্বে (পূর্বেই) , ইতিকর্তব্য
পুরনো
ইতিকথা (বহু পুরনো কথা), ইতিহাস
১০
ঊন (ঊনা)
কম
ঊনিশ (বিশ হতে ১ ঊন) , ঊনপাঁজুরে
১১
কদ্
নিন্দিত
কদাকার (নিন্দিত/ কুৎসিত আকার) , কদবেল, কদর্য
১২
কু
কুৎসিত/ অপকর্ষ
কুঅভ্যাস (কুৎসিত/ খারাপ অভ্যাস), কুকথা, কুনজর, কুসঙ্গ, কুজন
১৩
নি
নাই/ নেতি
নিখুঁত (খুঁত নেই যার), নিখোঁজ, নিলাজ, নিভাঁজ, নিরেট
১৪
পাতি
ক্ষুদ্র
পাতিহাঁস (ক্ষুদ্র প্রজাতির হাঁস), পাতিশিয়াল, পাতিলেবু, পাতকুয়ো
১৫
বি
ভিন্নতা/ নাই বা নিন্দনীয়
বিপথ (ভিন্ন পথ), বিভূঁই, বিফল
১৬
ভর
পূর্ণতা
ভরপেট (পেটের ভর্তি/ পূর্ণ অবস্থা), ভরসাঁঝ, ভরপুর, ভরদুপুর, ভরসন্ধ্যে
১৭
রাম
বড়/ উৎকৃষ্ট
রামছাগল (বড় বা উৎকৃষ্ট প্রজাতির ছাগল), রামদা, রামশিঙ্গা, রামবোকা
১৮

সঙ্গে
সলাজ (লাজের সঙ্গে), সরব, সঠিক, সজোর, সপাট
১৯
সা
উৎকৃষ্ট
সাজিরা (উৎকৃষ্ট মানের এক প্রকার জিরা), সাজোয়ান
২০
সু
উত্তম
সুদিন (উত্তম দিন), সুনজর, সুখবর, সুনাম, সুকাজ
২১
হা
অভাব
হাভাতে (ভাতের অভাব), হাপিত্যেশ, হাঘরে


তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ : সংস্কৃত ভাষার যে সব শব্দ তৎসম শব্দের মতো অবিকৃত অবস্থায় হুবুহু বাংলা ভাষায় গৃহীত হয়েছে, সেগুলোকে বলা হয় তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ। তৎসম উপসর্গ শুধুমাত্র তৎসম শব্দের আগে বসে। তৎসম উপসর্গ মোট ২০টি-
প্র
পরা
অপ
সম
নি
অনু
অব
নির
দুর
বি
অধি
সু
উৎ
পরি
প্রতি
অতি
অপি
অভি
উপ








নিচে সংস্কৃত উপসর্গগুলোর প্রয়োগ দেখানো হলো-

উপগর্স
অর্থ
উদাহরণ/ প্রয়োগ

প্র
প্রকৃষ্ট/ সম্যক
প্রচলন (প্রকৃষ্ট রূপ চলন/ চলিত যা)প্রভাব, , প্রস্ফুটিত
খ্যাতি
প্রসিদ্ধ, প্রতাপ
আধিক্য
প্রবল (বলের আধিক্য), প্রগাঢ়, প্রচার, প্রসার
গতি
প্রবেশ, প্রস্থান
ধারা-পরম্পরা
প্রপৌত্র, প্রশাখা, প্রশিষ্য

পরা
আতিশয্য
পরাকাষ্ঠা, পরাক্রান্ত, পরায়ণ
বিপরীত
পরাজয়, পরাভব

অপ
বিপরীত
অপমান, অপকার, অপচয়, অপবাদ
নিকৃষ্ট
অপসংস্কৃতি (নিকৃষ্ট সংস্কৃতি), অপকর্ম, অপসৃষ্টি, অপযশ
স্তানান্তর
অপসারণ, অপহরণ, অপনোদন
বিকৃত
অপমৃত্যু
সুন্দর
অপরূপ

সম
সম্যক রূপে
সম্পূর্ণ, সমৃদ্ধ, সমাদর
সম্মুখে
সমাগত, সম্মুখ

নি
নিষেধ
নিবৃত্তি, নিবারণ
নিশ্চয়
নির্ণয়
আতিশয্য
নিদাঘ, নিদারুণ
অভাব
নিষ্কলুষ (কলুষতাহীন), নিষ্কাম

অনু
পশ্চাৎ
অনুশোচনা (পূর্বের কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনা), অনুগামী (পশ্চাদ্ধাবনকারী), অনুজ, অনুচর, অনুতাপ, অনুকরণ
সাদৃশ্য
অনুবাদ, অনুরূপ, অনুকার
পৌনঃপুন্য
অনুশীলন (বারবার করা) , অনুক্ষণ, অনুদিন
সঙ্গে
অনুকূল, অনুকম্পা

অব
হীনতা
অবজ্ঞা, অবমাননা
সম্যক ভাবে
অবরোধ, অবগাহন, অবগত
নিমেণ/ অধোমুখিতা
অবতরণ, অবরোহণ
অল্পতা
অবশেষ, অবসান, অবেলা

নির
অভাব
নিরক্ষর, নির্জীব, নিরহঙ্কার, নিরাশ্রয়, নির্ঘন
নিশ্চয়
নির্ধারণ, নির্ণয়, নির্ভর
বাহির/ বহির্মুখিতা
নির্গত,নিঃসরণ, নির্বাসন

দুর
মন্দ
দুর্ভাগা, দর্দশা, দুর্নাম
কষ্টসাধ্য
দুর্লভ, দুর্গম, দুরতিক্রম্য
১০
অধি
আধিপত্য
অধিকার, অধিপতি, অধিবাসী
উপরি
অধিরোহণ, অধিষ্ঠান
ব্যাপ্তি
অধিকার,অধিবাস, অধিগত
১১
বি
বিশেষ রূপে
বিধৃত, বিশুদ্ধ, বিজ্ঞান, বিবস্ত্র, বিশুষ্ক, বিনির্মাণ
অভাব
বিনিদ্র, বিবর্ণ, বিশৃঙ্খল, বিফল
গতি
বিচরণ, বিক্ষেপ
অপ্রকৃতিস্থ
বিকার, বিপর্যয়
১২
সু
উত্তম
সুকণ্ঠ, সুকৃতি, সুচরিত্র, সুপ্রিয়, সুনীল
সহজ
সুগম, সুসাধ্য, সুলভ
আতিশয্য
সুচতুর, সকঠিন, সুধীর, সুনিপুণ, সুতীক্ষ্ণ
১৩
উৎ
ঊর্ধ্বমুখিতা
উদ্যম, উন্নতি, উৎক্ষিপ্ত, উদগ্রীব, উত্তোলন
আতিশয্য
উচ্ছেদ, উত্তপ্ত, উৎফুলল, উৎসুক, উৎপীড়ন
প্রস্ত্ততি
উৎপাদন, উচ্চারণ
অপকর্ষ
উৎকোচ, উচ্ছৃঙ্খল, উৎকট
১৪
পরি
বিশেষ রূপ
পরিপক্ব, পরিপূর্ণ, পরিবর্তন
শেষ
পরিশেষ
সম্যক রূপে
পরিশ্রান্ত, পরীক্ষা, পরিমাণ
চতুর্দিক
পরিক্রমণ, পরিমন্ডল
১৫
প্রতি
সদৃশ
প্রতিমূর্তি, প্রতিধ্বনি
বিরোধ
প্রতিবাদ, প্রতিদ্বন্দ্বী
পৌনঃপুন্য
প্রতিদিন, প্রতি মাস
অনুরূপ কাজ
প্রতিঘাত, প্রতিদান, প্রত্যুপকার
১৬
অতি
আতিশয্য
অতিকায়, অত্যাচার, অতিশয়
অতিক্রম
অতিমানব, অতিপ্রাকৃত
১৭
অপি

অপিচ
১৮
অভি
সম্যক
অভিব্যক্তি, অভিজ্ঞ, অভিভূত
গমন
অভিযান, অভিসার
সম্মুখ বা দিক
অভিমুখ, অভিবাদন
১৯
উপ
সামীপ্য
উপকূল, উপকণ্ঠ
সদৃশ
উপদ্বীপ, উপবন
ক্ষুদ্র
উপগ্রহ, উপসাগর, উপনেতা
বিশেষ
উপনয়ন (পৈতা), উপভোগ
২০

পর্যন্ত
আকণ্ঠ, আমরণ, আসমুদ্র
ঈষৎ
আরক্ত, আভাস
বিপরীত
আদান, আগমন

বিশেষ দ্রষ্টব্য : আ, সু, বি, নি- এই চারটি উপসর্গ তৎসম ও বাংলা উভয় উপসর্গ হিসেবেই ব্যবহৃত হয়। রূপের বদল না হলেও এই চারটি উপসর্গকে বাংলা উপসর্গ বলার কারণ, তৎসম শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত হলে সেই উপসর্গকে তৎসম উপসর্গ আর তদ্ভব বা খাঁটি বাংলা শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত হলে সেই উপসর্গকে বাংলা উপসর্গ বলা হয়। তাই এই উপসর্গগুলো যখন তদ্ভব শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত হয়, তখন এগুলোকে বলা হয় বাংলা উপসর্গ। আর যখন তৎসম শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত হয়, তখন বলা হয় তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ। যেমন, ‘আলুনি’তে আ বাংলা উপসর্গ, আর ‘আকণ্ঠ’তে আ সংষ্কৃত বা তৎসম উপসর্গ।

বিদেশি উপসর্গ : বিভিন্ন বিদেশি ভাষার সঙ্গে সঙ্গে সে সব ভাষার কিছু কিছু উপসর্গও বাংলা ভাষায় গৃহীত হয়েছে। এই সব বিদেশি ভাষার উপসর্গগুলোই বিদেশি উপসর্গ। তবে এই উপসর্গগুলো বাংলা বা সংস্কৃত উপসর্গের মতো নিয়ম মানে না। এগুলো যে কোন শব্দের সঙ্গেই যুক্ত হতে পারে। বিদেশি উপসর্গের কোন নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই। কারণ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিদেশি শব্দের মতোই নতুন নতুন বিদেশি উপসর্গও বাংলায় গৃহীত হচ্ছে। কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি উপসর্গ নিচে দেয়া হলো-
কার
দর
না
নিম
ফি
বদ
বে
বর

কম
ফারসি উপসর্গ-





ফারসি উপসর্গের প্রয়োগ-

উপসর্গ
অর্থ
উদাহরণ/ প্রয়োগ

কার
কাজ
কারখানা, কারসাজি, কারচুপি, কারবার, কারদানি

দর
মধ্যস্থ, অধীন
দরপত্তনী, দরপাট্টা, দরদালান

না
না
নাচার, নারাজ, নামঞ্জুর, নাখোশ, নালায়েক

নিম
আধা
নিমরাজি, নিমখুন

ফি
প্রতি
ফি-রোজ, ফি-হপ্তা, ফি-বছর, ফি-সন, ফি-মাস

বদ
মন্দ
বদমেজাজ, বদরাগী, বদমাশ, বদহজম, বদনাম

বে
না
বেআদব, বেআক্কেল, বেকসুর, বেকায়দা, বেগতিক, বেতার, বেকার

বর
বাইরে, মধ্যে
বরখাস্ত, বরদাস্ত, বরখেলাপ, বরবাদ


সহিত
বমাল, বনাম, বকলম
১০
কম
স্বল্প
কমজোর, কমবখত

আরবি উপসর্গ-

উপসর্গ
অর্থ
উদাহরণ/ প্রয়োগ

আম
সাধারণ
আমদরবার, আমমোক্তার

খাস
বিশেষ
খাসমহল, খাসখবর, খাসকামরা, খাসদরবার

লা
না
লাজওয়াব, লাখেরাজ, লাওয়ারিশ, লাপাত্তা

গর
অভাব
গরমিল, গরহাজির, গররাজি

ইংরেজি উপসর্গ-

উপসর্গ
অর্থ
উদাহরণ/ প্রয়োগ

ফুল
পূর্ণ
ফুলহাতা, ফুলশার্ট, ফুলবাবু, ফুলপ্যান্ট

হাফ
আধা
হাফহাতা, হাফটিকেট, হাফস্কুল, হাফপ্যান্ট

হেড
প্রধান
হেডমাস্টার, হেডঅফিস, হেডপন্ডিত, হেডমৌলভী

সাব
অধীন
সাব-অফিস, সাব-জজ, সাব-ইন্সপেক্টর

উর্দু- হিন্দি উপসর্গ-
উপসর্গ
অর্থ
উদাহরণ/ প্রয়োগ
হর
প্রত্যেক
হররোজ, হরমাহিনা, হরকিসিম, হরহামেশা, হরেক


ভাষা অনুশীলন; ১ম পত্র

শকুন্তলা
উপর্গযোগে গঠিত শব্দ :
উপসর্গ
শব্দ

অদ্বিতীয়, অনিমিষ
অতি
অতিমাত্র, অতিশয়, অতীত (অতি+ইত), অতিমুক্তলতা
অনু
অনুসন্ধান, অনুষ্ঠান
অব
অবলোকন, অবকাশ, অবতীর্ণ

আদেশ, আকার
নিঃ
নিরপরাধ (নিঃ+অপরাধ), নির্বিঘ্ন (নিঃ+বিঘ্ন), নিঃশঙ্ক
পরি
পরিত্রাণ, পরিণয়, পরিধান, পরিচালিত, পরিহাস, পরিতাপ
প্র
প্রবেশ, প্রবিষ্ট
সম
সমভিব্যাহারে, সম্মুখ, সমাগত, সংযত (সম+যত), সম্বোধন, সন্নিহিত (সম+নিহিত)

একাধিক উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ :
শব্দ
গঠন
শব্দ
গঠন
অনতিবৃহৎ
অন+অতি+বৃহৎ
অনুসন্ধান
অনু+সম+ধান
সমভিব্যাহার
সম+অভি+বি+আ+হার
নিরপাধ
নি+অপ+রাধ
সাতিশয়
স+অতি+শয়
প্রতিসংহার
প্রতি+সম+হার


বঙ্গভাষা

অ, অন- উপসর্গ অন্য শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে শব্দটাকে না-বোধক অর্থ দেয়। যেমন :
উপসর্গ
মূল শব্দ
উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ

বোধ
অবোধ

নিদ্রা
অনিদ্রা

বরেণ্য
অবরেণ্য

জ্ঞান
অজ্ঞান
অন
আহার
অনাহার
অন
আগ্রহ
অনাগ্রহ


আমার পূর্ব বাংলা

অ- উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ
মূল শব্দ
অ-উপসর্গযোগে
তল
অতল
শেষ
অশেষ
ফুরন্ত
অফুরন্ত

অলসতা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিগত বছরের প্রশ্ন
  • কোনটি তৎসম উপসর্গ নয়? (গ-২০০২-০৩)
  •  খাঁটি বাংলা উপসর্গ এর সংখ্যা- (গ-২০০৩-০৪)
  • খাঁটি বাংলা উপসর্গ কোনটি? (গ-২০০৪-০৫)
  •  নিলাজ এর ‘নি’ উপসর্গটি: (গ-২০০৫-০৬)
  • অজ
  • নিচের কোনটি তৎসম উপসর্গ নয়? (গ-২০০৭-০৮)
  • কোন শব্দটি খাঁটি বাংলা উপসর্গ দিয়ে গঠিত হয়েছে? (গ-২০০৭-০৮)
  • ‘হা’ উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়? (গ-২০০৮-০৯)
  • ‘প্রণয়’- কোন উপসর্গ? (গ-২০১০-১১)
  • উপসর্গযুক্ত শব্দ- (ক-২০০৯-১০)
  • ‘নিমরাজি’ শব্দের ‘নিম’ উপসর্গ কী অর্থ নির্দেশ করে? (ক-২০০৭-০৮)
  • কোন শব্দ উপসর্গ সহযোগে গঠিত নয়? (ক-২০০৭-০৮)
  • ‘বেকার’ শব্দের ‘বে’ শব্দাংশকে ব্যাকরণে কী নামে অভিহিত করা হয়? (ক-২০০৬-০৭)
  • উপসর্গজাত শব্দ (ক-২০০৬-০৭)
  • একাধিক উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ কোনটি? (ক-২০০৬-০৭)
  • ‘কদবেল’ শব্দে ‘কদ’ উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে- (ঘ-২০১০-১১)
  • অনতিবৃহৎ নিরপরাধ হরিণ সংহারে নিবৃত্ত হোন।– বাক্যটিতে উপসর্গ আছে- (ঘ-২০১০-১১)
  • কোন শব্দটি উপসর্গ সহযোগে গঠিত নয়- (ঘ-২০০৯-১০)
  • ‘বিনির্মাণ’ শব্দে ‘বি’ উপসর্গটি কী অর্থে প্রযুক্ত হয়েছে? (ঘ-২০০৯-১০)
  • উপসর্গযুক্ত শব্দ  (ঘ-২০০৮-০৯)
  • উপসর্গযুক্ত শব্দ (ঘ-২০০৬-০৭)
  • ‘সমভিব্যাহার’ শব্দে উপসর্গের সংখ্যা (ঘ-২০০৩-০৪)
  • নিচের শব্দগুলির কোনটিতে ‘উপ’ উপসর্গটি ভিন্নার্থে প্রযুক্ত? (ঘ-২০০৩-০৪)
  • ‘অপ’ উপসর্গঘটিত কোন শব্দের অর্থ ইতিবাচক? (ঘ-২০০২-০৩)
  • ‘সমভিব্যাহার’ শব্দের উপসর্গ কয়টি? (ঘ-২০০১-০২)
  • অতি
  • পরি
  • প্রতি
  • উপ
  • ইতি
  • অনা