Showing posts with label বাগধারা. Show all posts
Showing posts with label বাগধারা. Show all posts

Wednesday, 18 May 2016

প্রবাদ-প্রবচন

প্রবাদ-প্রবচন

লোকসাহিত্যের বিভিন্ন শাখা রয়েছে। তার মধ্যে প্রবাদ সমকালকে সবচে বেশি স্পর্শ করে আছে। আধুনিক যুগে সব ধরনের রচনায় প্রবাদ ব্যবহৃত হয়। কবিতা, প্রবন্ধ, উপন্যাস, নাটক, সংবাদপত্র, বিজ্ঞাপন, বক্তৃতা, দৈনন্দিন কথাবার্তা ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্রবাদের ব্যবহার অহরহ লক্ষ্য করা যায়। প্রবাদ লোকসাহিত্য ধারায় ক্ষুদ্রতম রচনা। ‘গরু মেরে জুতা দান’, ‘ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান বানে’, ‘অতি চালাকের গলায় দড়ি/অতি বোকার গায়ে বেড়ি’ ইত্যাদি প্রবাদে দুই শব্দের বাক্য থেকে দুই চরণের বাক্য আছে। প্রবাদ যতোই ক্ষুদ্র হোক না কেন তা পূর্ণাঙ্গ ভাব ও অর্থবহ। প্রবাদ মানুষের সামাজিক বাস্তব অভিজ্ঞতাপ্রসূত এবং মূলত বুদ্ধিপ্রধান রচনা। একটি প্রবাদ মানুষের ব্যবহারিক জ্ঞান, অভিজ্ঞতা বা উপলব্ধি থেকে জন্ম নেয়। ‘অতি সন্যাসীতে গাজন নষ্ট’, ‘চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে’, ‘জোর যার মুলুক তার’, ‘লাগে টাকা, দিবে গৌরীসেন’, ‘কোম্পানির মাল দরিয়া মে ঢাল’, ‘যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে’ ইত্যাদি প্রবাদের আটসাঁট গড়ন, এতে বাড়তি কোন বিষয় নাই। স্বল্প কথায় খুব বেশি অর্থ বহনক্ষমতা। প্রবাদের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হলো বিশেষ উক্তি বা কথন। যে উক্তি লোক পরস্পরায় জনশ্রুতিমূলকভাবে চলে আসছে তাই প্রবাদ। প্রবাদ ভাঙে না বা ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না। ‘ধান ভানতে শিবের গীত’ অথবা ধান ভানতে মহীপালের গীত’ প্রবাদটির মৌলিক কাঠামোর পরিবর্তন হয়নি। ‘শিব’ কৃষিদেবতা, ‘মহীপাল’ বাংলার পাল বংশের একজন শক্তিশালীরাজা। প্রবাদের জন্মতিহাসের দিক থেকে শিব আগে। অতএব এটি মৌলিক প্রবাদ, শিবের স্থলে মহীপাল পরে যুক্ত হয়েছে। সাধারণ কাজে বড় বিষয়ের অবতারণা করলেই প্রবাদ বলা হয়। ‘কোম্পানির মাল দরিয়া মে ঢাল’ অথবা ‘সরকারের মাল দরিয়া মে ঢাল’ প্রবাদে কোম্পানির সরকার শব্দের স্থানবদল হয়েছে। ‘সরকার’ ও ‘দরিয়া’ ফার্সি শব্দ, ‘কোম্পানি’ ইংরেজি শব্দ। ফার্সি ভাষার সঙ্গে বাংলার মানুষের আগে পরিচয় হয়েছে, ইংরেজি ভাষার সঙ্গে পরে পরিচয় হয়েছে। সুতরাং সরকারযুক্ত প্রবাদটি মৌলিক।
জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে তৈরি জনপ্রিয় অর্থবহ উক্তিকে প্রবাদ বলে। ভাষা বিশেষ অর্থে ব্যবহৃত হয় বলে প্রবাদ ভাষাকে সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে তোলে। প্রবাদ বাংলা ভাষার শব্দভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে। Proverb যেমন ইংরেজি ভাষার সম্পদ তেমনি প্রবাদ বাংলা ভাষার সম্পদ। দার্শনিক বেকন প্রবাদের মধ্যে একটি জাতির মেধা, বুদ্ধির চৈতন্যের প্রতিফলন দেখেছেন। তিনি বলেন, the genius, wit and spirit of a nation are discovered by their proverbs। আর্চার টেলর প্রবাদ বিষয়ে সংজ্ঞার্থে বলেছেন- A proverb is aterse did active statement that is currentintradition or as an epigram says, the wisdom of many and the wit of one অর্থাৎ তাঁর মতে, প্রবাদ হলো ঐতিহ্যাশ্রিত নীতিশিক্ষামূলক নিটোল উক্তি। তিনি আরও বলেন, প্রবাদে একের বুদ্ধির বহুর জ্ঞান নিহিত আছে। ডবলিউ সি হ্যাজলিট প্রবাদকে লোকমনে ব্যাপ্ত সত্যের প্রকাশ বলেছেন অলংকার ছন্দের ভাষায় তা ব্যক্ত করা হয়। উপরের সংজ্ঞা থেকে প্রবাদ সম্পর্কে কতকগুলো তথ্য পাওয়া যায়। যেমন: প্রবাদে জাতির ‘দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, ‘পরিণত বুদ্ধি’, নীতিবাক্য’, ‘নৈতিকতার অলিখিত বিধি এবং ‘লোকমনে প্রভাহিত সত্যকথন’ প্রকাশিত হয়। প্রবাদের অবয়ব হলো ‘একটি সংক্ষিপ্ত বাক্য’, ‘স্ফটিকীকৃতরূপ’ ও ‘শব্দগুচ্ছের সমন্বয়’। প্রবাদ ঐতিহ্যাশ্রিত। প্রবাদ উপমা, বক্রোক্তি, বিরোধাভাস, অতিশয়োক্তি অলংকারের ভাষায় প্রকাশিত হয়।

প্রবাদের অর্থগত প্রকরণ
বিভিন্নভাবে প্রবাদের প্রকরণ হতে পারে। যেমন :
১. নীতিকথামূলক      : ধর্মের কল বাতাসে নড়ে, সত্যের জয় হয়।
২. ইতিহাসমূলক কথা    : ধান ভানতে শীবের গীত।
৩. সাধারণ অভিজ্ঞতামূলক   : দশের লাঠি একের বোঝা। চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে।
৪. চরিত্রমূলক         : গায়ে মানে না আপনি মোড়ল।
৫. সমাজমূলক        : মোল্লার দৌড় মসজিদ পর্যন্ত। মরলে শহিদ বাঁচলে গাজি।
৬. কাহিনিমূলক       : অতি লোভে তাঁতি নষ্ট।
৭. সমার্থকমূলক       : কয়লা ধুলে ময়লা যায় না। চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনি।
৮. পরস্পর বিরোধিমূলক : দশে মিলে করি কাজ হারি জিতি নাহি লাজ। অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট।
৯. ক্রিয়াহীন         : আপন ভাল তো জগৎ ভাল।

প্রবাদের বাক্যগত গঠন
১. পূর্ণবাক্য : মরা হাতিও লাখ টাকা। এক হাতে তালি বাজে না। যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধ্যা হয়।
২. খণ্ডবাক্য : ঘরের শত্রু বিভীষণ। মোল্লার দৌড় মসজিদ পর্যন্ত ।
৩. বহুখণ্ডবাক্য : কাজের বেলায় কাজি, কাজ ফুরালে পাজি। অল্প শোকে কাতর, অধিক শোকে পাথর।

বাংলা ভাষায় বহুল প্রচলিত প্রবাদ (প্রবাদ-প্রবচন, অর্থ ও বাক্যরচনা)

১. অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ (ভক্তি শ্রদ্ধার মাত্রা বেশি হলে সন্দেহ জাগে যে এর পেছনে হয়তো স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্য আছে) চেয়ারম্যানের সাগরেদদের দেখলেই বোঝা যায় তাদের মতলব খারাপ-কেনা জানে অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ।
২. অনভ্যাসে বিদ্যা হ্রাস পায় (চর্চাহীন থাকলে অর্জিত জ্ঞানও হ্রাস পায়) কতদিন কবিতা পড়া নাই, আমাকে অনুরোধ কর না জানইত অনভ্যাসে বিদ্যা হ্রাস পায়।
৩. অতি দর্পে হত লংকা (অহংকারের মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে পতন অবশ্যম্ভাবী) ধনের গৌরবে তোমার যেন মাটিতে পা পড়ে না, এ কথাতো জানো অতি দর্পে হত লঙ্কা।
৪. অতি বাড় বেড়ো নাকো ঝড়ে পড়ে যাবে (অহংকার বেশি করতে গেলে পতন অবশ্যম্ভাবী) মামা এসপি হয়েছে বলেই অতি বাড় বেড়ো না একদিন অপরাধী ঠিকই ঝড়ে পড়বে।

৫. আঙুল ফুলে কলা গাছ (সামান্য অবস্থা থেকে হঠাৎ বড়লোক হওয়া) রহমত সরকারি চাকরি পেয়ে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছিল, দুর্নীতির দায়ে এখন তার জায়গায় শ্রী ঘরে।
৬. আঠার মাসে বছর (দীর্ঘসূত্রিতা/কুঁড়ে স্বভাব) কাজটি আমার তাড়াতাড়ি দরকার, তোমাকে দিয়ে হবে না, তোমার তো আঠার মাসে বছর।
৭. আদ্যিকালের বদ্যি বুড়ো (খুব প্রাচীন ব্যক্তি) অল্প বয়সেই বলছ-আদ্যিকালের বদ্যি বুড়ো।
৮. আপন ভালো তো জগৎ ভালো (নিজে ভাল হলে সব ভালো) অচেনা জায়গা বলে ভয় পাবার কিছু নাই, মনে রেখ আপন ভালো তো জগৎ ভালো।
৯. আদার ব্যাপারির জাহাজের খবর (সামান্য কাজের লোক) সামান্য কেরানি হয়ে অফিসের নীতি নির্ধারণী বিষয় নিয়ে মাথা খাটানো আর আদার ব্যাপারির জাহাজের খবর নেয়া সমান কথা।
১০. আমড়া কাঠের ঢেঁকি (অকর্মণ্য) তুমি আস্ত একটা আমড়া কাঠের ঢেঁকি, জগৎ সংসারে কিছুই তোমাকে দিয়ে হবে না।
১১. আপন চেয়ে পর ভালো (অপ্রত্যাশিত কারো সাহায্য লাভ) এই বিপদে স্বজনদের কারো সাহায্যই পাইনি, তুমিই আমাকে উদ্ধার করেছ এখন দেখছি আপন চেয়ে পর ভালো।
১২. আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়া (দুর্লভবস্তু নাগালের মধ্যে পাওয়া) এই দুর্মূল্যের বাজারে টাকা ধার পাওয়া আর আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়া সমান কথা।
১৩. আকাশ থেকে পড়া (অপ্রত্যাশিত) বিশ্বস্থ কর্মচারীর দুর্নীতির কথা জানতে পেরে বড় সাহেব আকাশ থেকে পড়লেন।
১৪. আপনার নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গ (নিজের ক্ষতি করেও অপরের অনিষ্ট করা) বাংলাদেশের রাজনীতিতে শুধু বিরোধীতার স্বার্থে বিরোধীতা এখানে নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গ করার লোকের অভাব নাই।
১৫. আকাশ পাতাল প্রভেদ (প্রচুর ব্যবধান) চৌধুরী বংশ ও সর্দ্দার বংশের মধ্যে আকাশ পাতাল প্রভেদ, ওদের মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্ক গড়ে ওঠা সহজ নয়।
১৬. আপন চরকায় তেল দাও (কেউ অনধিকার চর্চা করলে, তাকে একথা বলে সতর্ক করা হয়) বন্ধুর পারিবারিক সমস্যায় নাক না গলিয়ে নিজের চরকায় তেল দাও।

১৭. ইচ্ছে থাকলে উপায় হয় (উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য ইচ্ছাই যথেষ্ট) পরিবেশ যতই প্রতিকূল হোক না কেন কাজে নেমে পড়, জানতো ইচ্ছে থাকলে উপায় হয়।
১৮. ইটটি মারলে পাটকেলটি খেতে হয় (কারো সঙ্গে দুর্ব্যবহার করলে বিনিময়ে দুর্ব্যবহার পেতে হয়) অন্যকে অপমান করার আগে স্মরণ রেখ ইটটি মারলে পাটকেলটি খেতে হয়।
১৯. ইল্লত যায় না ধুলে, স্বভাব যায় না মলে (যার যা স্বভাব তা সে কিছুতেই ছাড়তে পারে না) সন্ত্রাসীদের বারবার উপদেশ দিয়েও সুপথে আনা গেলো না আসলে ইল্লত যায় না ধুলে, স্বভাব যায় না মলে।
উ/ঊ
২০. উদোর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে (একের দোষ অন্যের ঘাড়ে দেওয়া) যুদ্ধাপরাধীরা যতই উদোর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপাতে চাকনা কেন, জাতি এবার বিচার চায়।
২১. উঠন্তি মূল পত্তনেই চেনা যায় (ভবিষ্যতের আভাস শুরুতেই মেলে) তুমি জীবনে অনেক বড় হতে পারবে, উঠন্তি মূল পত্তনেই চেনা যায়।
২২. উড়ে এসে জুড়ে বসা (যার ন্যায়সঙ্গত কোন দাবি) ভূমিহীনদের বঞ্চিত করে চৌধুরী সাহেব খাস জমিতে উড়ে এসে জুড়ে বসেছেন।
২৩. উন বর্ষায় দুনো শীত (অল্প কাজে অধিক লাভ) শেয়ার বাজারে লগ্নি করে মানুষ হঠাৎ বড়লক হবার স্বপ্ন দেখছে, রখানে উন বর্ষায় দুনো শীত।
২৪. উনা ভাতে দুনা বল (অল্প আহার স্বাস্থ্যসম্মত) স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ হলে জানতে উনা ভাতে দুনা বল।

২৫. এক ঢিলে দুই পাখি মারা (একসঙ্গে দুই কাজ সমাধা করা) বহুদিনের শত্রুতা ভুলে রহিম জোয়ার্দ্দার সর্দ্দার বংশে ছেলের বিয়ে দিয়ে এক ঢিলে দুই পাখি মারার পরিকল্পনা করেছেন।
২৬. এক মাঘে শীত যায় না (বিপদ একবার এসেই শেষ হয় না) আমার এ বিপদে আমাকে একলা ফেলে চলে যেও না, মনে রেখ এক মাঘে শীত যায় না।
২৭. এক হাতে তালি বাজে না (সব দ্বন্দ্বেই দুপক্ষের দায়িত্ব থাকে) নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করে তোমার কোন লাভ নাই আমরা জানি এক হাতে কখনও তালি বাজে না।

২৮. ওস্তাদের মার শেষরাতে (যথার্থ ব্যক্তি শেষ পর্যন্ত সফল হয়) জাহিদ শেষ পর্যন্ত নাটক প্রদর্শনীতে আমাদের গ্রুপের মান রক্ষা করল, আসলে ওস্তাদের মার শেষরাতে একথা মিথ্যা না।

২৯. কষ্ট না করলে কেষ্ট মেলে না (সাফল্যের পেছনে সাধনার প্রয়োজন) ব্যারিস্টার হবে অথচ পরিশ্রম করবে না, তা কি হয়? কষ্ট না করলে কেষ্ট মেলে?
৩০. কয়লা ধুলে ময়লা যায় না (অসৎ লোক সৎ উপদেশেও কাজ হয় না) কাল টাকা সাদা করলেই কি দুর্নীতিবাজ ভালো হয়, আসলে কয়লা ধুলে ময়লা যায় না।
৩১. কত ধানে কত চাল (পরিণাম) কত ধানে কত চাল একথা বুঝে তার পরে কাজে হাত দাও।
৩২. কথায় চিড়ে ভেজে না (বাকচাতুরিতে সব কাজ হাসিল হয় না) সরকারি দপ্তরে এখন আর কথায় চিড়া ভেজে না কাজের অনুমোদন পেতে নগদ অর্থের প্রয়োজন হয়।
৩৩. কারো পোষমাস কারা সর্বনাশ (কারো সুদিন কারো দুর্দিন) চিরদিন কারো কি সমান যায়, কারো পোষমাস কারো সর্বনাশ এতো প্রকৃতিরই নিয়ম।
৩৪. কাঙালের কথা বাসি হলে ফলে (নগণ্য লোকের কথাও শেষ পর্যন্ত ফলতে পারে) আগেই বলছি ওদের মতো দুষ্ট ছেলের সঙ্গে মেলামেশা করো না-মনে রেখ কাঙালের কথা বাসি হলে ফলে।

৩৫. খাল কেটে কুমির আনা (নিজের জন্য বিপদ সৃষ্টি করা) বিশ্বব্যাংকের পরামর্শ মতো চলা আর খাল কেটে কুমির নিয়ে আসা সমান কথা।
৩৬. খোদার মার দুনিয়ার বার (প্রাকৃতিক কারণে যা ঘটে তা রোধ করার শক্তি মানুষের নাই) খোদার মার দুনিয়ার বার তাই ভেবে বসে থাকলে তো আর জগৎ সংসার চলবে না মানুষকে কাজ করে যেতেই হবে।
৩৭. খুঁটির জোরে ভেড়া নাচে (শক্তিমানের সাহায্যে শক্তি বৃদ্ধি হয়) শুধু ছাত্রদের দোষারোপ করলে চলবে না, মুরুব্বিরাজনীতিবিদদের আস্কারাতেই নেতাকর্মীরা শিক্ষাঙ্গণে সন্ত্রাস করতে সাহস পায়, খুঁটির জোরে ভেড়া নাচে।
৩৮. খালিকলসি বেশি শব্দ করে (অন্তঃসারশূন্য) টেলিভিশনের টক শোগুলো দেখলে মনে হয় খালিকলসি শব্দ করে বেশি।
৩৯. খিদে পেলে বাঘেও ধান খায় (প্রয়োজনে মানুষ যেকোনো কাজ করতে বাধ্য হয়)রহিমকে শেষ পর্যন্ত আতাহার সাহেবের কাছেই ধর্না দিতে হলো, খিদে পেলে বাঘেও যে ধান খায়।

৪০. গেঁয়ো যোগী ভিখ পায় না (নিজের দেশে গুণীর কদর নাই) আমাদের দেশে গেঁয়ো যোগী ভিখ পায় না বলেই যোগ্য মানুষ গড়ে ওঠে না।
৪১. গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়ল (গ্রামবাসী না মানলেও নিজেকে কর্তা বলে জাহির করা) কাজ কাম করার নাম নাই গায়ে মানে না আপনি মোড়লের মত দেশ উদ্ধার করতে নেমেছ, তাই না?
৪২. গরু মেরে জুতা দান (নিদারুণ অপমান করে পরে সামান্য উপায়ে তুষ্ট করার চেষ্টা) বড় সাহেবের কাছে কান কথা লাগিয়ে এখন এসেছ সান্তনা দিতে? তোমার গরু মেরে জুতা দানে আমার কোন প্রয়োজন নাই।
৪৩. গাছে তুলে মই কেড়ে নেয়া (আশা দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করা) যৌথ কারবারে টাকা লগ্নি করবে বলেই ব্যবসা শুরু করেছিলাম, গাছে তুলে এখন তুমি মই কেড়ে নিচ্ছ কেন?
৪৪. গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল (ভবিষ্যতের অতিরিক্ত আশা) গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল লাগিয়ে সময় নষ্ট না করে ভর্তি পরীক্ষার জন্য ভালভাবে প্রস্তুতি নাও।
৪৫. গোদের ওপর বিষফোঁড়া (ঝামেলার ওপর আরও ঝামেলা) কলেজে পরীক্ষা অন্যদিকে বউয়ের অসুখ আশরাফ সাহেবের গোদের উপর বিষফোঁড়া ওঠার অবস্থা।

৪৬. ঘুঘু দেখেছ ফাঁদ দেখনি (মন্দ লোককে জব্দ করা) ভেবেছ মোটা অংকের লাভের লোভ দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ করে পালাবে, ঘুঘু দেখছ ঘুঘুর ফাঁদ দেখনি, দেখাচ্ছি মজা।
৪৭. ঘরপোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায় (বিপদের পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকলে অল্পতেই শঙ্কিত হওয়া স্বাভাবিক) একবার প্রতারণার শিকার হয়ে লুৎফর আর এনজিওর কথা শুনতে পারে না, ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায়।
৪৮. ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো (বিনা লাভে কোন কর্ম করা) আমাদের সমাজে ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো লোকের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে।
৪৯. ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস খাওয়া (গুরুজনদের অগ্রাহ্য করে অর্বাচীনদের মাতব্বরি) বিয়ে করতে হলে ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস খাওয়া বাদ দিয়ে তোমার বাবা মাকেই সঙ্গে নিয়ে এসো।
৫০. ঘোমটার নিচে খেমটা নাচ (বাইরে সাধু ভিতরে খল) আদর্শের কথা ভুলে সমাজে এখন অনেকেই ঘোমটার নিচে খেমটা নাচ নাচতে শুরু করেছে।

৫১. চকচক করলেই সোনা হয় না (বাহ্যিক সৌন্দর্যই প্রকৃত পরিচয় নয়) জিন্স সার্ট পরলেই প্রগতিশীল হয় না, মনের খবর নাও, মনে রেখ চকচক করলেই সোনা হয় না।
৫২. চোরে চোরে মাসতুত ভাই (প্রতারকরা পরস্পরকে সমর্থন করে) উপর উপর বিরোধ দেখালে হবে কী আসলে ওরা সবাই চোরে চোরে মাসতুত ভাই।
৫৩. চেনা বামুনের পৈতা লাগে না (যার যোগ্যতা জানা আছে, তার সম্পর্কে সুপারিশ লাগে না) চেনা বামুনের পৈতা লাগে না, তুমি এসেই কাজে যোগ দাও।
৫৪. চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনি (অসৎ ব্যক্তি ভাল উপদেশ গ্রহণ করে না) দুর্নীতিবাজদের কাল টাকা সাদা করতে বলে লাভ কী, চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনি এতো জানা কথা।

৫৫. ছেলের হাতের মোয়া (সহজলভ্য বস্তু) শিক্ষানীতি ছেলের হাতের মোয়া নয়, তার জন্য জাতীয় আদর্শ নির্ধারণ করার প্রয়োজন হয়।
৫৬. ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি (দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির জন্য ব্যাকুলতা) ভর্তি বাণিজ্যের এ যুগে নেতা-পাতিনেতাদের চাপে আশরাফ সাহেব একেবারে কাহিল-তাঁর এখন ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি অবস্থা।
৫৭. ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে লাখ টাকার স্বপ্ন দেখা (অসম্ভব কল্পনা করা) সরকারি চাকরি করে ঢাকা শহরে বাড়ি বানানোর চিন্তা করা আর ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে লাখ টাকার স্বপ্ন দেখা সমান কথা।

৫৮. জলে কুমির ডাঙায় বাঘ (উভয় দিকে বিপদ) একদিকে সন্ত্রাসীদের হুমকি অন্যদিকে পুলিশের নজরদারি আমারতো জলে কুমির ডাঙ্গায় বাঘ অবস্থা।
৫৯. জাতে মাতাল তালে ঠিক (বেহিসেবির মতো দেখালেও প্রকৃতপক্ষে হিসেবি) ছন্নছাড়ার মত জীবন যাপন করলেও রশিদ ঢাকায় ফ্ল্যাট এবং ব্যাংকে মোটা অংকের সঞ্চয় করে রেখেছে। আসলে সে জাতে মাতাল তালে ঠিক।
৬০. জলে বাস করে কুমিরের সঙ্গে বিবাদ (প্রভাবশালী ব্যক্তির অধীনে থেকে তার সঙ্গে বিবাদ) প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করে বসের সঙ্গে পোদ্দারি করা আর জলে বাস করে কুমিরের সঙ্গে বিবাদ করা সমান কথা।
৬১. জ্বলন্ত আগুনে ঘি দেওয়া (উত্তেজনা বৃদ্ধি করা) চাকরি হারিয়ে যারা অনশন করছে তাদের উপর লাঠিচার্য করে পুলিশ জ্বলন্ত আগুনে ঘি ঢেলে দিয়েছে।

৬২. ঝড়ে বক মরে ফকিরের কেরামতি ফলে (কাজ আপনা আপনি হয়ে যায়, চালাক লোক বাহাদুরি নেয়) কার সুপারিশে চাকরি হলো বোঝা দায়, আসলে ঝড়ে বক মরে ফকিরের কেরামতি ফলে।
৬৩. ঝিকে মেরে বউকে শেখানো (ইশারায় তিরস্কার) ঝিকে মেরে বউকে শেখানোর জন্যই প্রধানমন্ত্রী ছাত্রনেতাদের তিরস্কার করলেন, আসলে তাঁর লক্ষ্যই ছিল মন্ত্রীরা।
৬৪. ঝোপ বুঝে কোপ মারা (সুযোগের সদ্ব্যবহার করা) সবাই তোমার মত অথর্ব নয়, ঝোপ বুঝে কোপ মারার লোকের এখন অভাব নাই।


৬৫. টাকায় বাঘের দুধ মেলে (অর্থের জোরে সবকিছু করা যায়) টাকায় এখন বাঘের দুধ মেলে আর তুমি কিনা অফিস ডেকোরেশনের চিন্তায় দিশেহারা হতে বসেছ।

৬৬. ঠেলার নাম বাবাজি (চাপে পড়ে কাবু হওয়া) যত ক্ষমতাধারী স্বৈরাচারীই হোক না কেন জনগণের দাবির কাছে নতি স্বীকার করতেই হবে। যান না যে ঠেলার নাম বাবাজি।

৬৭. ডানায় ভর দিয়ে চলা (শূন্যলোকে ভাসা) পরীক্ষা শেষ করেতো ডানায় ভর দিয়ে চলছ, ভর্তি কর্ম অনুশীলন নিতে হবে সে কথা কী ভুলে গেছ?
৬৮. ডুবে ডুবে জল খাওয়া (গোপনে কাজ করা) ডুবে ডুবে জল খেয়ে যে আমার বিরুদ্ধেই ষড়যন্ত্র করছে একথাতো ঘুর্ণাক্ষরেও জানতে পারেনি।

৬৯. ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে (সবখানে একই কাজ করা) ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে মাস্টারি করি বলে বিয়ে বাড়িতে এসেও অংক কষতে হবে একথা প্রমাণ করার জন্য?
৭০. ঢিলটি মারলে পাটকেলটি খেতে হয় (পরের অনিষ্ট করলে নিজেরও অনিষ্ট হয়) কারো বিরুদ্ধে কুৎসারটানোর আগে ঢিলটি মারলে পাটকেলটি খেতে হয় প্রবাদটি স্মরণে রেখ।
৭১. ঢাল নাই তলোয়ার নাই নিধিরাম সর্দার (শূন্য হাতে বাহাদুরি) বল নাই ব্যাট নাই বাবু চললেন খেলতে, যেন ঢাল নাই তলোয়ার নাই নিধিরাম সর্দ্দার।

৭২. তিলকে তাল করা (সামান্য বিষয়কে বাড়িয়ে গুরুতর করা) দুইবন্ধুর মনোমালিন্য নিয়ে তিলকে তাল না বানিয়ে মিটমাট করে নাও, তাতেই মঙ্গল।
৭৩. তেলা মাথায় তেল দেওয়া (ধনীর খোশামোদ করা) তেলা মাথায় তেল দেওয়া মানুষেরই স্বভাব, চৌধুরী সাহেবের কথা বাদ দিয়ে আমার মত অভাজনের কথা তুমি কেন রাখবে?

৭৪. দশের লাঠি একের বোঝা (দশজনের পক্ষে যা করা সহজ একজনের পক্ষে তা করা অতি কঠিন) দশের লাঠি একের বোঝা এ কথা মনে রেখেই গণ শিক্ষা বিস্তার কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য সবাইকেই এগিয়ে আসতে হবে।
৭৫. দশে মিলে করি কাজ হারি জিতি নাহি লাজ (ঐক্যবদ্ধ হওয়াই আসল কৃতিত্ব) ‘দশে মিলে করি কাজ হারি জিতি নাহি লাজ’ এই মন্ত্রে জেগে ওঠ-এসো আরো একবার রুখে দাঁড়াই অশুভ চক্রের বিরুদ্ধে।
৭৬. দুধ কলা দিয়ে কালসাপ পোষা (শত্রুকে যত্নে লালন পালন করা) যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না করা আর দুধকলা দিয়ে কালসাপ পোষা সমান কথা।
৭৭. দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভাল (দুর্জন সঙ্গীর চেয়ে নিঃসঙ্গ থাকা অধিকতর বাঞ্ছনীয়) অনেক দিনইতো দেখা হলো এবার তোমরা বিদায় হও, আমার জন্য দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়ালই ভাল।
৭৮. দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানো (ভালোর অভাব মন্দ দিয়ে পূরণ) অতিথি শিল্পীর অনুপস্থিতিতে স্থানীয়দের দিয়ে সঙ্গীত পরিবেশন করে আয়োজকেরা দুধের স্বাদ ঘোলে মেটালেন।

৭৯. ধরি মাছ না ছুঁই পানি (দায়িত্ব পালন না করে সুখ ভোগ) বুড়ো বাবার কাঁধে চাপিয়ে আর কত দিন ধরি মাছ না ছুঁই পানি করে সংসার চালাবে, এবার নিজের কাঁধে বোঝা নাও।
৮০. ধর্মের কল বাতাসে নড়ে (সত্য আপনা আপনিই প্রকাশ পায়/ অন্যায়ের শাস্তি দৈবক্রমেই হয়) স্ত্রীকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে শেষ রক্ষা হলো না রহিমের, আসলে ধর্মের কল বাতাসে নড়ে।
৮১. ধরাকে সরা জ্ঞান করা (অহঙ্কারী হওয়া) এখন এমন পাশের ছড়াছড়ি আর তুমি কিনা আই এ পাশ করেই ধরাকে সরা জ্ঞান করতে শুরু করেছ?

৮২. নাচতে না জানলে উঠোন বাঁকা (নিজের অপারগতা অন্যের ওপর চাপানোর চেষ্টা) মামা খালু না থাকলে শুধু যোগ্যতাই চাকরি হয় না একথা বল না, নাচতে না জানলে উঠোন বাঁকা সবাই বলে।
৮৩. নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভাল (একেবারে না থাকার চেয়ে কম থাকা ভাল) অভাবের সংসারে আর কিছু না থাক-মাথা গুজার ঠাঁইটুকুই তো নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভাল।
৮৪. নাকে তেল দিয়ে ঘুমানো (নিশ্চিন্তে দিন কাটানো) প্রতিযোগিতার এ বাজারে নাকে তেল দিয়ে ঘুমানো বাদ দিয়ে নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তোল।
৮৫. নুন আনতে পান্তা ফুরায় (প্রবল দারিদ্র্যের মধ্যে দিন কাটানো) নুন আনতে পান্তা ফুরায়, আমাদের কী বড়লোকি চাল মানায়?

৮৬. পাকা ধানে মই দেওয়া (প্রায় সমাপ্ত কাজ নষ্ট করা) তোমার সম্মতি পেলেই বিয়েটা হয়ে যাবে, তুমি আবার পাকা ধানে মই দিও না।
৮৭. পচা শামুকে পা কাটা (তুচ্ছ কারণে বিপন্ন হওয়া) মৌলবাদিদের কথায় নাটক বন্ধ করব কেন? পচা শামুকে পা কাটলে কি কেউ হাঁটা বন্ধ করে?

৮৮. ফাঁদে পা দেওয়া (চক্রান্ত না বুঝে বিপদে পড়া) বিশ্বাস করে ফাঁদে পা দিয়েছ এখনতো প্রায়শ্চিত্ত করতেই হবে।
৮৯. বানরের গলায় মুক্তোর মালা (অযোগ্য লোককে মূল্যবান বস্তু দান) ওর মতো অসৎ ছেলের সঙ্গে বোনের বিয়ে দেয়া আর বানরের গলায় মুক্তোর মালা দেয়া সমান কথা।
৯০. বামন হয়ে চাঁদে হাত (সাধারণ ব্যক্তির অসাধারণ বস্তু লাভের আশা) টাকার খেলায় নির্বাচনে গরিবের প্রার্থী হতে চাওয়া বামন হয়ে চাঁদে হাত দিতে চাওয়া সমান কথা।

৯১. ভূতের বাপের শ্রাদ্ধ (বাজে কাজে অর্থ ব্যয় করা) তার লেখা পড়ার জন্য টাকা খরচ করা আর ভূতের বাপের শ্রাদ্ধ সমান কথা, তার চেয়ে ভাল এখন থেকেই কোন কাজে লাগিয়ে দাও।
৯২. ভিটেয় ঘুঘু চড়ানো (চরম সর্বনাশ করে দেওয়া) নির্বাচনে জয়ী হয়েই প্রতিশোধ নিতে বিরোধী পক্ষের ভিটেয় ঘুঘু চড়ানোর রেওয়াজ শুরু হয়েছে আমাদের দেশে।

৯৩. মায়ের কাছে মামার বাড়ির গল্প (কোন বিষয়ে অভিজ্ঞ লোককে সে বিষয়ে নতুন করে জানানোর চেষ্টা) দলছুট পান্ডাদের কথা আমাকে আর নতুন করে বলতে হবে না, আমি সবই জানি, মায়ের কাছে মামার বাড়ির গল্প করে কী লাভ?
৯৪. মাথায় আকাশ ভেঙে পড়া (কিংকর্তব্যবিমূঢ় হওয়া) বিদেশে যাওয়ার টাকা ফেরৎ না পেয়ে কুদ্দুসের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল।
৯৫. মেঘে মেঘে বেলা হওয়া (বয়স বেড়ে যাওয়া) মেঘে মেঘে বেলা বেড়ে গেছে এবার সংসারের দায়িত্বটি কাঁধে নাও।

৯৬. যত গর্জে তত বর্ষে না (শূন্য আস্ফালন) বাচাল মানুষকে কেউই সহজে বিশ্বাস করতে চায় না বরং ভাবে যত গর্জে তত বর্ষে না।
৯৭. যত দোষ নন্দ ঘোষ (দুর্বলের ওপর সবকিছুর দোষ চাপানো) অফিসে যাই হোক না কেন সবাইত পিয়নটাকেই সন্দেহ করে যেন যত দোষ নন্দঘোষ।
৯৮. যত বড় মুখ নয় তত বড় কথা (ধৃষ্টতা) হাসিব সাহেব অফিসের পিয়নের যত বড় মুখ নয় তত বড় কথা শুনেরীতিমত বিস্মিত হলেন।
৯৯. যেমন বুনোরল তেমনি বাঘা তেঁতুল (বড় অপরাধীর কঠিন শাস্তিদাতা) যুদ্ধাপরাধীদের প্রতি কোন করুনা নয়, বরং যেমন বুনোরল তেমন বাঘা তেতুল হতে হবে।
১০০. যে সহে সে রহে (ধৈর্যধারণ করে থাকতে পারলে কখনও বিনাশ হয় না) অল্পতে অতিষ্ট হয়ো না, মনে রেখ যে সহে সে রহে।
১০১. যেমন কুকুর তেমন মুগুর (যার যেমন স্বভাব, তাকে সেভাবে শায়েস্তা করা) দুষ্টের দমন করতে যেমন কুকুর তেমন মুগুর না হলে চলে না।

১০২. রতনে রতন চেনে (এক মন্দ ব্যক্তি আরেক ব্যক্তির মন্দত্ব সহজেই বোঝে) আজহারই পারবে ফেরদৌসের কুকীর্তির তথ্য হাজির করতে কারণ রতনে রতন চেনে।
১০৩. লাভের গুড় পিঁপড়েয় খায় (সামান্য লাভ করতে গিয়ে অন্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া) বেশি লোভ করো না, শেষে লাভের গুড় পিঁপড়ে খাবে।

১০৪. শাক দিয়ে মাছ ঢাকা (ব্যর্থ চেষ্টা করা) অপরাধ করে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করো না, তাতে বরং অমঙ্গলই হবে।
১০৫. শাপে বর হওয়া (যা মন্দ ভাবা হয়েছিল আসলে তা ভাল হওয়া) কুৎসা রটিয়ে বিরোধী পক্ষের কোন লাভ হলো না বরং সত্য জেনে এখন আফসার সাহেবকেই সবাই বাহবা দিচ্ছে-একেই বলে শাপে বর হওয়া।
১০৬. শিকারি বেড়াল গোঁফ দেখে চেনা যায় (হাবভাব দেখেই উদ্দেশ্য বোঝা যায়) অভিজ্ঞ মানুষ মানুষ চিনতে ভুল করে না কারণ শিকারি বেড়াল গোঁফ দেখে চেনা যায়।

১০৭. সাবধানের মার নাই (সতর্কতার বিপদ নাই) সাবধানের মার নাই-বাক্যটি প্রবাস জীবনে স্মরণ রেখ।
১০৮. সাতেও নাই পাঁচেও নাই (নিরপেক্ষ) সংসারে সাতেও নাই পাঁচেও নাই এমন মানুষ পাওয়া দুষ্কর।
১০৯. হক কথার মার নাই (সত্য কথা বললে লাভবান হওয়া যায়) আলোকিত মানুষ মাত্রই জানে, হক কথার মার নাই।
১১০. হাতের লক্ষ্মী পায়ে ঠেলা (সুযোগ গ্রহণ না করা) হাতের লক্ষ্মী পায়ে না ঠেলে চাকরিটাই আপাতত যোগদান কর।

প্রাত্যহিক প্রচলিত প্রবাদ প্রবচন প্রহসন - প্রতিকার প্রক্রিয়া

“বাংলা সাহিত্যের এক সমৃদ্ধ শাখা হল প্রবাদ-প্রবচন। প্রবাদ-প্রবচন হল মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতালদ্ধ জ্ঞান বা নানা কাহিনীকে কেন্দ্র করে প্রচলিত অর্থবোধক উক্তি যা হতে পারে উপদেশমূলক, ইঙ্গিতপূর্ণ কিংবা ব্যাঙ্গাত্মক। মূলতঃ অল্প কথায় বিশেষ অর্থ প্রকাশ করাই হল প্রবাদ-প্রবচনের কাজ”। কথাগুলি বেশ চমৎকার হলেও কিছু কিছু প্রবাদ প্রবচন যুগের সাথে সাথে বেশ বিতর্কিতও হয়ে পড়েছে।



যেমন প্রথমেই ধরা যাক “নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভাল” – অর্থাৎ কিছু না থাকার চেয়ে সামান্য কিছু একটা থাকা ভাল। অতি উত্তম কথা। কিন্তু কাউকে এই কথা বললে সে হয়ত আপনাকে অন্য কথা বলবে, “দুষ্ট গরুর চেয়ে শুন্য গোয়াল ভাল” – অর্থাৎ সামান্য কিছু থাকার চেয়ে কিছু না থাকা অনেক ভাল। ফান্দে পরবেন আপনি।



“কানা ছেলের নাম পদ্ম লোচন” – কে যে এই প্রবাদ লিখছে! আমরা আবার তা নিত্যদিন ব্যাবহারও করি! নামের সাথে দেহের প্রতিবন্ধিকতা কিংবা দেহের সৌন্দর্যের কোন মিল আছে? ছেলেটা কানা, কাল, যাই হোক তার নাম পদ্ম লোচন কিংবা শাহারুখ খান হতেই পারে! তাছাড়া পদ্মলোচন একটা নাম হল? আমার নাম পদ্মলোচন রাখলেত মনে হয় আমি যে নাম রাখছে তারে লাঠি লইয়া দৌড়াইতাম।



“আংগুল ফুলে কলাগাছ”। সাধারনত নব ধনীদের উদ্দ্যেশে ব্যাবহার করা হয়। সমালোচকরা কিংবা নিন্দুকেরা এই ধরনের উক্তি করে থাকেন। আমি বুঝি না কেমনে এই উক্তি খাটে! আংগুল ফুলে কলাগাছত দুরে থাক কলার মত মোটাও হয় তাইলে বুঝা যায় কি ব্যাথা। আর কলাগাছ হলেও ... আর কইলাম না।



আরও আছে – “অনুরোধে ঢেকি গেলা” – কোন গাধাও এই শতাব্দিতে ঢেকি গিলবে না। অবশ্য ঢেকি যদি কেউ না দেখে মনে করে থাকে যে এটা আমের আটির মত ছোট জিনিস। আর একটা “ইজ্জত যায় না ধুলে, স্বভাব যায় না মলে”। ইজ্জত কি কাপড়? আর মরলেত সবই শেষ। স্বভাবের প্রশ্ন আসে কোথেকে? “নেই কাজত তো খই ভাজ”। যারা খই ভাজার মত জটিল কাজ দেখেছেন তারা জানেন খৈ ভাজা কতটা কঠিন। একে কোন পন্ডিত সহজ মনে করেন। এটা যদি বলত নেই কাজত খুদ ভাজ তাইলেও বুঝতাম।



খাল কেটে কুমির আনা – অর্থাৎ নিজের বিপদ নিজে ঢেকে আনা। জিয়ার একটি মাত্র ভাল কাজের মধ্যে এটি। প্রতিপক্ষ এই প্রবাদ ব্যাবহার করে তাঁকে পঁচিয়েছে। কিন্তু বুদ্ধিমান মানুষ জানেন কুমির খালে থাকে না বা থাকতে পারে না। গভীর সুন্দর বনেই এর সংখ্যা আশংকা জনক ভাবে হ্রাস পেয়েছে। তাইলে এই প্রবাদ খান অপ্রচল। তাছাড়া যদি কুমির আসেও তাতে বিপদের চেয়ে আপদই বলা যায়। আন্তর্জাতিক বাজারে একটা কুমিরার দাম শুনলে মাথা খারাপ হইয়ে যায়। তাছাড়া কুমিরের লেজের মাংস দিয়ে তৈরী খাবার খেতে আমার অন্তত ১ সপ্তাহ কাজ করা লাগবে।







ইংরাজিতে এই সমস্যা আছে। “slow but steady win the race”. প্রমান হিসাবে খরগোস আর কচ্ছপের কাহিনি তুলে ধরা হয়। কবে কোনদিন এক কচ্ছপ এক খরগোসকে দৌড়ে হারিয়েছিল – সেই থেকে এটা উদাহরন হয়ে গেল। কিন্তু এর পর কত খরগোস যে কত কচ্ছপরে দৌড়ে হারিয়াছে হেইডা কেউ কয় না। কারেক্সনটা হবে – “fast and steady win the race”. আরও একটা আছে – “ants in your pants”. আমি ভেবেছিলাম অস্বস্তিকর। কিন্তু জেনে দেখলাম তার উল্টা। এর মানে নাকি এক্সাইটমেন্ট। কেমনে সম্ভব? পিপড়া পেন্টের মধ্যে ঢুইক্যা কি শুড়শুড়ি দিব না কামড় দিব?



এইবারে কিছু এডিসন



• ইচ্ছা থাকলে উপায় হয় – মামা যদি আমলা হয়।

• কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা – বেলের কাঁটার খোচা যায় না ভোলা।

• কৈয়ের তেলে ভাজব কৈ – আমার এত বুদ্ধি কৈ

• কেঁচো দিয়ে কাতলা ধরা - কাতলা যদি হয় মাথা ফোলা





এইসব প্রবাদকে এক কথায়ও প্রকাশ করা যায়। যেমন –



• পরের ধনে পোদ্দারী, মিয়ার বড় সর্দারী - বাংলাদেশ সরকার

• চোরের মার বড় গলা – খালেদা জিয়া

• চোরের উপর বাটপারি – খাড়া চুইল্লা বাবর

• ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি – র‍্যাব

• জলে কুমির ডাঙায় বাঘ – বিএনপি ও আওয়ামিলিগ

• টাকায় কিনা হয় – বাংলাদেশের আইন ব্যাবস্থা



আমার প্রিয় প্রবাদ প্রবচন "পুকুর চুরি"। ইংরেজ আমলে এক ডিসি বৃটিশ সরকারের কাছে নল কুপের জন্য অর্থ চাহিয়া পত্র দিয়েছে। বৃটিশ সরকার পত্র পাওয়া মাত্র অনুদান বাবদ কিছু টাকা পাঠিয়ে দেয়। ডিসি সেই টাকা মেরে দিয়ে পরের বছর আবার পত্র দেয়। "এলাকাবাসি বিশুদ্ধ পানি খেয়ে সরকারের ধন্য ধন্য করছে। এতে এলাকায় পানিয় জলের চাহিদা বেড়ে গিয়েছে। নলকুপে আর হবে না, এইবার আসল কুয়া খোড়তে হবে। অনুদান প্রয়োজন"। বৃটিশ সরকার এই বারও বেশ বড় অংকের অনুদান দেয়। সেই টাকাও সে নিজের পকেটে ডুকায়। পরের বছর আবার চিঠি লিখে। " এইবার কেবল এলাকাবাসি নয় অত্র অঞ্চলের সবাই তার এলাকা থেকে বিশুদ্ধ পানি নিতে আসে আর সরকারের সাফল্যের গুনগান গায়। তাই এবার কুয়াতে হবে না - পুকুর কাটাতে হবে। অনুদান প্রয়োজন"। চাহিদার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় সরকার বেশ বড় অংকের টাকা অনুদান পাঠায়। এবারও সে টাকা আত্নসাদ করে। পরের বছর ডিসি ট্রান্সফার হয়ে যায়। নতুন ডিসি এসে কাগজ পত্র দেখে আবাক। সরকারকে এই চুরির ঘঠনা জানায়। ঘঠনা তদন্ত করে সরকার একে পুকুর চুরি - অর্থাৎ বড় আকারের চুরি বলে আখ্যা দেয়। সেই থেকে পুকুর চুরি আমাদের বাংলা ভাষায় স্থায়ি আসন গেড়ে বসেন।



বাংলা প্রবাদের এমন হাজারও মজার ঘঠনা থাকতে পারে। কেউ যদি জানেন আমাদের জানান। কিংবা কেউ যদি মনে করেন কোন একটা প্রবাদের কোন মানে হয় না - তাও জানান। রসাত্নক হলে ভাল হয়।

পৌরাণিক বাগধারা

বাগধারা, প্রবাদ ও প্রবচন গুলো দেখুন

বাগধারা, প্রবাদ ও প্রবচন গুলো দেখুন

হৈমন্তী
চাপা দেওয়া- গোপন করা
কানাকানি- গোপন পরামর্শ

কষিয়া- মনোযোগ দিয়ে, উদ্যমের সঙ্গে, ভালোমতো
চোখে আঙুল দিয়ে দেখানো- প্রত্যক্ষ প্রমাণ দিয়ে বুঝিয়ে দেওয়া বা সন্দেহ দূর করা
মন পাওয়া- সম্মতি বা প্রীতি লাভ করা
কানাকানি পড়িয়া যাওয়া- গোপনে নিন্দা রটানো
বাড়ন্ত- বেড়ে উঠেছে এমন
গা টেপাটেপি করা- অন্যকে লুকিয়ে গায়ে হাত দিয়ে কোনো কিছুর প্রতি ইশারা বা ইঙ্গিত করা
ঢাক পেটানো- সগর্বে প্রচার করা
বাজখাঁই- কর্কশ ও উঁচু
মাথা হেঁট হওয়া- অপমানিত বা লজ্জিত হওয়া
আকাশ ভাঙ্গিয়া পড়া- আকস্মিক বিপদে দিশেহারা হয়ে যাওয়া
মাথা খাওয়া- বিগড়ে দেওয়া, সর্বনাশ করা
শিকায় তোলা- স্থগিত রাখা, মুলতবি রাখা
চুলায় দেওয়া- গোল্লায় যেতে দেওয়া
কানায় কানায় ভরিয়া ওঠা- পুরোপুরি ভরা
লজ্জার মাথা খাওয়া- নির্লজ্জের মত আচরণ করা
বুক ফাটিয়া যাওয়া- শোকে হৃদয় বিদীর্ণ হওয়া

সাহিত্যে খেলা

রসাতলে গমন- অধঃপাতে যাওয়া
ডানায় ভর দিয়ে থাকা- শূণ্যলোকে ভাসা
উপরি পাওয়া- বাড়তি আয় উপার্জন
আকাশ-পাতাল প্রভেদ- বিস্তর পার্থক্য
বাজারে কাটা- বিক্রি হওয়া
মতিগতি- ভাবগতিক, মনের ভাব
দা-কুমড়া সম্বন্ধ- নিদারুণ শত্রুতার সম্পর্ক, বৈরী সম্পর্ক
জীবিতপ্রায়
এক করতে আর
অমৃতে অরুচি

বিলাসী

লাভের অঙ্কে শূণ্য- ফলাফল একেবারেই লাভজনক না হওয়া
কাঁটা দেওয়া- বাধা সৃষ্টি করা
বুক ফাটা- হৃদয়বিদারক
রসাতলে যাওয়া- অধঃপাতে যাওয়া
অকালকুষ্মাণ্ড- অকর্মণ্য, অকেজো। পরিবারের অনিষ্টকারী ব্যক্তি
পঞ্চমুখ- প্রশংসামুখর হওয়া
নাছোড়বান্দা- উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য মরিয়া হয়ে পিছু লেগে থাকে এমন লোক
দোহাই মানা- নজির দেখানো
পাথর হয়ে যাওয়া- স্তব্ধ হয়ে পড়া
মাথা হেঁট করা- লজ্জায় বা বিনয়ে মাথা নত করা

কলিমদ্দি দফাদার

পাক ধরা- পেকে ওঠা, চুল দাড়ি ইত্যাদি সাদা হতে শুরু করা
বাড় বাড়া- স্পর্ধা হওয়া
যাচ্ছে তাই- যা ইচ্ছা তাই, অন্যায় বা অসংগত ব্যাপার, বিশ্রী, নিকৃষ্ট
হাওয়া হওয়া- উধাও হওয়া, অদৃশ্য হওয়া
খতরনাক অবস্থা- সংকটজনক অবস্থা
অভাগা যেদিকে যায়/ সাগর শুকিয়ে যায়- মন্দ ভাগ্যের লোক সর্বত্রই নিরাশ হয়
এলোপাথারি- বিশৃঙ্খলভাবে

সৌদামিনী মালো

এক তিল দাঁড়ানো- একটুখানি দাঁড়ানো
মগজ দৌড়ানো- বুদ্ধি শানানো। মস্তিষ্ক চালনা
মোগলের সঙ্গে খানা খাওয়া- বেকায়দায় পড়ে লাঞ্চনা ও অপমান সহ্য করা। তুলনীয় : পড়েছি মোগলের হাতে, খানা খেতে হবে সাথে।
বিলাত ঘুরে মক্কা যাওয়া-
দুষ্ট গরুর চেয়ে শূণ্য গোয়াল ভালো-
The nearest way to poor man’s heart is down their throat.
জান খারাপ-
হাঁক দেওয়া-
পকেট শুকিয়ে যাওয়া-
বাজি মেরে দেওয়া-

[প্রবাদ-প্রবচন : অনেকদিন ধরে লোকমুখে প্রচলিত জনপ্রিয় উক্তি যার মধ্যে সরলভাবে জীবনের কোনো গভীরতর সত্য প্রকাশ পায় সেগুলো প্রবাদ বা প্রবচন নামে অভিহিত হয়ে থাকে। কোনো স্বচ্ছন্দ, আন্তরিক কথাবার্তায় বা বর্ণনায় বক্তব্যকে চমকপ্রদ করে ইঙ্গিতময় করে তোলার ক্ষেত্রে সাধারণত প্রবাদ-প্রবচনের ব্যবহার হয়ে থাকে। নতুন অর্থে এর ব্যবহার হয় না বললেই চলে। যেমন-
পড়েছি মোগলের হাতে, খানা খেতে হবে সাথে।
বিলাত ঘুরে মক্কা যাওয়া
দুষ্ট গরুর চেয়ে শূণ্য গোয়াল ভালো
The nearest way to poor man’s heart is down their throat.

বাগধারা : আক্ষরিক অর্থ ছাপিয়ে যখন কোনো শব্দ বা শব্দগুচ্ছ বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে তখন তাকে বাগধারা বা বিশিষ্টার্থক শব্দ বলে। বাগধারা মূলত কথ্য ভাষার সম্পদ হলেও তা এখন আর কেবল কথ্য ভাষায় সীমাবদ্ধ নেই। সাহিত্যে তার বিচরণ এখন যত্রতত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে। যেমন-
জান খারাপ
হাঁক দেওয়া
পকেট শুকিয়ে যাওয়া
বাজি মেরে দেওয়া]
[প্রবাদ প্রবচন ও বাগধারা; ভাষা অনুশীলন; সৌদামিনী মালো]

একটি তুলসী গাছের কাহিনী


ভদ্রতার বালাই- সাধারণ সৌজন্যবোধ
পৃষ্ঠপ্রদর্শন- পালানো
দিনে দুপুরে ডাকাতি- প্রকাশ্য প্রতারণা ও মিথ্যাচার। ডাকাতির মত। দুঃসাহসিক কাজ।
তুলোধুনো হওয়া- ধুনা তুলোর মতো ছিন্নবিচ্ছিন্ন হওয়া।
কলা দেখানো- (আলংকারিক) ফাঁকি দেওয়া
মগের মুলুক- (আলংকারিক) অরাজক দেশ বা রাজ্য
মুঘলাই কায়দা-
মাথায় খুন চড়া- ভীষণ রেগে যাওয়া
কড়িকাঠ গোনা-
চোখ টেপা- ইশারা করা

জীবন বন্দনা


বিশিষ্টার্থক শব্দ
কূপমণ্ডুক- আভিধানিক অর্থ- কুয়োর ব্যাঙ
আলংকারিক অর্থ- সংকীর্ণমনা ব্যক্তি, বাইরের জগৎ সম্পর্কে জ্ঞান নেই এমন ব্যক্তি


কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাগধারা ও প্রবাদ-প্রবচন


অকাল কুষ্মাণ্ড (অপদার্থ, অকেজো)
অক্কা পাওয়া (মারা যাওয়া)
অগস্ত্য যাত্রা (চির দিনের জন্য প্রস্থান)
অগাধ জলের মাছ (সুচতুর ব্যক্তি)
অর্ধচন্দ্র (গলা ধাক্কা)
অন্ধের যষ্ঠি (একমাত্র অবলম্বন)
অন্ধের নড়ি (একমাত্র অবলম্বন)
অগ্নিশর্মা (নিরতিশয় ক্রুদ্ধ)
অগ্নিপরীক্ষা (কঠিন পরীক্ষা)
অগ্নিশর্মা (ক্ষিপ্ত)
অগাধ জলের মাছ (খুব চালাক)
অতি চালাকের গলায় দড়ি (বেশি চাতুর্যর পরিণাম)
অতি লোভে তাঁতি নষ্ট (লোভে ক্ষতি)
অদৃষ্টের পরিহাস (বিধির বিড়ম্বনা)
অর্ধচন্দ্র দেওয়া (গলা ধাক্কা দিয়ে দেয়া)
অষ্টরম্ভা (ফাঁকি)
অথৈ জলে পড়া (খুব বিপদে পড়া)
অন্ধকারে ঢিল মারা (আন্দাজে কাজ করা)
অমৃতে অরুচি (দামি জিনিসের প্রতি বিতৃষ্ণা)
অন্ধকারে ঢিল মারা (আন্দাজে কাজ করা)
অকূল পাথার (ভীষণ বিপদ)
অনুরোধে ঢেঁকি গেলা (অনুরোধে দুরূহ কাজ সম্পন্ন করতে সম্মতি দেয়া)
অদৃষ্টের পরিহাস (ভাগ্যের নিষ্ঠুরতা)
অল্পবিদ্যা ভয়ংকরী (সামান্য বিদ্যার অহংকার)
অনধিকার চর্চা (সীমার বাইরে পদক্ষেপ)
অরণ্যে রোদন (নিষ্ফল আবেদন)
অহিনকুল সম্বন্ধ (ভীষণ শত্রুতা)
অন্ধকার দেখা (দিশেহারা হয়ে পড়া)
অমাবস্যার চাঁদ (দুর্লভ বস্তু)
আকাশ কুসুম (অসম্ভব কল্পনা)
আকাশ পাতাল (প্রভেদ) (প্রচুর ব্যবধান)
আকাশ থেকে পড়া (অপ্রত্যাশিত)
আকাশের চাঁদ (আকাঙ্ক্ষিত বস্তু)
আগুন নিয়ে খেলা (ভয়ঙ্কর বিপদ)
আগুনে ঘি ঢালা (রাগ বাড়ানো)
আঙুল ফুলে কলাগাছ (অপ্রত্যাশিত ধনলাভ)
আঠার আনা (সমূহ সম্ভাবনা)
আদায় কাঁচকলায় (তিক্ত সম্পর্ক)
আহ্লাদে আটখানা (খুব খুশি)
আক্কেল সেলামি (নির্বুদ্ধিতার দণ্ড)
আঙুল ফুলে কলাগাছ (হঠাৎ বড়লোক)
আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়া (দুর্লভ বস্তু প্রাপ্তি)
আদায় কাঁচকলায় (শত্রুতা)
আদা জল খেয়ে লাগা (প্রাণপণ চেষ্টা করা)
আক্কেল গুড়ুম (হতবুদ্ধি, স্তম্ভিত)
আমড়া কাঠের ঢেঁকি (অপদার্থ)
আকাশ ভেঙে পড়া (ভীষণ বিপদে পড়া)
আমতা আমতা করা (ইতস্তত করা, দ্বিধা করা)
আটকপালে (হতভাগ্য)
আঠার মাসের বছর (দীর্ঘসূত্রিতা)
আলালের ঘরের দুলাল (অতি আদরে নষ্ট পুত্র)
আকাশে তোলা (অতিরিক্ত প্রশংসা করা)
আষাঢ়ে গল্প (আজগুবি কেচ্ছা)
ইঁদুর কপালে (নিতান্ত মন্দভাগ্য)
ইঁচড়ে পাকা (অকালপক্ব)
ইলশে গুঁড়ি (গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি)
ইতর বিশেষ (পার্থক্য)
উত্তম মধ্যম (প্রহার)
উড়নচন্ডী (অমিতব্যয়ী)
উভয় সংকট (দুই দিকেই বিপদ)
উলু বনে মুক্ত ছড়ানো (অপাত্রে/অস্থানে মূল্যবান দ্রব্য প্রদান)
উড়ো চিঠি (বেনামি পত্র)
উড়ে এসে জুড়ে বসা (অনধিকারীর অধিকার)
উজানে কৈ (সহজলভ্য)
উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে (একের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপানো)
ঊনপাঁজুড়ে (অপদার্থ)
ঊনপঞ্চাশ বায়ু (পাগলামি)
এক ক্ষুরে মাথা মুড়ানো (একই স্বভাবের)
এক চোখা (পক্ষপাতিত্ব, পক্ষপাতদুষ্ট)
এক মাঘে শীত যায় না (বিপদ এক বারই আসে না, বার বার আসে)
এলোপাতাড়ি (বিশৃঙ্খলা)
এসপার ওসপার (মীমাংসা)
একাদশে বৃহস্পতি (সৌভাগ্যের বিষয়)
এক বনে দুই বাঘ (প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী)
এক ক্ষুরে মাথা মুড়ানো (একই দলভুক্ত)
এক করতে আর
এলাহি কাণ্ড (বিরাট আয়োজন)
ওজন বুঝে চলা (অবস্থা বুঝে চলা)
ওষুধে ধরা (প্রার্থিত ফল পাওয়া)
কচুকাটা করা (নির্মমভাবে ধ্বংস করা)
কচু পোড়া (অখাদ্য)
কচ্ছপের কামড় (যা সহজে ছাড়ে না)
কলম পেষা (কেরানিগিরি)
কলুর বলদ (এক টানা খাটুনি)
কথার কথা (গুরুত্বহীন কথা)
কাঁঠালের আমসত্ত্ব (অসম্ভব বস্তু)
কাকতাল (আকস্মিক/দৈব যোগাযোগজাত ঘটনা)
কপাল ফেরা (সৌভাগ্য লাভ)
কত ধানে কত চাল (হিসেব করে চলা)
কড়ায় গণ্ডায় (পুরোপুরি)
কান খাড়া করা (মনোযোগী হওয়া)
কানকাটা (নির্লজ্জ)
কান ভাঙানো (কুপরামর্শ দান)
কান ভারি করা (কুপরামর্শ দান)
কাপুড়ে বাবু (বাহ্যিক সাজ)
কেউ কেটা (গণ্যমান্য)
কেঁচে গণ্ডুষ (পুনরায় আরম্ভ)
কেঁচো খুড়তে সাপ (বিপদজনক পরিস্থিতি)
কই মাছের প্রাণ (যা সহজে মরে না)
কুঁড়ের বাদশা (খুব অলস)
কাক ভূষণ্ডী (দীর্ঘজীবী)
কেতা দুরস্ত (পরিপাটি)
কাছা আলগা (অসাবধান)
কাঁচা পয়সা (নগদ উপার্জন)
কাঁঠালের আমসত্ত্ব (অসম্ভব বস্তু)
কূপমণ্ডুক (সীমাবদ্ধ জ্ঞান সম্পন্ন, ঘরকুনো)
কেতা দুরস্ত (পরিপাটি)
কাঠের পুতুল (নির্জীব, অসার)
কথায় চিঁড়ে ভেজা (ফাঁকা বুলিতে কার্যসাধন)
কান পাতলা (সহজেই বিশ্বাসপ্রবণ)
কাছা ঢিলা (অসাবধান)
কুল কাঠের আগুন (তীব্র জ্বালা)
কেঁচো খুড়তে সাপ (সামান্য থেকে অসামান্য পরিস্থিতি)
কেউ কেটা (সামান্য)
কেঁচে গণ্ডুষ (পুনরায় আরম্ভ)
কৈ মাছের প্রাণ (যা সহজে মরে না)
খয়ের খাঁ (চাটুকার)
খণ্ড প্রলয় (ভীষণ ব্যাপার)
খাল কেটে কুমির আনা (বিপদ ডেকে আনা)
গড্ডলিকা প্রবাহ (অন্ধ অনুকরণ)
গদাই লস্করি চাল (অতি ধীর গতি, আলসেমি)
গণেশ উল্টানো (উঠে যাওয়া, ফেল মারা)
গলগ্রহ (পরের বোঝা স্বরূপ থাকা)
গরজ বড় বালাই (প্রয়োজনে গুরুত্ব)
গরমা গরম (টাটকা)
গরিবের ঘোড়া রোগ (অবস্থার অতিরিক্ত অন্যায় ইচ্ছা)
গুর খোঁজা (তন্ন তন্ন করে খোঁজা)
গুরু মেরে জুতা দান (বড় ক্ষতি করে সামান্য ক্ষতিপূরণ)
গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল (প্রাপ্তির আগেই আয়োজন)
গা ঢাকা দেওয়া (আত্মগোপন)
গায়ে কাঁটা দেওয়া (রোমাঞ্চিত হওয়া)
গাছে তুলে মই কাড়া (সাহায্যের আশা দিয়ে সাহায্য না করা)
গায়ে ফুঁ দিয়ে বেড়ানো (কোনো দায়িত্ব গ্রহণ না করা)
গুরু মারা বিদ্যা (যার কাছে শিক্ষা তারই উপর প্রয়োগ)
গোকুলের ষাঁড় (স্বেচ্ছাচারী লোক)
গোঁয়ার গোবিন্দ (নির্বোধ অথচ হঠকারী)
গোল্লায় যাওয়া (নষ্ট হওয়া, অধঃপাতে যাওয়া)
গোবর গণেশ (মূর্খ)
গোলক ধাঁধা (দিশেহারা)
গোঁফ খেজুরে (নিতান্ত অলস)
গোড়ায় গলদ (শুরুতে ভুল)
গৌরচন্দ্রিকা (ভূমিকা)
গৌরীসেনের টাকা (বেহিসাবী অর্থ)
গুড়ে বালি (আশায় নৈরাশ্য)
ঘর ভাঙানো (সংসার বিনষ্ট করা)
ঘাটের মরা (অতি বৃদ্ধ)
ঘোড়া রোগ (সাধ্যের অতিরিক্ত সাধ)
ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস খাওয়া (মধ্যবর্তীকে অতিক্রম করে কাজ করা)
ঘোড়ার ঘাস কাটা (অকাজে সময় নষ্ট করা)
ঘোড়ার ডিম (অবাস্তব)
ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো (নিজ খরচে পরের বেগার খাটা)
ঘাটের মড়া (অতি বৃদ্ধ)
ঘটিরাম (আনাড়ি হাকিম)
চক্ষুদান করা (চুরি করা)
চক্ষুলজ্জা (সংকোচ)
চর্বিত চর্বণ (পুনরাবৃত্তি)
চাঁদের হাট (আনন্দের প্রাচুর্য)
চিনির বলদ (ভারবাহী কিন্তু ফল লাভের অংশীদার নয়)
চোখের বালি (চক্ষুশূল)
চোখের পর্দা (লজ্জা)
চোখ কপালে তোলা (বিস্মিত হওয়া)
চোখ টাটানো (ঈর্ষা করা)
চোখে ধুলো দেওয়া (প্রতারণা করা)
চোখের চামড়া (লজ্জা)
চুনকালি দেওয়া (কলঙ্ক)
চশমখোর (চক্ষুলজ্জাহীন)
চোখের মণি (প্রিয়)
চামচিকের লাথি (নগণ্য ব্যক্তির কটূক্তি)
চিনির পুতুল (শ্রমকাতর)
চুঁনোপুটি (নগণ্য)
চুলোয় যাওয়া (ধ্বংস)
চিনে/ছিনে জোঁক (নাছোড়বান্দা)
ছ কড়া ন কড়া (সস্তা দর)
ছা পোষা (অত্যন্ত গরিব)
ছাই ফেলতে ভাঙা কুলা (সামান্য কাজের জন্য অপদার্থ ব্যক্তি)
ছেলের হাতের মোয়া (সামান্য বস্তু)
ছুঁচো মেরে হাত গন্ধ করা (নগণ্য স্বার্থে দুর্নাম অর্জন)
ছক্কা পাঞ্জা (বড় বড় কথা বলা)
ছিঁচ কাদুনে (অল্পই কাঁদে এমন)
ছিনিমিনি খেলা (নষ্ট করা)
ছেলের হাতের মোয়া (সহজলভ্য বস্তু)
জগাখিচুড়ি পাকানো (গোলমাল বাধানো)
জিলাপির প্যাঁচ (কুটিলতা)
জীবিতপ্রায়
জলে কুমির ডাঙায় বাঘ (উভয় সঙ্কট)
ঝড়ো কাক (বিপর্যস্ত)
ঝাঁকের কৈ (এক দলভুক্ত)
ঝিকে মেরে বউকে বোঝানো (একজনের মাধ্যমে দিয়ে অন্যজনকে শিক্ষাদান)
ঝোপ বুঝে কোপ মারা (সুযোগ মত কাজ করা)
টনক নড়া (চৈতন্যোদয় হওয়া)
টাকার কুমির (ধনী ব্যক্তি)
টেকে গোঁজা (আত্মসাৎ করা)
টুপভুজঙ্গ (নেশায় বিভোর)
ঠাঁট বজায় রাখা (অভাব চাপা রাখা)
ঠোঁট কাটা (বেহায়া)
ঠগ বাছতে গাঁ উজাড় (আদর্শহীনতার প্রাচুর্য)
ঠুঁটো জগন্নাথ (অকর্মণ্য)
ঠেলার নাম বাবাজি (চাপে পড়ে কাবু)
ডুমুরের ফুল (দুর্লভ বস্তু)
ডাকের সুন্দরী (খুবই সুন্দরী)
ডুমুরের ফুল (দুর্লভ)
ডান হাতের ব্যাপার (খাওয়া)
ডামাডোল (গণ্ডগোল)
ঢাক ঢাক গুড় গুড় (গোপন রাখার চেষ্টা)
ঢাকের কাঠি (মোসাহেব, চাটুকার)
ঢাকের বাঁয়া (অপ্রয়োজনীয়)
ঢেঁকির কচকচি (বিরক্তিকর কথা)
ঢি ঢি পড়া (কলঙ্ক প্রচার হওয়া)
ঢিমে তেতালা (মন্থর)
তালকানা (বেতাল হওয়া)
তাসের ঘর (ক্ষণস্থায়ী)
তামার বিষ (অর্থের কু প্রভাব)
তালপাতার সেপাই (ক্ষীণজীবী)
তিলকে তাল করা (বাড়িয়ে বলা)
তুলসী বনের বাঘ (ভণ্ড)
তুলা ধুনা করা (দুর্দশাগ্রস্ত করা)
তুষের আগুন (দীর্ঘস্থায়ী ও দুঃসহ যন্ত্রণা)
তীর্থের কাক (প্রতীক্ষারত)
থ বনে যাওয়া (স্তম্ভিত হওয়া)
থরহরি কম্প (ভীতির আতিশয্যে কাঁপা)
দা-কুমড়া (ভীষণ শত্রুতা)
দহরম মহরম (ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক)
দু মুখো সাপ (দু জনকে দু রকম কথা বলে পরস্পরের মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টিকারী)
দিনকে রাত করা (সত্যকে মিথ্যা করা)
দুধে ভাতে থাকা (খেয়ে-পড়ে সুখে থাকা)
দেঁতো হাসি (কৃত্তিম হাসি)
দাদ নেওয়া (প্রতিশোধ নেয়া)
দুকান কাটা (বেহায়া)
দুধের মাছি (সু সময়ের বন্ধু)
ধরাকে সরা জ্ঞান করা (সকলকে তুচ্ছ ভাবা)
ধড়া-চূড়া (সাজপোশাক)
ধরাকে সরা জ্ঞান করা (অহঙ্কারে সবকিছু তুচ্ছ মনে করা)
ধর্মের ষাঁড় (যথেচ্ছাচারী)
ধর্মের কল বাতাসে নড়ে (সত্য গোপন থাকে না)
ধরি মাছ না ছুঁই পানি (কৌশলে কার্যাদ্ধার)
ননীর পুতুল (শ্রমবিমুখ)
নয় ছয় (অপচয়)
নাটের গুরু (মূল নায়ক)
নাড়ি নক্ষত্র (সব তথ্য)
নিমক হারাম (অকৃতজ্ঞ)
নিমরাজি (প্রায় রাজি)
নামকাটা সেপাই (কর্মচ্যূত ব্যক্তি)
নথ নাড়া (গর্ব করা)
নেই আঁকড়া (একগুঁয়ে)
নগদ নারায়ণ (কাঁচা টাকা/নগদ অর্থ)
নেপোয় মারে দই (ধূর্ত লোকের ফল প্রাপ্তি)
পটল তোলা (মারা যাওয়া)
পগার পার (আয়ত্তের বাইরে পালিয়ে যাওয়া)
পটের বিবি (সুসজ্জিত)
পত্রপাঠ (অবিলম্বে/সঙ্গে সঙ্গে)
পালের গোদা (দলপতি)
পাকা ধানে মই (অনিষ্ট করা)
পাখিপড়া করা (বার বার শেখানো)
পাততাড়ি গুটানো (জিনিসপত্র গোটানো)
পাথরে পাঁচ কিল (সৌভাগ্য)
পুঁটি মাছের প্রাণ (যা সহজে মরে যায়)
পুকুর চুরি (বড় রকমের চুরি)
পুরোনো কাসুন্দি ঘাঁটা (পুরোনো প্রসঙ্গে কটাক্ষ করা)
পোঁ ধরা (অন্যকে দেখে একই কাজ করা)
পোয়া বারো (অতিরিক্ত সৌভাগ্য)
প্রমাদ গোণা (ভীত হওয়া)
পায়াভারি (অহঙ্কার)
পরের মাথায় কাঁঠাল ভাঙা (অপরকে দিয়ে কাজ উদ্ধার)
পরের ধনে পোদ্দারি (অন্যের অর্থের যথেচ্ছ ব্যয়)
ফপর দালালি (অতিরিক্ত চালবাজি)
ফুলবাবু (বিলাসী)
ফেউ লাগা (আঠার মতো লেগে থাকা)
ফুলের ঘাঁয়ে মূর্ছা যাওয়া (অল্পে কাতর)
ফোড়ন দেওয়া (টিপ্পনী কাটা)
বক ধার্মিক (ভণ্ড সাধু)
বইয়ের পোকা (খুব পড়ুয়া)
বগল বাজানো (আনন্দ প্রকাশ করা)
বজ্র আঁটুনি ফসকা গেরো (সহজে খুলে যায় এমন)
বসন্তের কোকিল (সুদিনের বন্ধু)
বিড়াল তপস্বী (ভণ্ড সাধু)
বর্ণচোরা আম (কপট ব্যক্তি)
বরাক্ষরে (অলক্ষুণে)
বাজারে কাটা (বিক্রি হওয়া)
বালির বাঁধ (অস্থায়ী বস্তু)
বাঁ হাতের ব্যাপার (ঘুষ গ্রহণ)
বাঁধা গৎ (নির্দিষ্ট আচরণ)
বাজখাঁই গলা (অত্যন্ত কর্কশ ও উঁচু গলা)
বাড়া ভাতে ছাই (অনিষ্ট করা)
বায়াত্তরে ধরা (বার্ধক্যের কারণে কাণ্ডজ্ঞানহীন)
বিদ্যার জাহাজ (অতিশয় পণ্ডিত)
বিশ বাঁও জলে (সাফল্যের অতীত)
বিনা মেঘে বজ্রপাত (আকস্মিক বিপদ)
বাঘের দুধ/ চোখ (দুঃসাধ্য বস্তু)
বিসমিল্লায় গলদ (শুরুতেই ভুল)
বুদ্ধির ঢেঁকি (নিরেট মূর্খ)
ব্যাঙের আধুলি (সামান্য সম্পদ)
ব্যাঙের সর্দি (অসম্ভব ঘটনা)
ভরাডুবি (সর্বনাশ)
ভস্মে ঘি ঢালা (নিষ্ফল কাজ)
ভাদ্র মাসের তিল (প্রচণ্ড কিল)
ভানুমতীর খেল (অবিশ্বাস্য ব্যাপার)
ভাল্লুকের জ্বর (ক্ষণস্থায়ী জ্বর)
ভাঁড়ে ভবানী (নিঃস্ব অবস্থা)
ভূতের ব্যাগার (অযথা শ্রম)
ভূঁই ফোড় (হঠাৎ গজিয়ে ওঠা)
ভিজে বিড়াল (কপটাচারী)
ভূশন্ডির কাক (দীর্ঘজীবী)
মগের মুল্লুক (অরাজক দেশ)
মণিকাঞ্চন যোগ (উপযুক্ত মিলন)
মন না মতি (অস্থির মানব মন)
মড়াকান্না (উচ্চকণ্ঠে শোক প্রকাশ)
মাছের মায়ের পুত্রশোক (কপট বেদনাবোধ)
মিছরির ছুরি (মুখে মধু অন্তরে বিষ)
মুখ চুন হওয়া (লজ্জায় ম্লান হওয়া)
মুখে দুধের গন্ধ (অতি কম বয়স)
মুস্কিল আসান (নিষ্কৃতি)
মেনি মুখো (লাজুক)
মাকাল ফল (অন্তঃসারশূণ্য)
মশা মারতে কামান দাগা (সামান্য কাজে বিরাট আয়োজন)
মুখে ফুল চন্দন পড়া (শুভ সংবাদের জন্য ধন্যবাদ)
মেছো হাটা (তুচ্ছ বিষয়ে মুখরিত)
যক্ষের ধন (কৃপণের ধন)
যমের অরুচি (যে সহজে মরে না)
রত্নপ্রসবিনী (সুযোগ্য সন্তানের মা)
রাঘব বোয়াল (সর্বগ্রাসী ক্ষমতাবান ব্যক্তি)
রাবণের চিতা (চির অশান্তি)
রাশভারি (গম্ভীর প্রকৃতির)
রাই কুড়িয়ে বেল (ক্ষুদ্র সঞ্চয়ে বৃহৎ)
রাজা উজির মারা (আড়ম্বরপূর্ণ গালগল্প)
রাবণের গুষ্টি (বড় পরিবার)
রায় বাঘিনী (উগ্র স্বভাবের নারী)
রাজ যোটক (উপযুক্ত মিলন)
রাহুর দশা (দুঃসময়)
রুই-কাতলা (পদস্থ বা নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি)
লেফাফা দুরস্ত (বাইরের ঠাট বজার রেখে চলেন যিনি)
লগন চাঁদ (ভাগ্যবান)
ললাটের লিখন (অমোঘ ভাগ্য)
লাল পানি (মদ)
লাল বাতি জ্বালা (দেউলিয়া হওয়া)
লাল হয়ে যাওয়া (ধনশালী হওয়া)
লেজে গোবরে (বিশৃঙ্খলা)
শকুনি মামা (কুটিল ব্যক্তি)
শাঁখের করাত (দুই দিকেই বিপদ)
শাপে বর (অনিষ্টে ইষ্ট লাভ)
শিকায় ওঠা (স্থগিত)
শিঙে ফোঁকা (মরা)
শিবরাত্রির সলতে (একমাত্র সন্তান)
শিরে সংক্রান্তি (বিপদ মাথার ওপর)
শুয়ে শুয়ে লেজ নাড়া (আলস্যে সময় নষ্ট করা)
শরতের শিশির (সুসময়ের বন্ধু)
শত্রুর মুখে ছাই (কুদৃষ্টি এড়ানো)
শ্রীঘর (কারাগার)
ষাঁড়ের গোবর (অযোগ্য)
ষোল আনা (পুরোপুরি)
ঘোল কলা (পুরোপুরি)
সবুরে মেওয়া ফলে (ধৈর্যসুফল মিলে)
সরফরাজি করা (অযোগ্য ব্যক্তির চালাকি)
সাত খুন মাফ (অত্যধিক প্রশ্রয়)
সাত সতের (নানা রকমের)
সাপের ছুঁচো গেলা (অনিচ্ছায় বাধ্য হয়ে কাজ করা)
সেয়ানে সেয়ানে (চালাকে চালাকে)
সবে ধন নীলমণি (একমাত্র অবলম্বন)
সাতেও নয়, পাঁচেও নয় (নির্লিপ্ত)
সাপের পাঁচ পা দেখা (অহঙ্কারী হওয়া)
সোনায় সোহাগা (উপযুক্ত মিলন)
সাক্ষী গোপাল (নিষ্ক্রিয় দর্শক)
সখাত সলিলে (ঘোর বিপদে পড়া)
সব শেয়ালের এক রা (ঐকমত্য)
হাটে হাঁড়ি ভাঙা (গোপন কথা প্রকাশ করা)
হাতটান (চুরির অভ্যাস)
হ য ব র ল (বিশৃঙ্খলা)
হরি ঘোষের গোয়াল (বহু অপদার্থ ব্যক্তির সমাবেশ)
হরিলুট (অপচয়)
হস্তীমূর্খ (বুদ্ধিতে স্থূল)
হাড়ে দুর্বা গজানো (অত্যন্ত অলস হওয়া)
হাতুড়ে বদ্যি (আনাড়ি চিকিৎসক)
হাতের পাঁচ (শেষ সম্বল)
হীরার ধার (অতি তীক্ষ্ণবুদ্ধি)
হোমরা চোমরা (গণ্যমান্য ব্যক্তি)
হিতে বিপরীত (উল্টো ফল)
হাড় হদ্দ (নাড়ি নক্ষত্র/সব তথ্য)
হাড় হাভাতে (হতভাগ্য)
হালে পানি পাওয়া (সুবিধা করা)

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিগত বছরের প্রশ্ন


  • ‘ভেরেণ্ডা ভাজা’ বাগধারাটির অর্থ-  (ঘ-১৯৯৯-৯৮)
  • ‘মুখ তোলা’ বাক্যাংশের বিশিষ্ট অর্থ কি? (ঘ-১৯৯৯-২০০০)
  • ‘পান্তা ভাতে ঘি’ বাগবিধির অর্থ  (ঘ-১৯৯৯-২০০০)
  • ‘মহাভারত অশুদ্ধ হওয়া’ বাগবিধির অর্থ (ঘ-২০০০-০১)
  • কোনটি প্রবচন? (ঘ-২০০০-০১)
  • ‘রত্নপ্রসবিনী’ শব্দের বিশিষ্টার্থ- (ঘ-২০০২-০৩)
  • ‘গরমা-গরম’ এর বিশিষ্টার্থ  ? (ঘ-২০০৪-০৫)
  • ইঁদুর কপালে’ বাগধারাটির অর্থ (ঘ-২০০৫-০৬)
  • ‘নগদ নারায়ণ’ বাগধারাটির অর্থ (ঘ-২০০৬-০৭)
  • ‘টুপভুজঙ্গ’ বাগধারার অর্থ? (ঘ-২০০৮-০৯)
  • কোনটি প্রবাদ? (ঘ-২০০৮-০৯)
  • ‘নেপোয় মারে দই’- বাগবিধিটির অর্থ (ঘ-২০০৯-১০)
  • ‘লম্বা দেয়া’ বাগধারাটির অর্থ- (ঘ-২০১০-১১)
  • ‘কিলিয়ে কাঁঠাল পাকানো’- কী বোঝায়? (ক-২০০৫-০৬)
  • বাজারে কাটা’ বাগধারার অর্থ (ক-২০০৬-০৭)
  • ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’ প্রবাদটির অর্থ- (ক-২০০৬-০৭)
  • ‘ভাঁড়ে ভবানী’ প্রবচনের অর্থ- (ক-২০০৭-০৮)
  • ‘সাক্ষীগোপাল’- এর অর্থ: (গ-২০০৯-১০)
  • ‘হায়রে আমড়া, কেবল আঁটি আর চামড়া’- এ প্রবাদটির অর্থ: (গ-২০০৮-০৯)
  • ‘শিকায় তোলা’ বাগধারাটির অর্থ: (গ-২০০৮-০৯)
  • ‘ঢাক গুড়গুড়’-এর অর্থ: (গ-২০০৫-০৬)
  • ‘হচ্ছে হবে’ অর্থ: (গ-২০০৫-০৬)
  • আক্ষরিক অর্থ ছাপিয়ে যখন কোনো শব্দ বা শব্দগুচ্ছ বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে তখন তাকে আমরা বলি: (গ-২০০৫-০৬)
  • ‘রাবণের চিতা’- এর অর্থ: (গ-২০০৪-০৫)
  • ‘চাঁদের হাট’ অর্থ: (গ-২০০৪-০৫)
  • ‘হটিরাম’ বাগধারাটির অর্থ- (গ-২০০৩-০৪)
  • ‘ডামাডোল’ বাগধারাটির সঠিক অর্থ হচ্ছে (গ-২০০১-০২)
  • ‘বর্ণচোরা’ বাগধারাটির অর্থ হচ্ছে- (গ-২০০১-০২)

বাগধারা

বাগধারা ভাষায় বিশেষ অর্থে ব্যবহৃত হয় বলে বাগধারা ভাষাকে সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে তোলে। বাগধারা বাংলা ভাষার শব্দ ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে। বাগধারার আছে আলাদা প্রকাশভঙ্গি। বাক্যরীতি থেকে বাগভঙ্গি, সব ক্ষেত্রেই এর নিজস্ব শৈলী। যে শব্দ বা শব্দগুচ্ছ দিয়ে বিশেষ অর্থ প্রকাশ পায় তাকে বাগধারা বলে। বাগধারায় এমন একটি শক্তি আছে যা সাধারণ অর্থে বোঝা যাবে না। যেমন: ‘গোবরগণেশ, বিড়ালতপস্বী, গোবরে পদ্মফুল, ঘোড়ার ডিম, কই মাছের প্রাণ। বাগধারা তিন প্রকারে ভাব প্রকাশ করে থাকে। যেমন:
১. বাচ্যার্থ: শব্দের মুখ্য অর্থকে বাচ্যার্থ বলে। যেমন: ঈশ্বর, নদী, চন্দ্র, সূর্য ইত্যাদি।
২. লক্ষ্যার্থ: যখন কোন শব্দ মুখ্য অর্থ ছাড়া অন্য অর্থ প্রকাশ করে তখন তাকে লক্ষ্যার্থ বলে। যেমন: ‘গোপালের লেখাপড়ার গা নাই’। (গাত্র>গা) ‘গা’ শব্দের মুখ্য হলো দেহ’ কিন্তু এখানে বাচ্যার্থে বা মুখ্যার্থে ব্যবহৃত না হয়ে লক্ষ্যার্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এই বাক্যে ‘গা’ শব্দের লক্ষ্যার্থ হলো ‘ইচ্ছা’।
৩. ব্যাঙ্গ্যার্থ: যখন কোনো শব্দ বা শব্দসমষ্টি বাচ্যার্থ বা লক্ষ্যার্থ প্রকাশ না করে অন্য একটি নতুন গভীর ব্যঞ্জনাপূর্ণ অর্থ প্রকাশ করে তখন তাকে ব্যাঙ্গ্যার্থ বলে। যেমন: ‘রমেশ বাবুর ছেলে একটা অকালকুষ্মাণ্ড।’ ‘অকাল-কুষ্মাণ্ডের’ ব্যাঙ্গ্যার্থ হলো ‘অপদার্থ’।
সুতরাং লক্ষ্যার্থ ও ব্যাঙ্গার্থযুক্ত শব্দ বা শব্দসমষ্টি অথবা বাক্যাংশকে বাগধারা বলে।

বাগধারা ও প্রবাদের মধ্যে পার্থক্য দেখাও।
বাগধারা ও প্রবাদের মধ্যে কিছু পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। যেমন :
১. যে শব্দ বা শব্দগুচ্ছ দিয়ে বিশেষ অর্থ প্রকাশ পায় তাকে বাগধারা বলে। আর বিশেষ অর্থে প্রকাশিত উক্তি বা কথনকে প্রবাদ বলে।
২. বাগধারা লোকমুখ হতে সৃষ্টি হয়েছে। আর প্রবাদ চিন্তাশীল ব্যক্তি ও লেখক হতে সৃষ্টি হয়েছে।
৩. বাগধারা জনপ্রিয় বা ছন্দবদ্ধ উক্তি নয়। আর প্রবাদ জনপ্রিয় বা ছন্দবদ্ধ উক্তি।
৪. বাগধারা হলো অলংকারহীন শব্দ বা শব্দগুচ্ছ। আর প্রবাদ হলো অলংকারসমৃদ্ধ সংক্ষিপ্ত বাক্য।
৫. বাগধারায় পুরো বুদ্ধির ছাপ নাই। আর প্রবাদে পুরো বুদ্ধির ছাপ আছে।
৬. বাগধারার অর্থ অতি সহজে বুঝা যায় না তাই এটি একটু জটিল। আর প্রবাদের অর্থ অতি সহজে বুঝা যায় তাই এটি সহজ সরল, ছন্দবদ্ধ, মিলেবদ্ধ, স্পষ্ট হয়।

বাগধারা গঠন
বিভিন্নভাবে বাগধারা গঠিত হতে পারে। যেমন:
১. বিশেষ্য + বিশেষ্য=গোবর গণেশ
২. বিশেষ্য + বিশেষণ=বকধার্মিক
৩. একাধিক বিশেষ্য + বিশেষণ=কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা, এক ঢিলে দুই পাখি মারা
৪. দ্বিত্বক্রিয়া (আ/ই-প্রত্যয় যোগে)=মাখামাখি, নাচানাচি
৫. ক্রিয়া বিশেষণযোগে=গলায় গলায় ভাব

বাগধারার ব্যবহার
বাগধারা     অর্থ             বাক্যরচনা

অ আ ক খ (সাধারণ জ্ঞান)— এ বিষয়ে তার অ আ ক খ জানা নাই।
অক্কা পাওয়া (মারা যাওয়া)— বৃদ্ধ লোকটি বাসের ধাক্কায় অক্কা পেয়েছে।
অকালকুষ্মাণ্ড (অপদার্থ)—ওকে দিয়ে কিছু হবে না, ও অকালকুষ্মাণ্ড।
অন্ধের যষ্ঠি (একমাত্র অবলম্বন)— যে ছিল মায়ের অন্ধের যষ্ঠি সেও অকালে মারা গেলো।
অমাবস্যার চাঁদ (অদৃশ্য)—রহিম ভালো চাকরি পেয়ে একেবারে অমাবস্যার চাঁদ হয়ে গেছে।

আকাশকুসুম (অসম্ভব কল্পনা)— আকাশকুসুম না ভেবে কাজ করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
আকাশ পাতাল (বড় ব্যবধান) — দুই ভায়ের আচরণ কী আকাশ পাতাল ব্যবধান!
আমড়াকাঠের ঢেঁকি (অপদার্থ)— আমড়াকাঠের ঢেঁকিকে দিয়ে কোন কাজে ভালো ফল আশা করা যায় না।
আষাঢ়ে গল্প (আজগুবি গল্প)— আষাঢ়ে গল্প শুনিয়ে কারো কাছ থেকে উপকার পাওয়ার আশা করো না।
আঙুল ফুলে কলাগাছ (হঠাৎ বড়লোক হওয়া)— অসৎ পথেই আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়া যায়।
ই/ঈ
ইঁচড়ে পাকা (অকালে পাকা)— ইঁচড়ে পাকা ছেলেটি বাবা মায়ের কথা শোনে না।
ইলশেগুঁড়ি (গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি)— সকাল থেকেই শুরু হয়েছে ইলশেগুঁড়ি।
ঈদের চাঁদ (অতি আনন্দ)— হারানো ছেলেকে পেয়ে মা যেন ঈদের চাঁদ পেয়েছে।
উ/ঊ
উত্তম-মধ্যম (প্রহার) — পুলিশ চোরটিকে কিছু উত্তম-মধ্যম দিয়ে ছেড়ে দিলো।
উনিশ-বিশ (সামান্য পার্থক্য)— হারজিতটি উনিশ-বিশে হয়েছে।
উঠে পড়ে লাগা (আদার জল খেয়ে লাগা/প্রাণপন চেষ্টা করা)—একবার ফেল করে ছেলেটি পাশের জন্য উঠে পড়ে লেগেছে।
উনপাঁজুরে (হতভাগ্য)— উনপাঁজুরে লোকটির ভাগ্যে সারা জীবনেও সুখ মিলল না।

এলাহিকাণ্ড (বিরাট ব্যাপার)— তার মেয়ে বিয়ে যেন এক এলাহিকাণ্ড।
এক ঢিলে দুই পাখি (এক প্রচেষ্টায় উভয় উদ্দেশ্য সাধন)— চালাক লোকটি এক ঢিলে দুই পাখি মারল।

কলুর বলদ (পরাধীন)— লোকটি সারা জীবন কলুর বলদের মতো খেটে গেলো।
কড়ায় গণ্ডায় (পুরোপুরি)— পাওনা টাকা তার কাছ থেকে কড়ায় গণ্ডায় বুঝে নিবি।
কান খাড়া করা (সতর্ক হওয়া)—রাস্তাঘাটে কান খাড়া করে চলতে হয়।

গোঁফ খেঁজুরে (খুব অলস)— গোঁফ খেঁজুরে লোক দিয়ে দেশের উন্নতি অসম্ভব।
গোবর গণেশ (অপদার্থ/মূর্খ)— গোবর গণেশ দিয়ে কোন কাজে ভালো ফল আশা করা যায় না।
গোড়ায় গলদ (মূলে ভুল)— অংক মিলবে কী করে, এর তো গোড়ায় গলদ আছে।
গুঁড়েবালি (আশায় নৈরাশ্য)— শেষমেষ সব আশাই গুঁড়েবালি হবে।

ঘোড়ার ডিম (মিথ্যা জিনিস/অবাস্তব বস্তু)— এমন লেখাপড়া করলে পরীক্ষায় ঘোড়ার ডিম পাবা।
ঘোড়ার ঘাস কাটা (বাজে কাজ করা)— ঘোড়ার ঘাস কাটো; পরীক্ষায় ভালো করতে পারলে না।

চোখের পর্দা (লজ্জা)— বড় হয়ে কী চোখের পর্দা খেয়েছে?
চোখের মণি (অতি আদরের)— ছেলেটি গরিব মায়ের চোখের মণি।
চোখের বালি (চোখের কাঁটা/চক্ষুশূল)— খারাপ কাজ করে বাবা মায়ের কাছে চোখের বালি হইও না।
চোখ টাটান (হিংসা করা)— অন্যের ভালো দেখে অনেকের চোখ টাটায়।
চোখে সরষে ফুল দেখা/চোখে অন্ধকার দেখা (বিপদ দেখা, হতবুদ্ধি)— সারা বছর না পড়লে চোখে সরষে ফুল /চোখে অন্ধকার দেখতে হয়।
জ/ঝ
জলে কুমির ডাঙায় বাঘ (দুদিকেই বিপদ/উভয় সংকট) — জলে কুমির ডাঙায় বাঘ নিয়ে বাঁচা কষ্টকর।
জিলাপির প্যাঁচ (খারাপ বুদ্ধি)— জিলাপির প্যাঁচ দিয়েও লোকটি বাঁচতে পারল না।
ঝোপ বুঝে কোপ মারা (অবস্থা বুঝে সুযোগ গ্রহণ) — ছেলেটি ঝোপ বুঝে কোপ মেরেই সফল হয়েছে।
ট/ঠ
টনক নড়া (সজাগ হওয়া)— এবার ফেল করে ছেলেটির টনক নড়েছে।
টাকার গরম (অহংকার করা)— টাকার গরম বেশি দিন টেকে না।
টাকার কুমির (বড়লোক)— লোকটি টাকার কুমির কিন্তু হাড়কিপটে।
ঠোঁটকাটা (স্পষ্টবাদী)— সবসময় ঠোঁটকাটা হলে চলে না।

তাসের ঘর (ক্ষণস্থায়ী)— জীবনটি তাসের ঘর তাই সৎ হয়ে চলাই উচিত।
তিলকে তাল করা (ছোটকে বড় করা)— ঘটকরা সবসময় তিলকে তাল করে।
তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠা (রেগে যাওয়া)—রগচটা লোকরা সবসময় তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠে।
তালপাতার সেপাই (ছোটতে বড় শক্তি)— লোকটি ছোট হলে কী হবে একেবারে তালপাতার সেপাই।
তুষের আগুন (গোপন কষ্ট) —অন্যের ক্ষতি করলে তুষের আগুনে জ্বলতে হয়।
তেলে মাথায় তেল দেয়া (যার আছে তাকে আরো দেয়া) —সবাই তেলে মাথায় তেল দেয়।
দ/ধ/ন
দুধে মাছি (সুসময়ে বন্ধু/বসন্তের কোকিল)— দুধে মাছির মতো বন্ধু হইও না।
দুমোখো সাপ (এক মুখে দুরকম কথা)— দুমুখো সাপকে কেউ পছন্দ করে না।
দুধ কলা দিয়ে সাপ পোষা (যত্নে শত্রু পালা)— দুধ কলা দিয়ে সাপ পুষে লোকটি নিজের ক্ষতি করল।
দশের লাঠি একের বোঝা (সকলে যেটি সহজে করা যায়, একের পক্ষে সেটি বোঝা)— দশে মিলে করি কাজ হারি জিতি নাহি লাজ।
ধামা ধরা (তোষামদী করা)— টাকা থাকলে সবাই ধামা ধরে।
নাকে খৎ (প্রায়শ্চিত্ত করা)— ছেলেটিকে নাকে খৎ দিয়ে ছেড়ে দেয়া হলো।
ননীর পুতুল ((শ্রমবিমুখ/নরম স্বভাবের)— ননীর পুতুলকে দিয়ে কঠিন কাজ হবে না।
নাকে তেল দিয়ে ঘুমানো (নিশ্চিন্ত থাকা)— নাকে তেল দিয়ে ঘুমালে পরীক্ষা ভালো হবে?

পটল তোলা (অক্কা পাওয়া/মরে যাওয়া)— বাসের ধাক্কায় সে পটল তুলেছে।
পাকা ধানে মই দেয়া (প্রায় সফল কাজ নষ্ট করা)— পাকা ধানে মই দেয়ার মতো বড় ক্ষতি আর নাই।
পুকুর চুরি (বড় চুরি)— পরীক্ষায় নকল করাও পুকুর চুরি।
পুঁটি মাছের প্রাণ (ক্ষণস্থায়ী)— পুঁটি মাছের প্রাণ নিয়ে বড় কাজ সমাধান করা যাবে না।
ব/ভ
বইয়ের পোকা (খুব বই পড়ায় অভ্যস্ত ব্যক্তি)— আমার মা বইয়ের পোকা।
ব্যাঙের সর্দি (অসম্ভব ব্যাপার)— কৃষকের কষ্ট আর ব্যাঙের সর্দি একই কথা।
বুকের পাটা (দুঃসাহস)— বুকের পাটা থাকে তো কাজটি করে দেখাও।
ভেজা বেড়াল (কপট ব্যক্তি)— লোকটি দেখতে শান্ত হলেও আসলে ভেজা বেড়াল।

মগের মুল্লুক (অরাজকতা)— দেশটি কী মগের মুল্লুক যে যা ইচ্ছা তাই করবে।
মাটির মানুষ (নিরীহ)— আমার মা মাটির মানুষ।
মানিকজোড় (অন্তরঙ্গ ভাব)— মানিকজোড় বলেই তাদের গলায় গলায় ভাব।

হ-য-ব-র-ল (বিশৃংখল)— ভালো ছাত্ররা টেবিলে বই হ-য-ব-র-ল করে রাখে না।
হাতেখড়ি (শুরু/আরম্ভ)— শিশুর লেখা পড়ার হাতেখড়ি মাই দিয়ে থাকেন।
হাতে কলমে (প্রত্যক্ষভাবে)— হাতে কলমে শিক্ষা দেয়াই প্রকৃত শিক্ষা দেয়া।
হাত টান (চুরির অভ্যাস)— লোকটির হাত টানের অভ্যাস আছে।