Wednesday, 18 May 2016

প্রাত্যহিক প্রচলিত প্রবাদ প্রবচন প্রহসন - প্রতিকার প্রক্রিয়া

“বাংলা সাহিত্যের এক সমৃদ্ধ শাখা হল প্রবাদ-প্রবচন। প্রবাদ-প্রবচন হল মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতালদ্ধ জ্ঞান বা নানা কাহিনীকে কেন্দ্র করে প্রচলিত অর্থবোধক উক্তি যা হতে পারে উপদেশমূলক, ইঙ্গিতপূর্ণ কিংবা ব্যাঙ্গাত্মক। মূলতঃ অল্প কথায় বিশেষ অর্থ প্রকাশ করাই হল প্রবাদ-প্রবচনের কাজ”। কথাগুলি বেশ চমৎকার হলেও কিছু কিছু প্রবাদ প্রবচন যুগের সাথে সাথে বেশ বিতর্কিতও হয়ে পড়েছে।



যেমন প্রথমেই ধরা যাক “নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভাল” – অর্থাৎ কিছু না থাকার চেয়ে সামান্য কিছু একটা থাকা ভাল। অতি উত্তম কথা। কিন্তু কাউকে এই কথা বললে সে হয়ত আপনাকে অন্য কথা বলবে, “দুষ্ট গরুর চেয়ে শুন্য গোয়াল ভাল” – অর্থাৎ সামান্য কিছু থাকার চেয়ে কিছু না থাকা অনেক ভাল। ফান্দে পরবেন আপনি।



“কানা ছেলের নাম পদ্ম লোচন” – কে যে এই প্রবাদ লিখছে! আমরা আবার তা নিত্যদিন ব্যাবহারও করি! নামের সাথে দেহের প্রতিবন্ধিকতা কিংবা দেহের সৌন্দর্যের কোন মিল আছে? ছেলেটা কানা, কাল, যাই হোক তার নাম পদ্ম লোচন কিংবা শাহারুখ খান হতেই পারে! তাছাড়া পদ্মলোচন একটা নাম হল? আমার নাম পদ্মলোচন রাখলেত মনে হয় আমি যে নাম রাখছে তারে লাঠি লইয়া দৌড়াইতাম।



“আংগুল ফুলে কলাগাছ”। সাধারনত নব ধনীদের উদ্দ্যেশে ব্যাবহার করা হয়। সমালোচকরা কিংবা নিন্দুকেরা এই ধরনের উক্তি করে থাকেন। আমি বুঝি না কেমনে এই উক্তি খাটে! আংগুল ফুলে কলাগাছত দুরে থাক কলার মত মোটাও হয় তাইলে বুঝা যায় কি ব্যাথা। আর কলাগাছ হলেও ... আর কইলাম না।



আরও আছে – “অনুরোধে ঢেকি গেলা” – কোন গাধাও এই শতাব্দিতে ঢেকি গিলবে না। অবশ্য ঢেকি যদি কেউ না দেখে মনে করে থাকে যে এটা আমের আটির মত ছোট জিনিস। আর একটা “ইজ্জত যায় না ধুলে, স্বভাব যায় না মলে”। ইজ্জত কি কাপড়? আর মরলেত সবই শেষ। স্বভাবের প্রশ্ন আসে কোথেকে? “নেই কাজত তো খই ভাজ”। যারা খই ভাজার মত জটিল কাজ দেখেছেন তারা জানেন খৈ ভাজা কতটা কঠিন। একে কোন পন্ডিত সহজ মনে করেন। এটা যদি বলত নেই কাজত খুদ ভাজ তাইলেও বুঝতাম।



খাল কেটে কুমির আনা – অর্থাৎ নিজের বিপদ নিজে ঢেকে আনা। জিয়ার একটি মাত্র ভাল কাজের মধ্যে এটি। প্রতিপক্ষ এই প্রবাদ ব্যাবহার করে তাঁকে পঁচিয়েছে। কিন্তু বুদ্ধিমান মানুষ জানেন কুমির খালে থাকে না বা থাকতে পারে না। গভীর সুন্দর বনেই এর সংখ্যা আশংকা জনক ভাবে হ্রাস পেয়েছে। তাইলে এই প্রবাদ খান অপ্রচল। তাছাড়া যদি কুমির আসেও তাতে বিপদের চেয়ে আপদই বলা যায়। আন্তর্জাতিক বাজারে একটা কুমিরার দাম শুনলে মাথা খারাপ হইয়ে যায়। তাছাড়া কুমিরের লেজের মাংস দিয়ে তৈরী খাবার খেতে আমার অন্তত ১ সপ্তাহ কাজ করা লাগবে।







ইংরাজিতে এই সমস্যা আছে। “slow but steady win the race”. প্রমান হিসাবে খরগোস আর কচ্ছপের কাহিনি তুলে ধরা হয়। কবে কোনদিন এক কচ্ছপ এক খরগোসকে দৌড়ে হারিয়েছিল – সেই থেকে এটা উদাহরন হয়ে গেল। কিন্তু এর পর কত খরগোস যে কত কচ্ছপরে দৌড়ে হারিয়াছে হেইডা কেউ কয় না। কারেক্সনটা হবে – “fast and steady win the race”. আরও একটা আছে – “ants in your pants”. আমি ভেবেছিলাম অস্বস্তিকর। কিন্তু জেনে দেখলাম তার উল্টা। এর মানে নাকি এক্সাইটমেন্ট। কেমনে সম্ভব? পিপড়া পেন্টের মধ্যে ঢুইক্যা কি শুড়শুড়ি দিব না কামড় দিব?



এইবারে কিছু এডিসন



• ইচ্ছা থাকলে উপায় হয় – মামা যদি আমলা হয়।

• কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা – বেলের কাঁটার খোচা যায় না ভোলা।

• কৈয়ের তেলে ভাজব কৈ – আমার এত বুদ্ধি কৈ

• কেঁচো দিয়ে কাতলা ধরা - কাতলা যদি হয় মাথা ফোলা





এইসব প্রবাদকে এক কথায়ও প্রকাশ করা যায়। যেমন –



• পরের ধনে পোদ্দারী, মিয়ার বড় সর্দারী - বাংলাদেশ সরকার

• চোরের মার বড় গলা – খালেদা জিয়া

• চোরের উপর বাটপারি – খাড়া চুইল্লা বাবর

• ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি – র‍্যাব

• জলে কুমির ডাঙায় বাঘ – বিএনপি ও আওয়ামিলিগ

• টাকায় কিনা হয় – বাংলাদেশের আইন ব্যাবস্থা



আমার প্রিয় প্রবাদ প্রবচন "পুকুর চুরি"। ইংরেজ আমলে এক ডিসি বৃটিশ সরকারের কাছে নল কুপের জন্য অর্থ চাহিয়া পত্র দিয়েছে। বৃটিশ সরকার পত্র পাওয়া মাত্র অনুদান বাবদ কিছু টাকা পাঠিয়ে দেয়। ডিসি সেই টাকা মেরে দিয়ে পরের বছর আবার পত্র দেয়। "এলাকাবাসি বিশুদ্ধ পানি খেয়ে সরকারের ধন্য ধন্য করছে। এতে এলাকায় পানিয় জলের চাহিদা বেড়ে গিয়েছে। নলকুপে আর হবে না, এইবার আসল কুয়া খোড়তে হবে। অনুদান প্রয়োজন"। বৃটিশ সরকার এই বারও বেশ বড় অংকের অনুদান দেয়। সেই টাকাও সে নিজের পকেটে ডুকায়। পরের বছর আবার চিঠি লিখে। " এইবার কেবল এলাকাবাসি নয় অত্র অঞ্চলের সবাই তার এলাকা থেকে বিশুদ্ধ পানি নিতে আসে আর সরকারের সাফল্যের গুনগান গায়। তাই এবার কুয়াতে হবে না - পুকুর কাটাতে হবে। অনুদান প্রয়োজন"। চাহিদার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় সরকার বেশ বড় অংকের টাকা অনুদান পাঠায়। এবারও সে টাকা আত্নসাদ করে। পরের বছর ডিসি ট্রান্সফার হয়ে যায়। নতুন ডিসি এসে কাগজ পত্র দেখে আবাক। সরকারকে এই চুরির ঘঠনা জানায়। ঘঠনা তদন্ত করে সরকার একে পুকুর চুরি - অর্থাৎ বড় আকারের চুরি বলে আখ্যা দেয়। সেই থেকে পুকুর চুরি আমাদের বাংলা ভাষায় স্থায়ি আসন গেড়ে বসেন।



বাংলা প্রবাদের এমন হাজারও মজার ঘঠনা থাকতে পারে। কেউ যদি জানেন আমাদের জানান। কিংবা কেউ যদি মনে করেন কোন একটা প্রবাদের কোন মানে হয় না - তাও জানান। রসাত্নক হলে ভাল হয়।

পৌরাণিক বাগধারা

বাগধারা, প্রবাদ ও প্রবচন গুলো দেখুন

বাগধারা, প্রবাদ ও প্রবচন গুলো দেখুন

হৈমন্তী
চাপা দেওয়া- গোপন করা
কানাকানি- গোপন পরামর্শ

কষিয়া- মনোযোগ দিয়ে, উদ্যমের সঙ্গে, ভালোমতো
চোখে আঙুল দিয়ে দেখানো- প্রত্যক্ষ প্রমাণ দিয়ে বুঝিয়ে দেওয়া বা সন্দেহ দূর করা
মন পাওয়া- সম্মতি বা প্রীতি লাভ করা
কানাকানি পড়িয়া যাওয়া- গোপনে নিন্দা রটানো
বাড়ন্ত- বেড়ে উঠেছে এমন
গা টেপাটেপি করা- অন্যকে লুকিয়ে গায়ে হাত দিয়ে কোনো কিছুর প্রতি ইশারা বা ইঙ্গিত করা
ঢাক পেটানো- সগর্বে প্রচার করা
বাজখাঁই- কর্কশ ও উঁচু
মাথা হেঁট হওয়া- অপমানিত বা লজ্জিত হওয়া
আকাশ ভাঙ্গিয়া পড়া- আকস্মিক বিপদে দিশেহারা হয়ে যাওয়া
মাথা খাওয়া- বিগড়ে দেওয়া, সর্বনাশ করা
শিকায় তোলা- স্থগিত রাখা, মুলতবি রাখা
চুলায় দেওয়া- গোল্লায় যেতে দেওয়া
কানায় কানায় ভরিয়া ওঠা- পুরোপুরি ভরা
লজ্জার মাথা খাওয়া- নির্লজ্জের মত আচরণ করা
বুক ফাটিয়া যাওয়া- শোকে হৃদয় বিদীর্ণ হওয়া

সাহিত্যে খেলা

রসাতলে গমন- অধঃপাতে যাওয়া
ডানায় ভর দিয়ে থাকা- শূণ্যলোকে ভাসা
উপরি পাওয়া- বাড়তি আয় উপার্জন
আকাশ-পাতাল প্রভেদ- বিস্তর পার্থক্য
বাজারে কাটা- বিক্রি হওয়া
মতিগতি- ভাবগতিক, মনের ভাব
দা-কুমড়া সম্বন্ধ- নিদারুণ শত্রুতার সম্পর্ক, বৈরী সম্পর্ক
জীবিতপ্রায়
এক করতে আর
অমৃতে অরুচি

বিলাসী

লাভের অঙ্কে শূণ্য- ফলাফল একেবারেই লাভজনক না হওয়া
কাঁটা দেওয়া- বাধা সৃষ্টি করা
বুক ফাটা- হৃদয়বিদারক
রসাতলে যাওয়া- অধঃপাতে যাওয়া
অকালকুষ্মাণ্ড- অকর্মণ্য, অকেজো। পরিবারের অনিষ্টকারী ব্যক্তি
পঞ্চমুখ- প্রশংসামুখর হওয়া
নাছোড়বান্দা- উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য মরিয়া হয়ে পিছু লেগে থাকে এমন লোক
দোহাই মানা- নজির দেখানো
পাথর হয়ে যাওয়া- স্তব্ধ হয়ে পড়া
মাথা হেঁট করা- লজ্জায় বা বিনয়ে মাথা নত করা

কলিমদ্দি দফাদার

পাক ধরা- পেকে ওঠা, চুল দাড়ি ইত্যাদি সাদা হতে শুরু করা
বাড় বাড়া- স্পর্ধা হওয়া
যাচ্ছে তাই- যা ইচ্ছা তাই, অন্যায় বা অসংগত ব্যাপার, বিশ্রী, নিকৃষ্ট
হাওয়া হওয়া- উধাও হওয়া, অদৃশ্য হওয়া
খতরনাক অবস্থা- সংকটজনক অবস্থা
অভাগা যেদিকে যায়/ সাগর শুকিয়ে যায়- মন্দ ভাগ্যের লোক সর্বত্রই নিরাশ হয়
এলোপাথারি- বিশৃঙ্খলভাবে

সৌদামিনী মালো

এক তিল দাঁড়ানো- একটুখানি দাঁড়ানো
মগজ দৌড়ানো- বুদ্ধি শানানো। মস্তিষ্ক চালনা
মোগলের সঙ্গে খানা খাওয়া- বেকায়দায় পড়ে লাঞ্চনা ও অপমান সহ্য করা। তুলনীয় : পড়েছি মোগলের হাতে, খানা খেতে হবে সাথে।
বিলাত ঘুরে মক্কা যাওয়া-
দুষ্ট গরুর চেয়ে শূণ্য গোয়াল ভালো-
The nearest way to poor man’s heart is down their throat.
জান খারাপ-
হাঁক দেওয়া-
পকেট শুকিয়ে যাওয়া-
বাজি মেরে দেওয়া-

[প্রবাদ-প্রবচন : অনেকদিন ধরে লোকমুখে প্রচলিত জনপ্রিয় উক্তি যার মধ্যে সরলভাবে জীবনের কোনো গভীরতর সত্য প্রকাশ পায় সেগুলো প্রবাদ বা প্রবচন নামে অভিহিত হয়ে থাকে। কোনো স্বচ্ছন্দ, আন্তরিক কথাবার্তায় বা বর্ণনায় বক্তব্যকে চমকপ্রদ করে ইঙ্গিতময় করে তোলার ক্ষেত্রে সাধারণত প্রবাদ-প্রবচনের ব্যবহার হয়ে থাকে। নতুন অর্থে এর ব্যবহার হয় না বললেই চলে। যেমন-
পড়েছি মোগলের হাতে, খানা খেতে হবে সাথে।
বিলাত ঘুরে মক্কা যাওয়া
দুষ্ট গরুর চেয়ে শূণ্য গোয়াল ভালো
The nearest way to poor man’s heart is down their throat.

বাগধারা : আক্ষরিক অর্থ ছাপিয়ে যখন কোনো শব্দ বা শব্দগুচ্ছ বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে তখন তাকে বাগধারা বা বিশিষ্টার্থক শব্দ বলে। বাগধারা মূলত কথ্য ভাষার সম্পদ হলেও তা এখন আর কেবল কথ্য ভাষায় সীমাবদ্ধ নেই। সাহিত্যে তার বিচরণ এখন যত্রতত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে। যেমন-
জান খারাপ
হাঁক দেওয়া
পকেট শুকিয়ে যাওয়া
বাজি মেরে দেওয়া]
[প্রবাদ প্রবচন ও বাগধারা; ভাষা অনুশীলন; সৌদামিনী মালো]

একটি তুলসী গাছের কাহিনী


ভদ্রতার বালাই- সাধারণ সৌজন্যবোধ
পৃষ্ঠপ্রদর্শন- পালানো
দিনে দুপুরে ডাকাতি- প্রকাশ্য প্রতারণা ও মিথ্যাচার। ডাকাতির মত। দুঃসাহসিক কাজ।
তুলোধুনো হওয়া- ধুনা তুলোর মতো ছিন্নবিচ্ছিন্ন হওয়া।
কলা দেখানো- (আলংকারিক) ফাঁকি দেওয়া
মগের মুলুক- (আলংকারিক) অরাজক দেশ বা রাজ্য
মুঘলাই কায়দা-
মাথায় খুন চড়া- ভীষণ রেগে যাওয়া
কড়িকাঠ গোনা-
চোখ টেপা- ইশারা করা

জীবন বন্দনা


বিশিষ্টার্থক শব্দ
কূপমণ্ডুক- আভিধানিক অর্থ- কুয়োর ব্যাঙ
আলংকারিক অর্থ- সংকীর্ণমনা ব্যক্তি, বাইরের জগৎ সম্পর্কে জ্ঞান নেই এমন ব্যক্তি


কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাগধারা ও প্রবাদ-প্রবচন


অকাল কুষ্মাণ্ড (অপদার্থ, অকেজো)
অক্কা পাওয়া (মারা যাওয়া)
অগস্ত্য যাত্রা (চির দিনের জন্য প্রস্থান)
অগাধ জলের মাছ (সুচতুর ব্যক্তি)
অর্ধচন্দ্র (গলা ধাক্কা)
অন্ধের যষ্ঠি (একমাত্র অবলম্বন)
অন্ধের নড়ি (একমাত্র অবলম্বন)
অগ্নিশর্মা (নিরতিশয় ক্রুদ্ধ)
অগ্নিপরীক্ষা (কঠিন পরীক্ষা)
অগ্নিশর্মা (ক্ষিপ্ত)
অগাধ জলের মাছ (খুব চালাক)
অতি চালাকের গলায় দড়ি (বেশি চাতুর্যর পরিণাম)
অতি লোভে তাঁতি নষ্ট (লোভে ক্ষতি)
অদৃষ্টের পরিহাস (বিধির বিড়ম্বনা)
অর্ধচন্দ্র দেওয়া (গলা ধাক্কা দিয়ে দেয়া)
অষ্টরম্ভা (ফাঁকি)
অথৈ জলে পড়া (খুব বিপদে পড়া)
অন্ধকারে ঢিল মারা (আন্দাজে কাজ করা)
অমৃতে অরুচি (দামি জিনিসের প্রতি বিতৃষ্ণা)
অন্ধকারে ঢিল মারা (আন্দাজে কাজ করা)
অকূল পাথার (ভীষণ বিপদ)
অনুরোধে ঢেঁকি গেলা (অনুরোধে দুরূহ কাজ সম্পন্ন করতে সম্মতি দেয়া)
অদৃষ্টের পরিহাস (ভাগ্যের নিষ্ঠুরতা)
অল্পবিদ্যা ভয়ংকরী (সামান্য বিদ্যার অহংকার)
অনধিকার চর্চা (সীমার বাইরে পদক্ষেপ)
অরণ্যে রোদন (নিষ্ফল আবেদন)
অহিনকুল সম্বন্ধ (ভীষণ শত্রুতা)
অন্ধকার দেখা (দিশেহারা হয়ে পড়া)
অমাবস্যার চাঁদ (দুর্লভ বস্তু)
আকাশ কুসুম (অসম্ভব কল্পনা)
আকাশ পাতাল (প্রভেদ) (প্রচুর ব্যবধান)
আকাশ থেকে পড়া (অপ্রত্যাশিত)
আকাশের চাঁদ (আকাঙ্ক্ষিত বস্তু)
আগুন নিয়ে খেলা (ভয়ঙ্কর বিপদ)
আগুনে ঘি ঢালা (রাগ বাড়ানো)
আঙুল ফুলে কলাগাছ (অপ্রত্যাশিত ধনলাভ)
আঠার আনা (সমূহ সম্ভাবনা)
আদায় কাঁচকলায় (তিক্ত সম্পর্ক)
আহ্লাদে আটখানা (খুব খুশি)
আক্কেল সেলামি (নির্বুদ্ধিতার দণ্ড)
আঙুল ফুলে কলাগাছ (হঠাৎ বড়লোক)
আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়া (দুর্লভ বস্তু প্রাপ্তি)
আদায় কাঁচকলায় (শত্রুতা)
আদা জল খেয়ে লাগা (প্রাণপণ চেষ্টা করা)
আক্কেল গুড়ুম (হতবুদ্ধি, স্তম্ভিত)
আমড়া কাঠের ঢেঁকি (অপদার্থ)
আকাশ ভেঙে পড়া (ভীষণ বিপদে পড়া)
আমতা আমতা করা (ইতস্তত করা, দ্বিধা করা)
আটকপালে (হতভাগ্য)
আঠার মাসের বছর (দীর্ঘসূত্রিতা)
আলালের ঘরের দুলাল (অতি আদরে নষ্ট পুত্র)
আকাশে তোলা (অতিরিক্ত প্রশংসা করা)
আষাঢ়ে গল্প (আজগুবি কেচ্ছা)
ইঁদুর কপালে (নিতান্ত মন্দভাগ্য)
ইঁচড়ে পাকা (অকালপক্ব)
ইলশে গুঁড়ি (গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি)
ইতর বিশেষ (পার্থক্য)
উত্তম মধ্যম (প্রহার)
উড়নচন্ডী (অমিতব্যয়ী)
উভয় সংকট (দুই দিকেই বিপদ)
উলু বনে মুক্ত ছড়ানো (অপাত্রে/অস্থানে মূল্যবান দ্রব্য প্রদান)
উড়ো চিঠি (বেনামি পত্র)
উড়ে এসে জুড়ে বসা (অনধিকারীর অধিকার)
উজানে কৈ (সহজলভ্য)
উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে (একের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপানো)
ঊনপাঁজুড়ে (অপদার্থ)
ঊনপঞ্চাশ বায়ু (পাগলামি)
এক ক্ষুরে মাথা মুড়ানো (একই স্বভাবের)
এক চোখা (পক্ষপাতিত্ব, পক্ষপাতদুষ্ট)
এক মাঘে শীত যায় না (বিপদ এক বারই আসে না, বার বার আসে)
এলোপাতাড়ি (বিশৃঙ্খলা)
এসপার ওসপার (মীমাংসা)
একাদশে বৃহস্পতি (সৌভাগ্যের বিষয়)
এক বনে দুই বাঘ (প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী)
এক ক্ষুরে মাথা মুড়ানো (একই দলভুক্ত)
এক করতে আর
এলাহি কাণ্ড (বিরাট আয়োজন)
ওজন বুঝে চলা (অবস্থা বুঝে চলা)
ওষুধে ধরা (প্রার্থিত ফল পাওয়া)
কচুকাটা করা (নির্মমভাবে ধ্বংস করা)
কচু পোড়া (অখাদ্য)
কচ্ছপের কামড় (যা সহজে ছাড়ে না)
কলম পেষা (কেরানিগিরি)
কলুর বলদ (এক টানা খাটুনি)
কথার কথা (গুরুত্বহীন কথা)
কাঁঠালের আমসত্ত্ব (অসম্ভব বস্তু)
কাকতাল (আকস্মিক/দৈব যোগাযোগজাত ঘটনা)
কপাল ফেরা (সৌভাগ্য লাভ)
কত ধানে কত চাল (হিসেব করে চলা)
কড়ায় গণ্ডায় (পুরোপুরি)
কান খাড়া করা (মনোযোগী হওয়া)
কানকাটা (নির্লজ্জ)
কান ভাঙানো (কুপরামর্শ দান)
কান ভারি করা (কুপরামর্শ দান)
কাপুড়ে বাবু (বাহ্যিক সাজ)
কেউ কেটা (গণ্যমান্য)
কেঁচে গণ্ডুষ (পুনরায় আরম্ভ)
কেঁচো খুড়তে সাপ (বিপদজনক পরিস্থিতি)
কই মাছের প্রাণ (যা সহজে মরে না)
কুঁড়ের বাদশা (খুব অলস)
কাক ভূষণ্ডী (দীর্ঘজীবী)
কেতা দুরস্ত (পরিপাটি)
কাছা আলগা (অসাবধান)
কাঁচা পয়সা (নগদ উপার্জন)
কাঁঠালের আমসত্ত্ব (অসম্ভব বস্তু)
কূপমণ্ডুক (সীমাবদ্ধ জ্ঞান সম্পন্ন, ঘরকুনো)
কেতা দুরস্ত (পরিপাটি)
কাঠের পুতুল (নির্জীব, অসার)
কথায় চিঁড়ে ভেজা (ফাঁকা বুলিতে কার্যসাধন)
কান পাতলা (সহজেই বিশ্বাসপ্রবণ)
কাছা ঢিলা (অসাবধান)
কুল কাঠের আগুন (তীব্র জ্বালা)
কেঁচো খুড়তে সাপ (সামান্য থেকে অসামান্য পরিস্থিতি)
কেউ কেটা (সামান্য)
কেঁচে গণ্ডুষ (পুনরায় আরম্ভ)
কৈ মাছের প্রাণ (যা সহজে মরে না)
খয়ের খাঁ (চাটুকার)
খণ্ড প্রলয় (ভীষণ ব্যাপার)
খাল কেটে কুমির আনা (বিপদ ডেকে আনা)
গড্ডলিকা প্রবাহ (অন্ধ অনুকরণ)
গদাই লস্করি চাল (অতি ধীর গতি, আলসেমি)
গণেশ উল্টানো (উঠে যাওয়া, ফেল মারা)
গলগ্রহ (পরের বোঝা স্বরূপ থাকা)
গরজ বড় বালাই (প্রয়োজনে গুরুত্ব)
গরমা গরম (টাটকা)
গরিবের ঘোড়া রোগ (অবস্থার অতিরিক্ত অন্যায় ইচ্ছা)
গুর খোঁজা (তন্ন তন্ন করে খোঁজা)
গুরু মেরে জুতা দান (বড় ক্ষতি করে সামান্য ক্ষতিপূরণ)
গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল (প্রাপ্তির আগেই আয়োজন)
গা ঢাকা দেওয়া (আত্মগোপন)
গায়ে কাঁটা দেওয়া (রোমাঞ্চিত হওয়া)
গাছে তুলে মই কাড়া (সাহায্যের আশা দিয়ে সাহায্য না করা)
গায়ে ফুঁ দিয়ে বেড়ানো (কোনো দায়িত্ব গ্রহণ না করা)
গুরু মারা বিদ্যা (যার কাছে শিক্ষা তারই উপর প্রয়োগ)
গোকুলের ষাঁড় (স্বেচ্ছাচারী লোক)
গোঁয়ার গোবিন্দ (নির্বোধ অথচ হঠকারী)
গোল্লায় যাওয়া (নষ্ট হওয়া, অধঃপাতে যাওয়া)
গোবর গণেশ (মূর্খ)
গোলক ধাঁধা (দিশেহারা)
গোঁফ খেজুরে (নিতান্ত অলস)
গোড়ায় গলদ (শুরুতে ভুল)
গৌরচন্দ্রিকা (ভূমিকা)
গৌরীসেনের টাকা (বেহিসাবী অর্থ)
গুড়ে বালি (আশায় নৈরাশ্য)
ঘর ভাঙানো (সংসার বিনষ্ট করা)
ঘাটের মরা (অতি বৃদ্ধ)
ঘোড়া রোগ (সাধ্যের অতিরিক্ত সাধ)
ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস খাওয়া (মধ্যবর্তীকে অতিক্রম করে কাজ করা)
ঘোড়ার ঘাস কাটা (অকাজে সময় নষ্ট করা)
ঘোড়ার ডিম (অবাস্তব)
ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো (নিজ খরচে পরের বেগার খাটা)
ঘাটের মড়া (অতি বৃদ্ধ)
ঘটিরাম (আনাড়ি হাকিম)
চক্ষুদান করা (চুরি করা)
চক্ষুলজ্জা (সংকোচ)
চর্বিত চর্বণ (পুনরাবৃত্তি)
চাঁদের হাট (আনন্দের প্রাচুর্য)
চিনির বলদ (ভারবাহী কিন্তু ফল লাভের অংশীদার নয়)
চোখের বালি (চক্ষুশূল)
চোখের পর্দা (লজ্জা)
চোখ কপালে তোলা (বিস্মিত হওয়া)
চোখ টাটানো (ঈর্ষা করা)
চোখে ধুলো দেওয়া (প্রতারণা করা)
চোখের চামড়া (লজ্জা)
চুনকালি দেওয়া (কলঙ্ক)
চশমখোর (চক্ষুলজ্জাহীন)
চোখের মণি (প্রিয়)
চামচিকের লাথি (নগণ্য ব্যক্তির কটূক্তি)
চিনির পুতুল (শ্রমকাতর)
চুঁনোপুটি (নগণ্য)
চুলোয় যাওয়া (ধ্বংস)
চিনে/ছিনে জোঁক (নাছোড়বান্দা)
ছ কড়া ন কড়া (সস্তা দর)
ছা পোষা (অত্যন্ত গরিব)
ছাই ফেলতে ভাঙা কুলা (সামান্য কাজের জন্য অপদার্থ ব্যক্তি)
ছেলের হাতের মোয়া (সামান্য বস্তু)
ছুঁচো মেরে হাত গন্ধ করা (নগণ্য স্বার্থে দুর্নাম অর্জন)
ছক্কা পাঞ্জা (বড় বড় কথা বলা)
ছিঁচ কাদুনে (অল্পই কাঁদে এমন)
ছিনিমিনি খেলা (নষ্ট করা)
ছেলের হাতের মোয়া (সহজলভ্য বস্তু)
জগাখিচুড়ি পাকানো (গোলমাল বাধানো)
জিলাপির প্যাঁচ (কুটিলতা)
জীবিতপ্রায়
জলে কুমির ডাঙায় বাঘ (উভয় সঙ্কট)
ঝড়ো কাক (বিপর্যস্ত)
ঝাঁকের কৈ (এক দলভুক্ত)
ঝিকে মেরে বউকে বোঝানো (একজনের মাধ্যমে দিয়ে অন্যজনকে শিক্ষাদান)
ঝোপ বুঝে কোপ মারা (সুযোগ মত কাজ করা)
টনক নড়া (চৈতন্যোদয় হওয়া)
টাকার কুমির (ধনী ব্যক্তি)
টেকে গোঁজা (আত্মসাৎ করা)
টুপভুজঙ্গ (নেশায় বিভোর)
ঠাঁট বজায় রাখা (অভাব চাপা রাখা)
ঠোঁট কাটা (বেহায়া)
ঠগ বাছতে গাঁ উজাড় (আদর্শহীনতার প্রাচুর্য)
ঠুঁটো জগন্নাথ (অকর্মণ্য)
ঠেলার নাম বাবাজি (চাপে পড়ে কাবু)
ডুমুরের ফুল (দুর্লভ বস্তু)
ডাকের সুন্দরী (খুবই সুন্দরী)
ডুমুরের ফুল (দুর্লভ)
ডান হাতের ব্যাপার (খাওয়া)
ডামাডোল (গণ্ডগোল)
ঢাক ঢাক গুড় গুড় (গোপন রাখার চেষ্টা)
ঢাকের কাঠি (মোসাহেব, চাটুকার)
ঢাকের বাঁয়া (অপ্রয়োজনীয়)
ঢেঁকির কচকচি (বিরক্তিকর কথা)
ঢি ঢি পড়া (কলঙ্ক প্রচার হওয়া)
ঢিমে তেতালা (মন্থর)
তালকানা (বেতাল হওয়া)
তাসের ঘর (ক্ষণস্থায়ী)
তামার বিষ (অর্থের কু প্রভাব)
তালপাতার সেপাই (ক্ষীণজীবী)
তিলকে তাল করা (বাড়িয়ে বলা)
তুলসী বনের বাঘ (ভণ্ড)
তুলা ধুনা করা (দুর্দশাগ্রস্ত করা)
তুষের আগুন (দীর্ঘস্থায়ী ও দুঃসহ যন্ত্রণা)
তীর্থের কাক (প্রতীক্ষারত)
থ বনে যাওয়া (স্তম্ভিত হওয়া)
থরহরি কম্প (ভীতির আতিশয্যে কাঁপা)
দা-কুমড়া (ভীষণ শত্রুতা)
দহরম মহরম (ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক)
দু মুখো সাপ (দু জনকে দু রকম কথা বলে পরস্পরের মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টিকারী)
দিনকে রাত করা (সত্যকে মিথ্যা করা)
দুধে ভাতে থাকা (খেয়ে-পড়ে সুখে থাকা)
দেঁতো হাসি (কৃত্তিম হাসি)
দাদ নেওয়া (প্রতিশোধ নেয়া)
দুকান কাটা (বেহায়া)
দুধের মাছি (সু সময়ের বন্ধু)
ধরাকে সরা জ্ঞান করা (সকলকে তুচ্ছ ভাবা)
ধড়া-চূড়া (সাজপোশাক)
ধরাকে সরা জ্ঞান করা (অহঙ্কারে সবকিছু তুচ্ছ মনে করা)
ধর্মের ষাঁড় (যথেচ্ছাচারী)
ধর্মের কল বাতাসে নড়ে (সত্য গোপন থাকে না)
ধরি মাছ না ছুঁই পানি (কৌশলে কার্যাদ্ধার)
ননীর পুতুল (শ্রমবিমুখ)
নয় ছয় (অপচয়)
নাটের গুরু (মূল নায়ক)
নাড়ি নক্ষত্র (সব তথ্য)
নিমক হারাম (অকৃতজ্ঞ)
নিমরাজি (প্রায় রাজি)
নামকাটা সেপাই (কর্মচ্যূত ব্যক্তি)
নথ নাড়া (গর্ব করা)
নেই আঁকড়া (একগুঁয়ে)
নগদ নারায়ণ (কাঁচা টাকা/নগদ অর্থ)
নেপোয় মারে দই (ধূর্ত লোকের ফল প্রাপ্তি)
পটল তোলা (মারা যাওয়া)
পগার পার (আয়ত্তের বাইরে পালিয়ে যাওয়া)
পটের বিবি (সুসজ্জিত)
পত্রপাঠ (অবিলম্বে/সঙ্গে সঙ্গে)
পালের গোদা (দলপতি)
পাকা ধানে মই (অনিষ্ট করা)
পাখিপড়া করা (বার বার শেখানো)
পাততাড়ি গুটানো (জিনিসপত্র গোটানো)
পাথরে পাঁচ কিল (সৌভাগ্য)
পুঁটি মাছের প্রাণ (যা সহজে মরে যায়)
পুকুর চুরি (বড় রকমের চুরি)
পুরোনো কাসুন্দি ঘাঁটা (পুরোনো প্রসঙ্গে কটাক্ষ করা)
পোঁ ধরা (অন্যকে দেখে একই কাজ করা)
পোয়া বারো (অতিরিক্ত সৌভাগ্য)
প্রমাদ গোণা (ভীত হওয়া)
পায়াভারি (অহঙ্কার)
পরের মাথায় কাঁঠাল ভাঙা (অপরকে দিয়ে কাজ উদ্ধার)
পরের ধনে পোদ্দারি (অন্যের অর্থের যথেচ্ছ ব্যয়)
ফপর দালালি (অতিরিক্ত চালবাজি)
ফুলবাবু (বিলাসী)
ফেউ লাগা (আঠার মতো লেগে থাকা)
ফুলের ঘাঁয়ে মূর্ছা যাওয়া (অল্পে কাতর)
ফোড়ন দেওয়া (টিপ্পনী কাটা)
বক ধার্মিক (ভণ্ড সাধু)
বইয়ের পোকা (খুব পড়ুয়া)
বগল বাজানো (আনন্দ প্রকাশ করা)
বজ্র আঁটুনি ফসকা গেরো (সহজে খুলে যায় এমন)
বসন্তের কোকিল (সুদিনের বন্ধু)
বিড়াল তপস্বী (ভণ্ড সাধু)
বর্ণচোরা আম (কপট ব্যক্তি)
বরাক্ষরে (অলক্ষুণে)
বাজারে কাটা (বিক্রি হওয়া)
বালির বাঁধ (অস্থায়ী বস্তু)
বাঁ হাতের ব্যাপার (ঘুষ গ্রহণ)
বাঁধা গৎ (নির্দিষ্ট আচরণ)
বাজখাঁই গলা (অত্যন্ত কর্কশ ও উঁচু গলা)
বাড়া ভাতে ছাই (অনিষ্ট করা)
বায়াত্তরে ধরা (বার্ধক্যের কারণে কাণ্ডজ্ঞানহীন)
বিদ্যার জাহাজ (অতিশয় পণ্ডিত)
বিশ বাঁও জলে (সাফল্যের অতীত)
বিনা মেঘে বজ্রপাত (আকস্মিক বিপদ)
বাঘের দুধ/ চোখ (দুঃসাধ্য বস্তু)
বিসমিল্লায় গলদ (শুরুতেই ভুল)
বুদ্ধির ঢেঁকি (নিরেট মূর্খ)
ব্যাঙের আধুলি (সামান্য সম্পদ)
ব্যাঙের সর্দি (অসম্ভব ঘটনা)
ভরাডুবি (সর্বনাশ)
ভস্মে ঘি ঢালা (নিষ্ফল কাজ)
ভাদ্র মাসের তিল (প্রচণ্ড কিল)
ভানুমতীর খেল (অবিশ্বাস্য ব্যাপার)
ভাল্লুকের জ্বর (ক্ষণস্থায়ী জ্বর)
ভাঁড়ে ভবানী (নিঃস্ব অবস্থা)
ভূতের ব্যাগার (অযথা শ্রম)
ভূঁই ফোড় (হঠাৎ গজিয়ে ওঠা)
ভিজে বিড়াল (কপটাচারী)
ভূশন্ডির কাক (দীর্ঘজীবী)
মগের মুল্লুক (অরাজক দেশ)
মণিকাঞ্চন যোগ (উপযুক্ত মিলন)
মন না মতি (অস্থির মানব মন)
মড়াকান্না (উচ্চকণ্ঠে শোক প্রকাশ)
মাছের মায়ের পুত্রশোক (কপট বেদনাবোধ)
মিছরির ছুরি (মুখে মধু অন্তরে বিষ)
মুখ চুন হওয়া (লজ্জায় ম্লান হওয়া)
মুখে দুধের গন্ধ (অতি কম বয়স)
মুস্কিল আসান (নিষ্কৃতি)
মেনি মুখো (লাজুক)
মাকাল ফল (অন্তঃসারশূণ্য)
মশা মারতে কামান দাগা (সামান্য কাজে বিরাট আয়োজন)
মুখে ফুল চন্দন পড়া (শুভ সংবাদের জন্য ধন্যবাদ)
মেছো হাটা (তুচ্ছ বিষয়ে মুখরিত)
যক্ষের ধন (কৃপণের ধন)
যমের অরুচি (যে সহজে মরে না)
রত্নপ্রসবিনী (সুযোগ্য সন্তানের মা)
রাঘব বোয়াল (সর্বগ্রাসী ক্ষমতাবান ব্যক্তি)
রাবণের চিতা (চির অশান্তি)
রাশভারি (গম্ভীর প্রকৃতির)
রাই কুড়িয়ে বেল (ক্ষুদ্র সঞ্চয়ে বৃহৎ)
রাজা উজির মারা (আড়ম্বরপূর্ণ গালগল্প)
রাবণের গুষ্টি (বড় পরিবার)
রায় বাঘিনী (উগ্র স্বভাবের নারী)
রাজ যোটক (উপযুক্ত মিলন)
রাহুর দশা (দুঃসময়)
রুই-কাতলা (পদস্থ বা নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি)
লেফাফা দুরস্ত (বাইরের ঠাট বজার রেখে চলেন যিনি)
লগন চাঁদ (ভাগ্যবান)
ললাটের লিখন (অমোঘ ভাগ্য)
লাল পানি (মদ)
লাল বাতি জ্বালা (দেউলিয়া হওয়া)
লাল হয়ে যাওয়া (ধনশালী হওয়া)
লেজে গোবরে (বিশৃঙ্খলা)
শকুনি মামা (কুটিল ব্যক্তি)
শাঁখের করাত (দুই দিকেই বিপদ)
শাপে বর (অনিষ্টে ইষ্ট লাভ)
শিকায় ওঠা (স্থগিত)
শিঙে ফোঁকা (মরা)
শিবরাত্রির সলতে (একমাত্র সন্তান)
শিরে সংক্রান্তি (বিপদ মাথার ওপর)
শুয়ে শুয়ে লেজ নাড়া (আলস্যে সময় নষ্ট করা)
শরতের শিশির (সুসময়ের বন্ধু)
শত্রুর মুখে ছাই (কুদৃষ্টি এড়ানো)
শ্রীঘর (কারাগার)
ষাঁড়ের গোবর (অযোগ্য)
ষোল আনা (পুরোপুরি)
ঘোল কলা (পুরোপুরি)
সবুরে মেওয়া ফলে (ধৈর্যসুফল মিলে)
সরফরাজি করা (অযোগ্য ব্যক্তির চালাকি)
সাত খুন মাফ (অত্যধিক প্রশ্রয়)
সাত সতের (নানা রকমের)
সাপের ছুঁচো গেলা (অনিচ্ছায় বাধ্য হয়ে কাজ করা)
সেয়ানে সেয়ানে (চালাকে চালাকে)
সবে ধন নীলমণি (একমাত্র অবলম্বন)
সাতেও নয়, পাঁচেও নয় (নির্লিপ্ত)
সাপের পাঁচ পা দেখা (অহঙ্কারী হওয়া)
সোনায় সোহাগা (উপযুক্ত মিলন)
সাক্ষী গোপাল (নিষ্ক্রিয় দর্শক)
সখাত সলিলে (ঘোর বিপদে পড়া)
সব শেয়ালের এক রা (ঐকমত্য)
হাটে হাঁড়ি ভাঙা (গোপন কথা প্রকাশ করা)
হাতটান (চুরির অভ্যাস)
হ য ব র ল (বিশৃঙ্খলা)
হরি ঘোষের গোয়াল (বহু অপদার্থ ব্যক্তির সমাবেশ)
হরিলুট (অপচয়)
হস্তীমূর্খ (বুদ্ধিতে স্থূল)
হাড়ে দুর্বা গজানো (অত্যন্ত অলস হওয়া)
হাতুড়ে বদ্যি (আনাড়ি চিকিৎসক)
হাতের পাঁচ (শেষ সম্বল)
হীরার ধার (অতি তীক্ষ্ণবুদ্ধি)
হোমরা চোমরা (গণ্যমান্য ব্যক্তি)
হিতে বিপরীত (উল্টো ফল)
হাড় হদ্দ (নাড়ি নক্ষত্র/সব তথ্য)
হাড় হাভাতে (হতভাগ্য)
হালে পানি পাওয়া (সুবিধা করা)

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিগত বছরের প্রশ্ন


  • ‘ভেরেণ্ডা ভাজা’ বাগধারাটির অর্থ-  (ঘ-১৯৯৯-৯৮)
  • ‘মুখ তোলা’ বাক্যাংশের বিশিষ্ট অর্থ কি? (ঘ-১৯৯৯-২০০০)
  • ‘পান্তা ভাতে ঘি’ বাগবিধির অর্থ  (ঘ-১৯৯৯-২০০০)
  • ‘মহাভারত অশুদ্ধ হওয়া’ বাগবিধির অর্থ (ঘ-২০০০-০১)
  • কোনটি প্রবচন? (ঘ-২০০০-০১)
  • ‘রত্নপ্রসবিনী’ শব্দের বিশিষ্টার্থ- (ঘ-২০০২-০৩)
  • ‘গরমা-গরম’ এর বিশিষ্টার্থ  ? (ঘ-২০০৪-০৫)
  • ইঁদুর কপালে’ বাগধারাটির অর্থ (ঘ-২০০৫-০৬)
  • ‘নগদ নারায়ণ’ বাগধারাটির অর্থ (ঘ-২০০৬-০৭)
  • ‘টুপভুজঙ্গ’ বাগধারার অর্থ? (ঘ-২০০৮-০৯)
  • কোনটি প্রবাদ? (ঘ-২০০৮-০৯)
  • ‘নেপোয় মারে দই’- বাগবিধিটির অর্থ (ঘ-২০০৯-১০)
  • ‘লম্বা দেয়া’ বাগধারাটির অর্থ- (ঘ-২০১০-১১)
  • ‘কিলিয়ে কাঁঠাল পাকানো’- কী বোঝায়? (ক-২০০৫-০৬)
  • বাজারে কাটা’ বাগধারার অর্থ (ক-২০০৬-০৭)
  • ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’ প্রবাদটির অর্থ- (ক-২০০৬-০৭)
  • ‘ভাঁড়ে ভবানী’ প্রবচনের অর্থ- (ক-২০০৭-০৮)
  • ‘সাক্ষীগোপাল’- এর অর্থ: (গ-২০০৯-১০)
  • ‘হায়রে আমড়া, কেবল আঁটি আর চামড়া’- এ প্রবাদটির অর্থ: (গ-২০০৮-০৯)
  • ‘শিকায় তোলা’ বাগধারাটির অর্থ: (গ-২০০৮-০৯)
  • ‘ঢাক গুড়গুড়’-এর অর্থ: (গ-২০০৫-০৬)
  • ‘হচ্ছে হবে’ অর্থ: (গ-২০০৫-০৬)
  • আক্ষরিক অর্থ ছাপিয়ে যখন কোনো শব্দ বা শব্দগুচ্ছ বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে তখন তাকে আমরা বলি: (গ-২০০৫-০৬)
  • ‘রাবণের চিতা’- এর অর্থ: (গ-২০০৪-০৫)
  • ‘চাঁদের হাট’ অর্থ: (গ-২০০৪-০৫)
  • ‘হটিরাম’ বাগধারাটির অর্থ- (গ-২০০৩-০৪)
  • ‘ডামাডোল’ বাগধারাটির সঠিক অর্থ হচ্ছে (গ-২০০১-০২)
  • ‘বর্ণচোরা’ বাগধারাটির অর্থ হচ্ছে- (গ-২০০১-০২)

বাগধারা

বাগধারা ভাষায় বিশেষ অর্থে ব্যবহৃত হয় বলে বাগধারা ভাষাকে সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে তোলে। বাগধারা বাংলা ভাষার শব্দ ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে। বাগধারার আছে আলাদা প্রকাশভঙ্গি। বাক্যরীতি থেকে বাগভঙ্গি, সব ক্ষেত্রেই এর নিজস্ব শৈলী। যে শব্দ বা শব্দগুচ্ছ দিয়ে বিশেষ অর্থ প্রকাশ পায় তাকে বাগধারা বলে। বাগধারায় এমন একটি শক্তি আছে যা সাধারণ অর্থে বোঝা যাবে না। যেমন: ‘গোবরগণেশ, বিড়ালতপস্বী, গোবরে পদ্মফুল, ঘোড়ার ডিম, কই মাছের প্রাণ। বাগধারা তিন প্রকারে ভাব প্রকাশ করে থাকে। যেমন:
১. বাচ্যার্থ: শব্দের মুখ্য অর্থকে বাচ্যার্থ বলে। যেমন: ঈশ্বর, নদী, চন্দ্র, সূর্য ইত্যাদি।
২. লক্ষ্যার্থ: যখন কোন শব্দ মুখ্য অর্থ ছাড়া অন্য অর্থ প্রকাশ করে তখন তাকে লক্ষ্যার্থ বলে। যেমন: ‘গোপালের লেখাপড়ার গা নাই’। (গাত্র>গা) ‘গা’ শব্দের মুখ্য হলো দেহ’ কিন্তু এখানে বাচ্যার্থে বা মুখ্যার্থে ব্যবহৃত না হয়ে লক্ষ্যার্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এই বাক্যে ‘গা’ শব্দের লক্ষ্যার্থ হলো ‘ইচ্ছা’।
৩. ব্যাঙ্গ্যার্থ: যখন কোনো শব্দ বা শব্দসমষ্টি বাচ্যার্থ বা লক্ষ্যার্থ প্রকাশ না করে অন্য একটি নতুন গভীর ব্যঞ্জনাপূর্ণ অর্থ প্রকাশ করে তখন তাকে ব্যাঙ্গ্যার্থ বলে। যেমন: ‘রমেশ বাবুর ছেলে একটা অকালকুষ্মাণ্ড।’ ‘অকাল-কুষ্মাণ্ডের’ ব্যাঙ্গ্যার্থ হলো ‘অপদার্থ’।
সুতরাং লক্ষ্যার্থ ও ব্যাঙ্গার্থযুক্ত শব্দ বা শব্দসমষ্টি অথবা বাক্যাংশকে বাগধারা বলে।

বাগধারা ও প্রবাদের মধ্যে পার্থক্য দেখাও।
বাগধারা ও প্রবাদের মধ্যে কিছু পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। যেমন :
১. যে শব্দ বা শব্দগুচ্ছ দিয়ে বিশেষ অর্থ প্রকাশ পায় তাকে বাগধারা বলে। আর বিশেষ অর্থে প্রকাশিত উক্তি বা কথনকে প্রবাদ বলে।
২. বাগধারা লোকমুখ হতে সৃষ্টি হয়েছে। আর প্রবাদ চিন্তাশীল ব্যক্তি ও লেখক হতে সৃষ্টি হয়েছে।
৩. বাগধারা জনপ্রিয় বা ছন্দবদ্ধ উক্তি নয়। আর প্রবাদ জনপ্রিয় বা ছন্দবদ্ধ উক্তি।
৪. বাগধারা হলো অলংকারহীন শব্দ বা শব্দগুচ্ছ। আর প্রবাদ হলো অলংকারসমৃদ্ধ সংক্ষিপ্ত বাক্য।
৫. বাগধারায় পুরো বুদ্ধির ছাপ নাই। আর প্রবাদে পুরো বুদ্ধির ছাপ আছে।
৬. বাগধারার অর্থ অতি সহজে বুঝা যায় না তাই এটি একটু জটিল। আর প্রবাদের অর্থ অতি সহজে বুঝা যায় তাই এটি সহজ সরল, ছন্দবদ্ধ, মিলেবদ্ধ, স্পষ্ট হয়।

বাগধারা গঠন
বিভিন্নভাবে বাগধারা গঠিত হতে পারে। যেমন:
১. বিশেষ্য + বিশেষ্য=গোবর গণেশ
২. বিশেষ্য + বিশেষণ=বকধার্মিক
৩. একাধিক বিশেষ্য + বিশেষণ=কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা, এক ঢিলে দুই পাখি মারা
৪. দ্বিত্বক্রিয়া (আ/ই-প্রত্যয় যোগে)=মাখামাখি, নাচানাচি
৫. ক্রিয়া বিশেষণযোগে=গলায় গলায় ভাব

বাগধারার ব্যবহার
বাগধারা     অর্থ             বাক্যরচনা

অ আ ক খ (সাধারণ জ্ঞান)— এ বিষয়ে তার অ আ ক খ জানা নাই।
অক্কা পাওয়া (মারা যাওয়া)— বৃদ্ধ লোকটি বাসের ধাক্কায় অক্কা পেয়েছে।
অকালকুষ্মাণ্ড (অপদার্থ)—ওকে দিয়ে কিছু হবে না, ও অকালকুষ্মাণ্ড।
অন্ধের যষ্ঠি (একমাত্র অবলম্বন)— যে ছিল মায়ের অন্ধের যষ্ঠি সেও অকালে মারা গেলো।
অমাবস্যার চাঁদ (অদৃশ্য)—রহিম ভালো চাকরি পেয়ে একেবারে অমাবস্যার চাঁদ হয়ে গেছে।

আকাশকুসুম (অসম্ভব কল্পনা)— আকাশকুসুম না ভেবে কাজ করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
আকাশ পাতাল (বড় ব্যবধান) — দুই ভায়ের আচরণ কী আকাশ পাতাল ব্যবধান!
আমড়াকাঠের ঢেঁকি (অপদার্থ)— আমড়াকাঠের ঢেঁকিকে দিয়ে কোন কাজে ভালো ফল আশা করা যায় না।
আষাঢ়ে গল্প (আজগুবি গল্প)— আষাঢ়ে গল্প শুনিয়ে কারো কাছ থেকে উপকার পাওয়ার আশা করো না।
আঙুল ফুলে কলাগাছ (হঠাৎ বড়লোক হওয়া)— অসৎ পথেই আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়া যায়।
ই/ঈ
ইঁচড়ে পাকা (অকালে পাকা)— ইঁচড়ে পাকা ছেলেটি বাবা মায়ের কথা শোনে না।
ইলশেগুঁড়ি (গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি)— সকাল থেকেই শুরু হয়েছে ইলশেগুঁড়ি।
ঈদের চাঁদ (অতি আনন্দ)— হারানো ছেলেকে পেয়ে মা যেন ঈদের চাঁদ পেয়েছে।
উ/ঊ
উত্তম-মধ্যম (প্রহার) — পুলিশ চোরটিকে কিছু উত্তম-মধ্যম দিয়ে ছেড়ে দিলো।
উনিশ-বিশ (সামান্য পার্থক্য)— হারজিতটি উনিশ-বিশে হয়েছে।
উঠে পড়ে লাগা (আদার জল খেয়ে লাগা/প্রাণপন চেষ্টা করা)—একবার ফেল করে ছেলেটি পাশের জন্য উঠে পড়ে লেগেছে।
উনপাঁজুরে (হতভাগ্য)— উনপাঁজুরে লোকটির ভাগ্যে সারা জীবনেও সুখ মিলল না।

এলাহিকাণ্ড (বিরাট ব্যাপার)— তার মেয়ে বিয়ে যেন এক এলাহিকাণ্ড।
এক ঢিলে দুই পাখি (এক প্রচেষ্টায় উভয় উদ্দেশ্য সাধন)— চালাক লোকটি এক ঢিলে দুই পাখি মারল।

কলুর বলদ (পরাধীন)— লোকটি সারা জীবন কলুর বলদের মতো খেটে গেলো।
কড়ায় গণ্ডায় (পুরোপুরি)— পাওনা টাকা তার কাছ থেকে কড়ায় গণ্ডায় বুঝে নিবি।
কান খাড়া করা (সতর্ক হওয়া)—রাস্তাঘাটে কান খাড়া করে চলতে হয়।

গোঁফ খেঁজুরে (খুব অলস)— গোঁফ খেঁজুরে লোক দিয়ে দেশের উন্নতি অসম্ভব।
গোবর গণেশ (অপদার্থ/মূর্খ)— গোবর গণেশ দিয়ে কোন কাজে ভালো ফল আশা করা যায় না।
গোড়ায় গলদ (মূলে ভুল)— অংক মিলবে কী করে, এর তো গোড়ায় গলদ আছে।
গুঁড়েবালি (আশায় নৈরাশ্য)— শেষমেষ সব আশাই গুঁড়েবালি হবে।

ঘোড়ার ডিম (মিথ্যা জিনিস/অবাস্তব বস্তু)— এমন লেখাপড়া করলে পরীক্ষায় ঘোড়ার ডিম পাবা।
ঘোড়ার ঘাস কাটা (বাজে কাজ করা)— ঘোড়ার ঘাস কাটো; পরীক্ষায় ভালো করতে পারলে না।

চোখের পর্দা (লজ্জা)— বড় হয়ে কী চোখের পর্দা খেয়েছে?
চোখের মণি (অতি আদরের)— ছেলেটি গরিব মায়ের চোখের মণি।
চোখের বালি (চোখের কাঁটা/চক্ষুশূল)— খারাপ কাজ করে বাবা মায়ের কাছে চোখের বালি হইও না।
চোখ টাটান (হিংসা করা)— অন্যের ভালো দেখে অনেকের চোখ টাটায়।
চোখে সরষে ফুল দেখা/চোখে অন্ধকার দেখা (বিপদ দেখা, হতবুদ্ধি)— সারা বছর না পড়লে চোখে সরষে ফুল /চোখে অন্ধকার দেখতে হয়।
জ/ঝ
জলে কুমির ডাঙায় বাঘ (দুদিকেই বিপদ/উভয় সংকট) — জলে কুমির ডাঙায় বাঘ নিয়ে বাঁচা কষ্টকর।
জিলাপির প্যাঁচ (খারাপ বুদ্ধি)— জিলাপির প্যাঁচ দিয়েও লোকটি বাঁচতে পারল না।
ঝোপ বুঝে কোপ মারা (অবস্থা বুঝে সুযোগ গ্রহণ) — ছেলেটি ঝোপ বুঝে কোপ মেরেই সফল হয়েছে।
ট/ঠ
টনক নড়া (সজাগ হওয়া)— এবার ফেল করে ছেলেটির টনক নড়েছে।
টাকার গরম (অহংকার করা)— টাকার গরম বেশি দিন টেকে না।
টাকার কুমির (বড়লোক)— লোকটি টাকার কুমির কিন্তু হাড়কিপটে।
ঠোঁটকাটা (স্পষ্টবাদী)— সবসময় ঠোঁটকাটা হলে চলে না।

তাসের ঘর (ক্ষণস্থায়ী)— জীবনটি তাসের ঘর তাই সৎ হয়ে চলাই উচিত।
তিলকে তাল করা (ছোটকে বড় করা)— ঘটকরা সবসময় তিলকে তাল করে।
তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠা (রেগে যাওয়া)—রগচটা লোকরা সবসময় তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠে।
তালপাতার সেপাই (ছোটতে বড় শক্তি)— লোকটি ছোট হলে কী হবে একেবারে তালপাতার সেপাই।
তুষের আগুন (গোপন কষ্ট) —অন্যের ক্ষতি করলে তুষের আগুনে জ্বলতে হয়।
তেলে মাথায় তেল দেয়া (যার আছে তাকে আরো দেয়া) —সবাই তেলে মাথায় তেল দেয়।
দ/ধ/ন
দুধে মাছি (সুসময়ে বন্ধু/বসন্তের কোকিল)— দুধে মাছির মতো বন্ধু হইও না।
দুমোখো সাপ (এক মুখে দুরকম কথা)— দুমুখো সাপকে কেউ পছন্দ করে না।
দুধ কলা দিয়ে সাপ পোষা (যত্নে শত্রু পালা)— দুধ কলা দিয়ে সাপ পুষে লোকটি নিজের ক্ষতি করল।
দশের লাঠি একের বোঝা (সকলে যেটি সহজে করা যায়, একের পক্ষে সেটি বোঝা)— দশে মিলে করি কাজ হারি জিতি নাহি লাজ।
ধামা ধরা (তোষামদী করা)— টাকা থাকলে সবাই ধামা ধরে।
নাকে খৎ (প্রায়শ্চিত্ত করা)— ছেলেটিকে নাকে খৎ দিয়ে ছেড়ে দেয়া হলো।
ননীর পুতুল ((শ্রমবিমুখ/নরম স্বভাবের)— ননীর পুতুলকে দিয়ে কঠিন কাজ হবে না।
নাকে তেল দিয়ে ঘুমানো (নিশ্চিন্ত থাকা)— নাকে তেল দিয়ে ঘুমালে পরীক্ষা ভালো হবে?

পটল তোলা (অক্কা পাওয়া/মরে যাওয়া)— বাসের ধাক্কায় সে পটল তুলেছে।
পাকা ধানে মই দেয়া (প্রায় সফল কাজ নষ্ট করা)— পাকা ধানে মই দেয়ার মতো বড় ক্ষতি আর নাই।
পুকুর চুরি (বড় চুরি)— পরীক্ষায় নকল করাও পুকুর চুরি।
পুঁটি মাছের প্রাণ (ক্ষণস্থায়ী)— পুঁটি মাছের প্রাণ নিয়ে বড় কাজ সমাধান করা যাবে না।
ব/ভ
বইয়ের পোকা (খুব বই পড়ায় অভ্যস্ত ব্যক্তি)— আমার মা বইয়ের পোকা।
ব্যাঙের সর্দি (অসম্ভব ব্যাপার)— কৃষকের কষ্ট আর ব্যাঙের সর্দি একই কথা।
বুকের পাটা (দুঃসাহস)— বুকের পাটা থাকে তো কাজটি করে দেখাও।
ভেজা বেড়াল (কপট ব্যক্তি)— লোকটি দেখতে শান্ত হলেও আসলে ভেজা বেড়াল।

মগের মুল্লুক (অরাজকতা)— দেশটি কী মগের মুল্লুক যে যা ইচ্ছা তাই করবে।
মাটির মানুষ (নিরীহ)— আমার মা মাটির মানুষ।
মানিকজোড় (অন্তরঙ্গ ভাব)— মানিকজোড় বলেই তাদের গলায় গলায় ভাব।

হ-য-ব-র-ল (বিশৃংখল)— ভালো ছাত্ররা টেবিলে বই হ-য-ব-র-ল করে রাখে না।
হাতেখড়ি (শুরু/আরম্ভ)— শিশুর লেখা পড়ার হাতেখড়ি মাই দিয়ে থাকেন।
হাতে কলমে (প্রত্যক্ষভাবে)— হাতে কলমে শিক্ষা দেয়াই প্রকৃত শিক্ষা দেয়া।
হাত টান (চুরির অভ্যাস)— লোকটির হাত টানের অভ্যাস আছে।

Tuesday, 17 May 2016

বিপরীতার্থক শব্দ /Antonym

প্রদত্ত শব্দ বা মূলশব্দের বিপরীত অর্থ প্রকাশক শব্দকে বিপরীত শব্দ বলে। অথবা একটি শব্দের অর্থ যদি তার বিপরীত বা উল্টো বা নাবোধক হয় তাহলে সেই শব্দকে বিপরীত শব্দ বলে। অন্যভাবে বলা  যায়, পরস্পর বিপরীত ভাবার্থক দুটো শব্দকেই বিপরীত শব্দ বলে।
ড. সুনীতিকুমারের মতে, দুটি শব্দের অর্থ পরস্পর বিপরীত হইলে, শব্দ দুটিকে বলা হয় বিপরীতার্থক শব্দ।
ড. সুকুমার সেনের মতে, কোন শব্দ অন্য একটি শব্দের বিপরীত অর্থ প্রকাশ করলে সে শব্দ দুটিকে পরস্পরের বিপরীতার্থক বা বিপরীত শব্দ বলে।

বিপরীত শব্দের প্রয়োজনীয়তা
বিপরীত শব্দ বিভিন্নভাবে সাহায্য করে থাকে। যেমন : বিপরীত শব্দ বাক্যকে সুন্দর, স্পষ্ট, শ্রুতিমধুর করে। বাক্যের গুণ বা যোগ্যতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। এবং মনের ভাব যথাযথভাবে অল্প কথায় প্রকাশ করতে সহায়তা করে। যেমন: ‘লোকটির স্বভাব ভালো না’ বাক্যটি যেমন সৌন্দর্য বহন করে তারচে বেশি সৌন্দর্য বহন করে যদি বলি—লোকটি মন্দ স্বভাবের। তাই সরাসরি না শব্দটি ব্যবহার না করে বিপরীত শব্দ ব্যবহার করে বাক্যের সৌন্দর্য বজায় রাখা যায়।

বিপরীত শব্দ গঠন করার নিয়ম
বিভিন্নভাবে একটি শব্দের বিপরীত শব্দ গঠিত হয়। যেমন :
১. একটি শব্দের হুবহু বিপরীত শব্দ গঠিত হয়। যেমন : ভালো-মন্দ।
২. বিপরীত শব্দ বিশেষভাবে নাবোধক অর্থ প্রকাশ করে। যেমন : ভালো—মন্দ, সবর—নীরব।
৩. শব্দের উৎপত্তি অনুসারে বিপরীত শব্দ হয়। যেমন:
ক) সংস্কৃত ও সংস্কৃত শব্দের বিপরীত শব্দ হয়। যেমন : স্বেত—কৃষ্ণ।
খ) তদ্ভব ও তদ্ভব শব্দের বিপরীত শব্দ হয়। যেমন : সাদা—কালা।
গ) বিদেশি ও বিদেশি শব্দের বিপরীত শব্দ হয়। যেমন : ইহকাল—পরকাল।
৪. শব্দশ্রেণি অনুসারে বিপরীত শব্দ হয়। যেমন:
ক) বিশেষ্য ও বিশেষ্য শব্দের বিপরীত শব্দ হয়। যেমন : দিন—রাত।
খ) বিশেষণ ও বিশেষণ শব্দের বিপরীত শব্দ হয়। যেমন : ভালো—মন্দ, সবর—নীরব।
গ) ক্রিয়া ও ক্রিয়া শব্দের বিপরীত শব্দ হয়। যেমন : হাসি—কান্না।
ঘ) ক্রিয়াবিশেষণ ও ক্রিয়াবিশেষণ শব্দের বিপরীত শব্দ হয়। যেমন : প্রকাশ্যে—গোপনে।
৫. শব্দের গঠন  অনুসারে বিপরীত শব্দ হয়। যেমন:
ক) একটি শব্দের পূর্বে উপসর্গযুক্ত হয়ে বিপরীত শব্দ গঠিত হয়। যেমন : সুঅভ্যাস—কুঅভ্যাস।
খ) নরচিহ্ন ও নারী চিহ্ন বা নারী চিহ্ন ও নরচিহ্ন অনুসারে বিপরীত শব্দ গঠিত হয়। যেমন : ছেলে—মেয়ে, স্ত্রী—পুরুষ।
গ) কারক অনুসারে বিপরীত শব্দ গঠিত হয়। দুটি শব্দের কারক অক্ষুণ্ন থাকবে। যেমন : প্রভাতে-সন্ধ্যায় (অধিকরণ), আসলকে-নকলকে (কর্ম) যত্নে-অবহেলায় (করণ), নিজের-পরের (সম্বন্ধপদ)
ঘ) শব্দের পরে বা আগে শূন্য, না, বি, বে, অ, ছাড়া, হারা, হীন, বিহীন যুক্ত হয়ে বিপরীত শব্দ হয়। যেমন : যুক্তিপূর্ণ—যুক্তিশূন্য, জানা—না জানা, খোঁজ—নিখোঁজ, বিপদ—বিপদহীন।

নিয়ম অনুসারে নমুনা
উপসর্গযোগে   হাঁবোধক—নাবোধক
১. অ        : কারণে—অকারণে, বাধ্য—অবাধ্য, ভদ্র—অভদ্র, ব্যয়—অব্যয়, পুষ্টি—অপুষ্টি
২. অন        : অভিজ্ঞ—অনভিজ্ঞ, আদর—অনাদর, অবসর—অনবসর, ন্যায়—অন্যায়
৩. অনু—বি     : অনুরাগ—বিরাগ, অনুরক্ত—বিরক্ত
৪. অনু—প্রতি    : অনুকূল—প্রতিকূল, অনুলভ—প্রতিলভ
৫. আ—প্র     : আদান—প্রদান
৬. আ—নির    : আনন্দ—নিরানন্দ/বেদনা, আশা—নিরাশা, আগমন—নির্গমন
৭. আ—ব      : আকর্ষণ—বিকর্ষণ
৮. অতি—অনা   : অতিবৃষ্টি—অনাবৃষ্টি
৯. অভি—নির   : অভিমান—নিরভিমান
১০. উৎ—অপ   : উৎকর্ষ—অপকর্ষ, সংস্কৃতি—অপসংস্কৃতি
১১. না       : মঞ্জুর—নামঞ্জুর, লায়েক—নালায়েক, জায়েজ—নাজায়েজ, হক—নাহক
১২. নির /নিঃ   : দোষি—নির্দোষ, ধনি—নির্ধন
১৩. বি       : তর্ক—বিতর্ক, পক্ষে—বিপক্ষে, মূর্ত—বিমূর্ত, স্মৃতি—বিস্মৃতি
১৪. বে       : আদব—বেয়াদব, কায়দা—বেকায়দা, দখল—বেদখল, সরকারি —বেসরকারি,
    রসিক—বেরসিক, দরদি—বেদরদি, সামাল—বেসামাল, ফাস—বেফাস
১৫. গর       : মিল—গরমিল/অমিল
১৬. সু—কু     : সুঅভ্যাস—কুঅভ্যাস
১৭. স্ব—কু     : স্বভাব—কুভাব
১৮. সু—দুঃ     : সুসময়—দুঃসময়, সুশাসন—দুঃশাসন
১৯. স—দুঃ/দুর  : সবল—দুর্বল
২০. স—অ     : সসীম—অসীম, সম্ভব—অসম্ভব, সবাধ্য/বাধ্য—অবাধ্য, স্বচ্ছ—অস্বচ্ছ,
              সম্মান—অসম্মান, সক্ষম—অক্ষম, সচল—অচল
২১. স—নি     : সদয়—নির্দয়, সবাক—নির্বাক, সাক্ষর—নিরক্ষর, সলাজ—নিলাজ
২২. সং/সম—বি  : সংযুক্ত—বিযুক্ত, সংশ্লিষ্ট—বিশ্লিষ্ট
২৩. সং/সম—প্রসা : সংকুচিত—প্রসারিত
২৪. যুগল শব্দে   : সত্য—মিথ্যা, জীবিত—মৃত, বেহেস্ত —দোজখ, স্বর্গ—নরক, আকাশ—পাতাল
২৫. ভিন্নশব্দ
    দিয়ে     : অগ্র—পশ্চাৎ, অগ্রিম—বকেয়া, অতীত—ভবিষ্যত, ভেতর /অন্তর—বাহির,
             আলো—অন্ধকার, সুন্দর—কুৎসিত/অসুন্দর, উত্থান—পতন, শত্রু—মিত্র,
             মূর্খ—জ্ঞানি, থামা—চলা।
২৬. শূন্য, হীন,
    না, ছাড়া,
    হারা, বিহীন
    ইত্যাদি যোগে : যুক্তিপূর্ণ—যুক্তিশূন্য, জানা—না জানা, খোঁজ—নিখোঁজ, পূন্যবান—পূন্যহীন,
     শূন্য/খালি—পূর্ণ/ভরাট, বিপদ—বিপদহীন।
২৭. পর্যায়মূলক
   বিপরীত শব্দ : ছোট—বড়, ধনি—গরিব, উঁচু—নিচু, না গরম—না ঠান্ডা/গরমও নয়, ঠান্ডাও নয়, খুব গরমও নয়, খুব ঠান্ডাও নয়।
নমুনা
মূলশব্দ   বিপরীত শব্দ        মূলশব্দ      বিপরীত শব্দ       মূলশব্দ      বিপরীত শব্দ
অগ্র      পশ্চাৎ         অদৃশ্য       দৃশ্য             অমৃত       গরল
অধম     উত্তম          অন্তরালে      প্রকাশ্যে           অগ্রজ       অনুজ
অধঃ     ঊর্ধ্ব          অবিকৃত      বিকৃত           অনুরাগ      বিরাগ
আদায়    অনাদায়        অগ্রসর      পশ্চাদপ সরণ       অন্তর       বাহির
অনুলম    প্রতিলম        অল্পবয়স্ক          পরিণতবয়স্ক        অনুগ্রহ      নিগ্রহ
আলো     অন্ধকার        আলোকে      অন্ধকারে          আকর্ষণ      বিকর্ষণ
আজগুবি   সত্য                আশা       নিরাশা           আচার      অনাচার
আসা     যাওয়া         আত্মীয়      অনাত্মীয়                ইতি        শুরু
উৎকর্ষ    অপকর্ষ         ঐচ্ছিক      অনৈচ্ছিক           ঈর্ষা       প্রীতি                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                           
অস্ত      উদয়          ওখানে      এখানে            উৎকৃষ্ট      নিকৃষ্ট
উপসর্গ    অনুসর্গ         ক্ষীণা       স্থুলা              খোঁজ       নিখোঁজ
চয়ন     অপচয়ন        টানা        ঠেলা
খুঁত      নিখুঁত         চপল       গম্ভীর             টাটকা      বাসি
গুরু     লঘু            ছেঁড়া       ভালো            ঠান্ডা       গরম
গোপনীয়   প্রকাশ্য         জাগ্রত       সুপ্ত              ত্যাগ       গ্রহণ
বিষ      অমৃত          মৌলিক      যৌগিক            শ্রেষ্ঠ        নিকৃষ্ট
সঞ্চয়     খরচ          হায়াত      মউত             হাল        সাবেক
স্বার্থ      পরার্থ          হাসা/হাসি    কান্না             হরণ        পূরণ

ভিন্নার্থক শব্দ বা সমোচ্চারিত বা প্রায়সমোচ্চারিত শব্দ

যেসব শব্দের উচ্চারণ প্রায় এক কিন্তু বানান ও অর্থ ভিন্ন সেসব শব্দকে সমোচ্চারিত শব্দ বলে। অন্যভাবে বলা যায়, উচ্চারণে অভিন্ন এবং অর্থে ভিন্ন যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হয় তাকে সমোচ্চারিত শব্দ বলে।
লিখতে গেলে আমরা কিছু শব্দের বানান নিয়ে সংশয়ের মধ্যে থাকি। যেসব বানান প্রায় এক কিন্তু অর্থ আলাদা। জাদুর চুড়ি পরে সে প্রতিরাতেই চুরি করতে যায়। চুড়ির স্থান বদল হলে বাক্যের কী হাল হবে! এরা শুধু অর্থকেই ঠিকরাখে না, এরা বাক্যে বসে বাক্যকে সুন্দর ও অলংকারমণ্ডিত করে।

সমোচ্চারিত শব্দের প্রকরণ
১. সমধ্বনি: ণন, শ—ষ—স, উ—ঊ ইত্যাদি দ্বারা শব্দ গঠিত হতে পারে। যেমন: শোনা— সোনা।
২. সমরূপ : যার বানান ও উচ্চারণ এক কিন্তু অর্থ ভিন্ন। যেমন: চাল—চাল, উত্তর—উত্তর, মাথায়—মাথায়।

সমোচ্চারিত শব্দের প্রয়োজনীয়তা
সমোচ্চারিত শব্দ বিভিন্নভাবে বাক্যকে সাহায্য করে থাকে। সমোচ্চারিত শব্দ সঠিক বাক্য ও বাক্যের সঠিক অর্থ রক্ষা করা ছাড়াও অন্যান্য প্রয়োজনীয়তা রক্ষা করে। দেশীয় ভাষাকে সমৃদ্ধ করতে, বক্তৃতার বক্তব্য আকর্ষণীয় করতে, বাক্যকে অলংকারমণ্ডিত করতে, অর্থের বিপর্যয় থেকে বাক্যকে রক্ষা করতে, বাক্যের ভাব— অর্থ রক্ষা করতে, ভুল বানান থেকে রক্ষা করে এবং বাক্যে যমক অলংকার ব্যবহার করতে সাহায্য করে।

কতিপয় শব্দের নমুনা
সমোচ্চারিত শব্দ অর্থ       বাক্যরচনা

অন্ন   (ভাত)          — দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্ব গতিতে মানুষের মুখে অন্ন ওঠা দায়।
অন্য (অপর)         — সংস্কার, সংস্কার বাদ দিয়ে দুটো অন্য কথা বল।

অনু   (পশ্চাৎ)         — এই দেশে এক সময় স্ত্রীলোকদের মৃত স্বামীর চিতায় অনুগমন করতে হতো।
অণু   (ক্ষুদ্রতম অংশ)     — এটুকু ভাতে আমার পেটের অণুটুকুও ভরবে না।

অনিষ্ট (ক্ষতি)          — অন্যের অনিষ্টের চিন্তা কখনো মনে এনো না।
অনিষ্ঠ (নিষ্ঠাহীন)       — লেখা পড়ায় অনিষ্ঠ হলে পাশ করতে পারবে না।

অংশ (ভাগ)          — বাপের জমির অংশ মেয়েরাও ছাড়বে না।
অংস (কাঁধ)          — বিপদে দূরে সরে না থেকে অংস মেলাও।

অর্ঘ   (মূল্য)          — তোমার একাজের অর্ঘ দেওয়ার সাধ্য আমার নাই।
অর্ঘ্য (পূজার উপকরণ)   — মানুষের জন্য কাজ করলে তারা তোমার পায়ের কাছে অর্ঘ্য সাজাবে।

অশ্ব   (ঘোড়া)         — শুয়ে পড়ো, অশ্বের মতো দাঁড়িয়ে ঘুমিয়ো না।
অশ্ম (পাথর)         — অশ্মে মাথা ঠুকে লাভ নাই, চল বাড়ি যাই।

অশক্ত (দুর্বল)          — বিপদে অশক্ত হতে নাই।
অসক্ত (আসক্তিহীন)      — বইয়ে অসক্ত হলে ছাত্রজীবন বৃথা হবে।


অনিল (বাতাস)         — গুমোট গরমে অনিল এসে প্রাণ জুড়াল।
অনীল (যা নীল নয়)     — আকাশ কী কখনো অনীল হয়।

অভ্যাস      (বারবার চেষ্টা)— পরীক্ষা কাছে রাত জেগে পড়ার অভ্যাস করো।
অভ্যাশ      (নিকট)    — অংক অভ্যাস কর, পরীক্ষা অভ্যাশে।
১০
অবধ্য (বধের অযোগ্য)    — মানুষ মানুষের অবধ্য।
অবোধ্য (যা বোঝা যায় না) — অবোধ্য তত্ত্ব কথা সব জায়গায় বল না।
১১
অপরিণত (যা পরিণত হয়নি) — অপরিণত বয়সে এ বই পড়ে কিছুই বুঝবে না।
অপরিণীত (অবিবাহিত)    — বিধবার ঘরে অপরিণীত দুটো মেয়ে আছে।
১২
অন্ত   (শেষ)          — সংসারে কাজের অন্ত নাই।
অন্ত্য (যা অন্তে আছে)    — অন্ত্যেষ্টি ক্রিয়া শেষেই মানুষের শোক নিঃশেষ হয়ে যায়।
১৩
অন্যন্য      (অপরাপর) — অন্যন্যের সঙ্গেই তার ভাল সম্পর্ক আছে।
অন্যোন্য (পরস্পর)       — অন্যোন্যের প্রতি ভালোবাসায় মানুষের সুখ।
১৪
অন্নপুষ্ট (ভোজনপুষ্ট)      — এ আকালে অন্নপুষ্ট মানুষ নাই।
অন্যপুষ্ট (কোকিল)       — কাকের বাসায় কোকিলের ছা অন্যপুষ্ট হয়।
১৫
অবদান (সৎকর্ম)        — মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান অনস্বীকার্য।
অবধান (মনোযোগ)      — স্বাধীনদেশের মান বাড়াতে আমাদের অর্থনৈতিক মুক্তিতে অবদান দিতে হবে।
১৬
অবিরাম (অনবরত)      — অবিরাম চেষ্টা মানুষকে সফলতা এনে দেয়।
অভিরাম (সুন্দর)        — পোশাকে নয়নাভিরাম সেজো না, মনের দিকে অভিরাম হও।
১৭
অপচয়      (ক্ষতি)          — সময়ের অপচয় করলে জীবন নষ্ট হয়।
অবচয়      (চয়ন)          — সবকিছুতেই সৌন্দর্য অবচয়ন করতে হবে।
১৮
অবিনীত (উদ্ধত)   — অবিনীত সন্তান মা—বাবার মর্যাদা নষ্ট করে।
অভিনীত (অভিনয় করা হয়েছে)— অনেক সময় নাট্যদলের অভিনীত মঞ্চনাটক দর্শকের মনে আশা জাগায়।
১৯
অজগর (সাপ)     — অজগর অলস প্রকৃতির।
অজাগর (নিদ্রা)    — মা অজাগর ছেলেকে কোলে নিয়ে বসে আছে।
২০
অপগত (দূরীভূত)   — অপরের দুঃখ অপগত করতে জীবন বিলিয়ে দাও।
অবগত (জানা)    — দেশসেবা করতে চাইলে দেশ সম্পর্কে অবগত হওয়া চাই।
২১
আদি (মূল)      — চর্যাপদ বিাংলার আদি ভাষা।
আধি (মনঃকষ্ট)   — আধি গোপন না করে খোলা মেলা আলোচনা করা ভালো।
২২
আশা (ভরসা)    — ছাত্রদের উপর দেশের মানুষের অনেক আশা।
আসা (আগমন)   — আজ তার বাড়িতে আসা হবে না।
২৩
আবাস      (বাসস্থান)   — ঢাকা শহরে অনেক মানুষের আবাস নাই, তারা ফুটপথে থাকে।
আভাস (ইঙ্গিত)    — পুলিশের আভাসেই চোরটা পালিয়ে গেল।
২৪
আবরণ (আচ্ছাদন) — ছাতার আবরণে রোদ— বৃষ্টি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
আভরণ (অলংকার) — আভরণের লোভ দেখিয়ে মেয়েদের ঘরে আটকিয়ে রাখা যাবে না।
২৫
আপন (নিজ)     — আপন কাজে কেউ ফাঁকি দেয় না।
আপন (দোকান)   — আপন থেকে লবণ কিনে আনো।
২৬
আষাঢ় (মাস বিশেষ) — বাংলাদেশে আষাঢ়ে প্রচুর বৃষ্টি হয়।
আসার      (প্রবল বৃষ্টিপাত)— আসার বন্যার অন্যতম কারণ।
২৭
উপাদান (উপকরণ) — আমাদের দেশে কৃষি উপাদান সহজলভ্য।
উপাধান (বালিশ)   — উপাধানে মাথা রেখে ঘুমাও।
২৮
ওষধি (যে গাছ একবার ফল দিয়ে মারা যায়)— ধান ওষধি গাছ।
ওষধি (ভেষজ উদ্ভিদ) — ওষধির পর্যাপ্ত চাষ বাংলাদেশের জন্য জরুরি।
২৯
কূল   (তট)      — নদিকূলে বসে সূর্যাস্ত দেখতে ভালো লাগে।
কুল   (বংশ)     — উঁচুকুল জন্মালেই ভালো মানুষ হওয়া যায় না।
৩০
কাক  (পাখি বিশেষ) — কাক কালো হয়।
কাঁখ (কোমর)    — কাঁখে কলসি গ্রামীণ বধূর প্রাচীন ছবি।
৩১
কালি (লেখার রং)      — কালো কালিতে ভালো লেখা হয়।
কালী (সনাতন ধর্মের দেবী) — কালী শক্তির প্রতীক।
৩২
ক্রীত (কেনা হয়েছে যা)   — শ্রমিকেরা ক্রীতদাস নয়।
কৃত   (করা হয়েছে যা)   — প্রত্যেক মানুষ নিজের কৃতকর্মের ফল ভোগ করে।
৩৩
কপাল  (ললাট)         —কপাল ভালোমন্দ বলে কিছু নাই কাজ করলে ফল লাভ করা যায়।
কপোল      (গণ্ডদেশ)        — জ্বর এলে কপোলে হাত দিয়ে তাপমাত্রা বোঝা যায়।
৩৪
খাট   (পালঙ্ক)         — খাটতো দূরের কথা আমাদের দেশে বহু মানুষের ঘরই নাই।
খাটো (বেঁটে)          — আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ খাটো প্রকৃতির।
৩৫
খুর   (পশুর পায়ের তলদেশ) — গরুর খুরের নিচে পা পড়লে মানুষের পা থেতলে যায়।
ক্ষুর   (চুল দাড়ি কামাবার অস্ত্রবিশেষ)—এখন ক্ষুরের চেয়ে বে¬ড দিয়েই বেশি মানুষ শেভ করে।
৩৬
গা    (শরীর)         — কৃষকের গা রোদে পুড়ে তামাটে হয়।
গাঁ    (গ্রাম)          — গাঁয়ের মানুষ সহজসরল হয়।
৩৭
গাদা (রাশি, স্তুপ)      — কৃষক ধান কেটে গাদা দিয়েরাখে।
গাধা (গর্ধভ)         — গাধার সামনে মূলা ঝুলিয়ে ভারটানা সহজ।
৩৮
গোকুল      (বৃন্দাবন)   — কৃষ্ণ গোকুলে বাঁশি বাজায়।
গোকুল      (গরুজাতি) — গোকুল আমাদের গৃহপালিত পশু।
৩৯
ঘোড়া (অশ্ব)          — ঘোড়ার গায়ে শক্তি বেশি।
ঘোরা (বিচরণ)        — রোদে বেশি ঘোরাঘুরি করা স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর।
৪০
চাখড়ি (খড়িমাটি)       — চাখড়ি দিয়ে কাপড়ে দাগকাটা যায়।
চাকরি (বেতনের বিনিময়ে কাজ)— চাকরিতে স্বাধীনতা নাই।
৪১
চাল   (ঘরের চালা)      — গ্রামেও এখন আর খড়ের চালের প্রচলন নাই।
চাল   (চাউল)         — চালের বাজারে এখন সরকারের কোন নিয়ন্ত্রণ নাই।
৪২
চির   (দীর্ঘকাল)        — চিরদিন কেউ বেঁচে থাকে না।
চীর   (ছেঁড়া কাপড়)     — চীর হলেও পরিষ্কার করে পরতে হয়।
৪৩
ছার   (অধম)         — সে আবার কোন ছার, তাকে কুর্নিশ করতে হবে।
ছাড় (অনুমতি)        — অশালীন সিনেমা প্রদর্শণীয় ছাড়পত্র বাতিল করতে হবে।
৪৪
ছাদ   (আচ্ছাদন)       — ছাদে উঠলেই চাঁদে যাওয়া যায় না।
ছাঁদ   (আকৃতি, গঠন)    — পৃথিবীতে নানা ছাঁদের মানুষ দেখা যায়।
৪৫
জল   (পানি)          — জলের কোন রং নেই।
জ্বল   (দীপ্তি)          — রাতে ঝোপে ঝোপে জোনাকির আলো জ্বলজ্বল করে।
৪৬
জাম (ফলবিশেষ)      — পাকা জামের রস মধুর।
যাম   (অংশ)          — দিবসের দ্বিতীয় যামে তোমার সঙ্গে দেখা হবে।
৪৭
জিব (জিহ্বা)          — কুকুরের জিব দিয়ে লালা পড়ে।
জীব (প্রাণী)          — বুদ্ধির জোরেই জীব জগতে মানুষ শ্রেষ্ঠ।
৪৮
জ্যোতি (আলো)         — চাঁদের নিজের কোন জ্যোতি নাই।
যতি (ছেদ)          — কাজে যতি দেওয়া মানে কাজবন্ধ করা নয়।
৪৯
টিকা (রোগের প্রতিষেধক) — টিকা দিলে অনেক রোগের আক্রমন থেকেরক্ষা পাওয়া যায়।
টীকা (ব্যাখ্যা)         — অবোধ্য লেখায় টীকা টিপ্পনি জুড়ে স্পস্ট করতে হয়।
৫০
টেকা (সয়ে থাকা)      — দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে গরিব মানুষের টেকা দায়।
টেক্কা (প্রতিযোগিতা)     — হস্তশিল্প যন্ত্রশিল্পের সঙ্গে টেক্কা দিয়ে টিকতে পারে না।
৫১
ঠক   (ধ্বনিবিশেষ)      — ঠকঠক শব্দ করে সে অন্ধকার রাস্তায় হেঁটে চলে।
ঠক   (প্রতারক)        — ঠক মানুষকে কেউ শ্রদ্ধা করে না।
৫২
ডোল (ভাণ্ড)               — ডোলে ধান চাল রাখা হয়।
ঢোল (বাদ্যযন্ত্র)        — ঢাক ঢোল বাজিয়ে আসর জমিয়ে নিলো।
৫৩
ডাল (শাখা)          — ঝড়ের সময় গাছের ডাল ভেঙ্গে পড়ে।
ডাল (খাদ্যবিশেষ)      — গরিবের ডালভাত খেয়ে দিন কাটে।
৫৪
ঢাল   (আঘাত প্রতিরোধ করার অস্ত্র)—ঢাল দিয়ে সে তীরের আক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করল।
ঢাল   (ঢালু জমিবিশেষ)   — পাহাড়ের ঢালে ঢালে জুম চাষ হয়।
৫৫
দিন   (দিবস)         — দিন যেয়ে রাত আসে।
দীন   (দরিদ্র)         — দীনে দয়া করা মানুষের ধর্ম।
৫৬
দেশ   (ভূখণ্ড)         — অনেক শহিদের রক্তের বিনিময়ে আমাদের দেশ স্বাধীন হয়েছে।
দ্বেষ   (হিংসা)         — দ্বেষ মানুষকে ধবংস করে।
৫৭
দীপ   (আলো)         — মঙ্গলদীপ জ্বালিয়ে শুভ কামনা করা হয়।
দ্বীপ   (জলবেষ্টিত স্থলভাগ) — ভোলা বাংলাদেশের বৃহত্তম বদ্বীপ।
৫৮
ধনী   (বিত্তশালী)       — ধনী মানুষের ধনের লোভ অপরিসীম।
ধ্বনি (আওয়াজ)       —১৯৭১ সালে ‘জয়বাংলা’ ধ্বনি রাজাকারদের আতঙ্কিত করে তুলত।
৫৯
ধরা   (পৃথিবী)         — ধনে ধান্যে ভরা আমাদের এই ধরা।
ধড়া (কটি বস্ত্র)      — ধড়া পরে তাকে অসহায় মনে হচ্ছে।
৬০
ধাতৃ (বিধাতা)        — মানুষের মাঝেই ধাতৃ নিজেকে লুকিয়ে রাখেন।
ধাত্রী (দাই)          — ধাত্রী মা শিশুটিকে লালনপালন করেন।
৬১
নীর   (পানি)          — বানের নীর মানুষের দুঃখের কারণ।
নীড় (পাখির বাসা)     — কোকিল নীড় বানাতে পারে না।
৬২
নিতি (রোজ)         — নিতি দিন তোমার কাছে আমার প্রার্থনা।
নীতি (নিয়ম)         — দেশ পরিচালনার নীতিই রাজনীতি।
৬৩
নিত্য (প্রতিদিন)        — সে নিত্য এখানে আসা যাওয়া করে।
নৃত্য (নাচ)          — ছোট শিশুটির নৃত্য সবাইকে মুগ্ধ করেছে।
৬৪
নিরাশ (আশাহীন)       — নিরাশ মানুষকে সফল হতে দেয় না।
নিরাস (প্রত্যাখ্যান)       — দুর্নীতিকে মানুষ নিরাস করেছে।
৬৫
নিরস্ত্র (অস্ত্রহীন)— ২৫ মার্চ কালরাত্রিতে নিরস্ত্র বাঙালিদের উপর গুলি চালিয়েছে পাকিস্তানি সৈন্য।
নিরস্ত (ক্ষান্ত)     — শহিদ হয়েছে তবু যুদ্ধে বাঙালি নিরস্ত হয়নি।
৬৬
প্রদান (দেওয়া)    — ভিয়েতনাম সরকার দুজন বাংলাদেশিকে বীরশ্রেষ্ঠ উপাধি প্রদান করেছে।
প্রধান (বড়, শ্রেষ্ঠ) — ভাত বাংলাদেশের প্রধান খাদ্য।
৬৭
পরা   (পরিধান)        — আদিম মানুষ কাপড় পরত না।
পড়া (পাঠ করা)       — বই পড়া মজার কাজ।
৬৮
পান   (পাতা বিশেষ)     — পাহাড়ে পানের চাষ ভালো হয়।
পান   (পান করা)       — ধূমপান বদ অভ্যাস।
৬৯
প্রসাদ (অনুগ্রহ)        — প্রসাদ নয়, গরিবকে তার প্রাপ্য অধিকার দিতে হবে।
প্রাসাদ (বড় দালান)      — ঢাকা শহরে প্রাসাদের অভাব নাই।
৭০
পালক (পাখির ডানার অংশ) — পালক পাখিকে শীত ও তাপ থেকে রক্ষা করে।
পলক  (মুহূর্ত, অল্প সময়)      — পারমাণবিক বোমা এক পলকে আমাদের পৃথিবীকে ধবংস করে দিতে পারে।
৭১
পরভৃত      (কোকিল)   — বসন্তে পরভৃত ডাকে।
পরভৃৎ      (কাক)     — পরভৃৎ কাকা করে।
৭২
ফি   (প্রত্যেক)        — ফিবছর আমরা নববর্ষ উদযাপন করি।
ফি   (বেতন)         — ফি বৃদ্ধি করে শিক্ষাকে পণ্য বানানো হচ্ছে।
৭৩
বর্ষা   (ঋতুবিশেষ)      — বর্ষাকালে মাঠঘাট পানিতে ভরে যায়।
বর্শা   (অস্ত্রবিশেষ)      — বর্শার আঘাতে মানুষের মৃত্যু হয়।
৭৪
বান   (বন্যা)          — বানভাসী মানুষের পাশে দাঁড়াও।
বাণ   (শর)          — বানবিদ্ধ হরিণ শাবক ছটফট করতে করতে মারা গেল।
৭৫
বল   (শক্তি)          — খাদ্য শরীরের বল বৃদ্ধি করে।
বল   (খেলার বল)      — চার বছর পরপর বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হয়।
৭৬
বিনা (ব্যতীত)        — বিনা কারণে কার্য হয় না।
বীণা (বাদ্যযন্ত্র)        — বীণার সুরে মানুষ আনন্দ পায়।
৭৭
বিষ   (গরল)          — আর্সেনিক এক প্রকার বিষ।
বিশ   (কুড়ি)          — বিশ টাকায় এখন এক কেজি আলুও কিনতে পাওয়া যায় না।
৭৮
ভাষণ (উক্তি, কথন, বক্তব্য) — মিথ্যা ভাষণে মানুষকে আর বিভ্রান্ত করা যাবে না।
ভাসন (দীপ্তি)          — সূর্যের আলয় সোনা ভাসন ছড়ায়।
৭৯
ভারা (স্তূপাকার)        — ধান কাটা শেষে চাষিরা ভারা করে রাখে।
ভাড়া (মাশুল)         — এখন বাসের ভাড়াও মানুষের অসহনীয়।
৮০
মন   (অন্তর, হৃদয়)     — মনই মানুষের শ্রেষ্ঠ সম্পদ।
মণ   (চল্লিশ সের)      — পরিমাপের জন্য এখন আর মণ ব্যবহার করা হয় না।
৮১
মাস   (ত্রিশ দিন)      — বারমাস সে এখানে থাকে।
মাষ   (কলাই)         — মাষকলাই ডাল খেতে ভালো।
৮২
মুখ   (বদন)     — পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জিতে ক্রিকেটাররা বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে।
মুক   (বোবা)         — মুক মানুষ কথা বলতে পারে না।
৮৩
মরা   (মৃত)          — মরা মানুষ পানিতে ভেসে ওঠে।
মড়া (শবদেহ)        — মড়াকে তাড়াতাড়ি সৎকার করাই ভালো।
৮৪
মূর্খ   (জ্ঞানহীন)       — মূর্খ মানুষের কান্ডজ্ঞান থাকে না।
মুখ্য   (প্রধান)         — মেধা নয়, টাকাই শিক্ষা গ্রহনের জন্য মুখ্য বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে এখন।
৮৫
মোড়ক      (আচ্ছাদন)   — বিজ্ঞাপনের মোড়কে পন্যের গুণ বোঝা যায় না।
মড়ক (মহামারি)        — আগে মড়ক লেগে গ্রামের পর গ্রাম উজাড় হয়ে যেত।
৮৬
যোগ্য (উপযুক্ত)        — মন্ত্রীর ছেলে চোর যোগ্য বাপের যোগ্য পুত্র বটে।
যজ্ঞ   (যাগ, উৎসব)     — বিজয় দিবস বাঙালিদের মিলনযজ্ঞ।
৮৭
রচক (রচয়িতা)        — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমাদের জাতীয় সঙ্গীতের রচক।
রোচক (উপভোগ্য)      — মুখরোচক হলেই খাদ্য পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ হয় না।
৮৮
রাধা (রাধিকা)        — রাধা কৃষ্ণের লীলা বৈষ্ণব মতে ভগবত লীলা।
রাঁধা (রন্ধন করা)      — যে ভাতরাঁধে সে চুলও বাধে।
৮৯
লক্ষ   (সংখ্যা বিশেষ)     — লক্ষ লক্ষ মানুষ মাঠে নেমেছে।
লক্ষ্য (দৃষ্টি, উদ্দেশ্য, গন্তব্যস্থল) — স্বাধীনতা পরবর্তী সংবিধানই আমাদের লক্ষ।
৯০
লব্ধ   (লাভ করা)      — জ্ঞানলব্ধ মানুষ পথ চিনতে ভুল করে না।
লুব্ধ   (আকৃষ্ট)         — মানুষের পোশাক দেখে অনেকেই লুব্ধ হয়।
৯১
লক্ষণ (চিহ্ন)          — নিয়মিত লেখাপড়া করা ভালো ছাত্রের লক্ষণ।
লক্ষ্মণ (রামের ভাই)     — রাম লক্ষ্মণ সহোদয়।
৯২
শক্ত   (কঠিন)         — কাদা মাটি নরম হলেও গুড়িয়ে ইট শক্ত হয়।
সক্ত   (আসক্ত)         — মাদকাসক্ত সন্তান মা— বাবার কষ্টের কারণ।
৯৩
শয্যা (বিছানা)        — শয্যা বিছিয়ে সে ঘুমিয়ে গেলো।
সজ্জা (সাজ)          — বর সজ্জায় তাকে বেশ মানিয়েছে।
৯৪
শীত (শীতল)         — উত্তরবঙ্গে শীত বেশি পড়ে।
সিত (সাদা)          — সিত কাগজে ইচ্ছামত লেখা হয় না।
৯৫
শব   (মৃতদেহ)        — সব ধর্মেই শব সৎকারের কথা আছে।
সব   (সকল)         — সব মানুষের মুখে ভাত যোগানোর দায়িত্ব সরকারের।
৯৬
শিকার      (মৃগয়া)         — শিকার করা অনেক মানুষের শখ।
স্বীকার      (মেনে নেওয়া)     — ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সৈন্য পরাজয় স্বীকার করে।
৯৭
সর্গ   (অধ্যায়)        — বইটি পাঠ সর্গে সাজানো।
স্বর্গ   (বেহেশত)        — মাতৃভূমি মানুষের কাছে স্বর্গের সমান।
৯৮
সহিত (সঙ্গে)          — পণ্যের সহিত ফ্রি দেওয়া বিক্রয় কৌশল।
স্ব—হিত (নিজ কল্যাণ)    — পাগলেও স্ব-হিত বোঝে।
৯৯
সাড়া (সংকেত)        — বিড়ালের সাড়া পেয়ে ইঁদুরটি পালিয়ে গেল।
সারা (সমাপ্ত)         — কাজ সারা হলেই ঘরে ফিরব।
১০০
সাক্ষর (শিক্ষিত, অবদান) — আমাদের দেশে সাক্ষর মানুষ কম।
                      /সাহিত্যে তিনি সাক্ষর রেখেছেন।
স্বাক্ষর (নামসই)        — আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষই স্বাক্ষর করতে জানে না।
১০১
হুতি (হোম)          — পুরোহিত অগ্নিতে সৃতাহুতি দিয়ে মন্ত্র পাঠ শুরু করলেন।
হূতি   (আহবান)        — শ্রমিক অহূতিতে আগামিকাল ধর্মঘট।
১০২
হাড়   (অস্তি)     — হাড়ই সম্বল, তার শরীরে মাংস নাই বললেই চলে।
হার   (পরাজয়)   — প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে শেষ পর্যন্ত কাউকে না কাউকে হার মানতেই হয়।
১০৩
হাঁস   (হংস)     — হাঁস পানিতে সাতাঁর কাটে।
হাস   (হাসি)     — হাসতে পারলে মন ভালো থাকে।

সমার্থক শব্দ বা প্রতিশব্দ

একই বা সমান অর্থের শব্দকে প্রতিশব্দ বা সমার্থক শব্দ বলে। অথবা এমন অনেক শব্দ আছে যাদের অর্থ একই কিন্তু উচ্চারণ ভিন্ন, সেসব শব্দকে সমার্থক শব্দ বলে। অথবা মেয়ে, মেয়েমানুষ, মেয়েছেলে, মাইয়া, কনে, কন্যা, ঝি, বেটি, ঝিউরি, ঝিয়ারি, পুত্রী, দুহিতা, আত্মজা, দুলালী, কুমারী, নন্দিনী, তনয়া, তনুজা, পুত্রিকা, দারিকা ইত্যাদি শব্দগুলো একই অর্থ প্রকাশ করে তাই এগুলো সমার্থক শব্দ। অথবা Synonym is a word which expressingthe same meaning with another /Expressing the same meaning words is called synonym or similar word|
সমার্থক শব্দের প্রয়োজনীয়তা
ভিন্নভিন্ন ভাষার শব্দ থেকে আগত শব্দ, অর্থের দিক দিয়ে এক হলেও অর্থ দ্যোতনার দিক খেয়াল রেখে শব্দ ব্যবহার করা উচিত। যেমন: জল ও পানি একই অর্থবোধক শব্দ কিন্তু জলচ্ছ্বাসকে পানিচ্ছ্বাস লিখলে বাক্যের গুণ নষ্ট হয়। সমার্থক শব্দের ব্যবহার খুব জরুরি। যেমন : দেশি ভাষাকে সমৃদ্ধ করতে, বক্তৃতা ও বক্তব্য আকর্ষণীয় করতে, একই শব্দের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করতে, বাক্যকে সহজ, সুন্দর, বলিষ্ঠ, প্রাঞ্জল ও সমৃদ্ধ করতে, বাক্যে শাব্দিক সৌন্দর্য, গুণ, বৈচিত্র্য এবং প্রকাশশৈলীতে অভিনবত্ব আনতে, বাক্যকে অলংকারমণ্ডিত করতে, ছড়াকবিতার ছন্দের মাত্রা ঠিক রাখতে এবং কবিতার মিল দিতে এবং একই শব্দের বার বার প্রয়োগজনিত সমস্যার হাত থেকে রক্ষা করতে সমার্থক শব্দের ব্যবহার জরুরি।
সমার্থক শব্দের নমুনা
স্বরবর্ণ
অ বর্ণ
১. অবকাশ   — অবসর, ছুটি, ফুরসত, সময়, সুযোগ
২. অপূর্ব    — অদ্ভুত, আজব, আশ্চর্য, তাজ্জব, চমৎকার
৩. অকস্মাৎ — আচমকা, আকস্মিক, সহসা, হঠাৎ
৪. অকাল    — অসময়, অবেলা, অদিন, কুদিন, দুঃসময়
৫. অক্লান্ত    — অদম্য, ক্লান্তি হীন, নিরলস, পরিশ্রমী
৬. অŸম    — অসমর্থ, অপটু, অদক্ষ, অযোগ্য, দুর্বল
৭. অঙ্গীকার — পণ, প্রতিশ্রুতি, প্রতিজ্ঞা, শপথ, সংকল্প
৮. অচেতন — অজ্ঞান, অসাড়, জ্ঞানশূন্য, জ্ঞানহীন, বেহুঁশ
৯. অজ্ঞ    — অশিক্ষিত, অজ্ঞানী, মূর্খ, নির্বোধ, বেকুব
১০. অতিরিক্ত      — অনেক, প্রচুর, পর্যাপ্ত, বেশি, মেলা
১১. অতীত — গতদিন, তৎকাল, পূর্ব, সেকাল, পূর্বকাল
১২. অত্যাচার      — উপদ্রব, নিপীড়ন, নির্যাতন, জুলুম, লাঞ্ছনা
১৩. অদৃশ্য   — অগোচর, অদেখা, অদৃষ্ট, অলক্ষ্য, না দেখা
১৪. অধিবেশন      — সভা, সমিতি, সমাবেশ, মিটিং
১৫. অধ্যয়ন — পাঠ, পঠন, পড়া, পাঠাভ্যাস, লেখাপড়া
১৬. অনন্ত   — অবয়, অসীম, অশেষ, চিরস্থায়ী
১৭. অনুজ্জ্বল — নিস্তেজ, জ্যোতিহীন, ম্লান, বিবর্ণ
১৮. অনুরোধ      — আবেদন, আবদার, আরজি, বায়না
১৯. অপরিচিত     — অজানা, নাজানা, অজ্ঞাত, অচিন
২০. অভাব   — অনটন, দারিদ্র্য, দৈন্য, গরিবি, দুর্দশা
২১. অলস   — কুড়ে, অকর্ম, অকেজো, ঢিলে, আলসে
২২. অল্প    — কম, সামান্য, অপ্রচুর, নগণ্য, কিয়ৎ, ঈষৎ
২৩. অগ্নি    — আগুন, অনল, বহ্নি, দহন, পাবক
২৪. অশ্ব    — ঘোড়া, বাজী, তুরগ, হ্রেষা, টাঙ্গন
২৫. অতিশয় — অতি, অতীব, অতিমাত্রা, অধিক, অত্যন্ত
২৬. অখ্যাতি — নন্দা, কুৎসা, বদনাম, দুর্নাম, অপবাদ
২৭. অন্ধকার — আঁধার, তিমির, তমসা, শর্বর
২৮. অচল   — গতিহীন, অটল, স্থির, নিথর, অপ্রচলিত
২৯. অবস্থা   — দশা, রকম, প্রকার, হাল, হালত
৩০. অনাদর — উপেক্ষা, অবজ্ঞা, অবহেলা, হেলা, অযত্ন
৩১. অপচয় — অপব্যয়, বৃথাব্যয়, ক্ষতি, ক্ষয়, হ্রাস
৩২. অতিথি — মেহমান, কুটুম, আগন্তুক, আমন্ত্রিত
আ বর্ণ
১. আসল    — খাঁটি, মূলধন, মৌলিক, মূল, মৌল
২. আইন    — বিধান, কানুন, ধারা, নিয়ম, নিয়মাবলি
৩. আঁধার   — অন্ধকার, তমসা, তিমির, শর্বর, আলোহীন
৪. আকার   — আকৃতি, চেহারা, আদল, গড়ন, গঠন
৫. আমন্ত্রণ   — আহ্বান, নিমন্ত্রণ, সম্ভাষণ, অভ্যর্থনা
৬. আরম্ভ   — শুরু, সূচনা, ভূমিকা, সূত্রপাত, প্রারম্ভ
৭. আলো    —রশ্মি, কিরণ, দীপ্তি, প্রভা, নুর, জ্যোতি, আভা
৮. আকাশ   — অম্বর, নভ, গগন, আসমান, দ্যুলক
৯. আদেশ   — আজ্ঞা, হুকুম, অনুমতি, অনুশাসন, অনুজ্ঞা
১০. আনন্দ   — হর্ষ, আহ্লাদ, ফুর্তি, খুশি, আমোদ, মজা
১১. আফসোস      — পরিতাপ, দুঃখ, খেদ, অনুতাপ, আক্ষেপ
১২. আধুনিক — সাম্প্রতিক, নব্য, নবীন, বর্তমান, হালের
১৩. আকুল   — ব্যাকুল, কাতর, উৎসুক, কৌতূহলি, অস্থির
১৪. আশ্চর্য   — বিস্ময়, চমক, অবাক
ই /ঈ বর্ণ
১. ইচ্ছা     — সাধ, বাসনা, আকাঙ্ক্ষা, আশা, চাওয়া
২. ইতি     — সমাপ্তি, শেষ, অবসান, সমাপন, ছেদ
৩. ইদানিং   — সম্প্রতি, আজকাল, এখন, অধুনা, বর্তমান
৪. ঈর্ষা     — দ্বেষ, বিদ্বেষ, হিংসা, রেষারেষি, বৈরিতা
৫. ঈশ্বর    — আল্লাহ, খোদা, রব, সৃষ্টিকর্তা, স্রষ্টা, প্রভু
উ/ঊ বর্ণ
১. নমুনা    — দৃষ্টান্ত , নিদর্শন, নজির, নমুনা
২. উজ্জ্বল    — আলোকিত, উদ্ভাসিত, ভাস্বর, ঝলমলে, দীপ্ত
৩. উত্তম    — উৎকৃষ্ট, প্রকৃষ্ট, শ্রেষ্ঠ, সেরা, অতুলনীয়
৪. উচ্ছেদ    — উৎপাটন, উৎখাত, নির্মূল, বিনাশ, স্থানচ্যুতি
৫. উচিত    — যোগ্য, কর্তব্য, উপযুক্ত, ন্যায্য, সমীচীন
৬. উপযুক্ত   — যোগ্য, উপযোগী, সমকক্ষ, সক্ষম
৭. উপকথা   — উপাখ্যান, কাহিনি, গল্প, কেচ্ছা
৮. উপকার — হিতকর, মঙ্গল, সাহায্য, অনুগ্রহ, কল্যাণ
৯. ঊর্বর    — ভাল, ভারসাম্য, অনুকূল, ফলপ্রদ
১০. ঊষা    — প্রভাত, প্রত্যুষ, ভোর, সকাল
এ/ঐ বর্ণ
১. একতা    — ঐক্য, মিলন, একত্ব, অভেদ, অভিন্নতা
২. ঐশ্বর্য    — ধন, সম্পত্তি, বিত্ত, প্রতিপত্তি
৩. ঐক্য    — একতা, একত্ব, মিল, অভিন্ন, সমতা
ব্যঞ্জনবর্ণ
ক-বর্গ (ক/খ/গ/ঘ)
১. কাঁদা    — ক্রন্দন, কান্না, রোদন, কান্নাকাটি, অশ্রুত্যাগ
২. কেনা    — ক্রয়, খরিদ, কেনাকাটা, সওদা
৩. কোন্দল   — বিবাদ, বিরোধ, ঝগড়া, কলহ
৪. কষ্ট     — ক্লেশ, আয়াশ, পরিশ্রম, দুঃখ
৫. কন্যা    — মেয়ে, নন্দিনী, কুমারী, ঝি, বেটি
৬. কথা    — উক্তি, বচন, কথন, বাক্য, বাণী
৭. কলহ    — ঝগড়া, বিরোধ, বিবাদ, দ্বন্দ্ব, কাইয়া
৮. কপাল   — ভাল্, অদৃষ্ট, ভাগ্য, নিয়তি
৯. কেশ     — অলক, চিকুর, কুন্তল, চুল, কবরী
১০. কুল    — বংশ, গোত্র, গোষ্ঠী, জাতি, বর্ণ
১১. কঠিন   — শক্ত, দৃঢ়, কঠোর, কড়া, জটিল, রুক্ষ
১২. কল্যাণ   — মঙ্গল, শুভ, সুখ, কল্যাণযুক্ত, সমৃদ্ধি
১৩. কাটা   — কর্তন করা, খণ্ডন করা, খনন করা
১৪. কারণ   — হেতু, নিমিত্ত, প্রয়োজন, উদ্দেশ্য, মূল
১৫. কৃষক   — চাষি, কৃষিজীবী, কর্ষক
১৬. কূল    — তীর, তট, কিনারা, ধার, পার, পাড়
১৭. খ্যাতি   — যশ, সুনাম, নাম, নামযশ, প্রতিষ্ঠা
১৮. খাদ্য   — খাবার, ভোজ্য, অন্ন, রসদ, খানা
১৯. খবর   — সংবাদ, বার্তা, তত্ত্ব, তথ্য, সমাচার, নিউজ
২০. খাঁটি    — বিশুদ্ধ, আসল, প্রকৃত, যথার্থ, সাচ্চা
২১. খারাপ   — মন্দ, কু, বদ, নিকৃষ্ট, দুষ্ট, নষ্ট, অভদ্র
২২. খুব     — ভীষণ, প্রচণ্ড, প্রচুর, অনেক, অত্যন্ত , অতিশয়
২৩. খোঁজা   — অন্বেষণ, সন্ধান, অন্বেষা, এষণা, তালাশ
২৪. খেচর   — পাখি, পক্ষি, বিহঙ্গ, দ্বিজ, খগ
২৫. গভীর   — অগাধ, প্রগাঢ়, নিবিড়, অতল, গহন
২৬. গরু    — ধেনু, গো, গাভী, পয়স্বিনী
২৭. গৃহ     — ভবন, আলয়, নিলয়, সদন, ঘর, বাড়ি
২৮. ঘরনি   — গৃহিণী, গিন্নী, বউ, স্ত্রী, পত্নী, জায়া, বিবি
চ-বর্গ (চ/ছ/জ/ঝ)
১. চন্দ্র     — চাঁদ, শশী, শশাঙ্ক, ইন্দু, হিমাংশু
২. চক্ষু     — চোখ, লোচন, নয়ন, নেত্র, অক্ষি, আঁখি
৩. চঞ্চল    — অস্থির, চপল, ব্যাকুল, কম্পিত, বিচলিত
৪. চতুর    — চালাক, ধূর্ত,
৫. চিত্র     — ছবি, আলেখ্য, প্রতিমূর্তি, নকশা
৬. চির     — অনন্ত , নিরবধি, নিত্য, অটুট
৭. চিন্তা     — মনন, ভাবা, স্মরণ, ধ্যান, ভাবনা
৮. ছেদ     — যতি, ছেদন, বিরাম, খণ্ড, দাঁড়ি
৯. ছাত্র     — বিদ্যার্থী, শিষ্য, শিক্ষার্থী, শিক্ষানবিশ
১০. জন্ম    — উৎপত্তি, উদ্ভব, সৃষ্টি, ভূমিষ্ঠ, জনম, আবির্ভাব
১১. জলাশয় — পুকুর, সরোবর, দিঘি, জলাধার, জলাভূমি
১২. জাত    — জাতি, গোষ্ঠী, গোত্র, বংশ, প্রকার, কুল
১৩. জ্ঞান   — বোধ, বুদ্ধি, পাণ্ডিত্য, শিক্ষা, চেতনা
১৪. ঝড়    — সাইক্লোন, ঝটিকা, ঝঞ্ঝা, তুফান
১৫. ঝোঁক   — টান, আকর্ষণ, মমতা, মায়া, ভালবাসা
১৬. ঠিক    — সত্য, যথার্থ, নির্ভুল, ন্যায্য, ভাল, উত্তম
১৭. ঠাট্টা    — উপহাস, রসিকতা, বিদ্রুপ, শ্লেষ, মশকরা
১৮. ডগা   — শীর্ষ, শিখর, অগ্রভাগ, আগা, মাথা
১৯. ঢেউ    — ঊর্মি, তরঙ্গ, কলল, হিলল, জোয়ার
২০. ঢাকনা   — আবরণ, আচ্ছাদন, ঢাকা, ছাদ, সরা
২১. ঢের    — প্রচুর, অনেক, বেশি, রাশি, স্তুপ

ত-বর্গ (ত/থ/দ/ধ/ন)
১. তপন    — সূর্য, রবি, ভানু, প্রভাকর, দিনপতি
২. তৃষ্ণা     — পিপাসা, তেষ্টা, পিয়াসা, ইচ্ছা, আকাঙ্ক্ষা
৩. তুষার    — বরফ, হিম, হিমানী, তুহীন, নীহার
৪. তৈরি    — গঠন, নির্মাণ, গড়া, বানানো, প্রস্তুত
৫. দলিল    — নথি, নথিপত্র, কাগজপত্র, পাট্টা, দস্তাবেজ
৬. দক্ষ     — নিপুণ, পটু, পারদর্শী
৭. দরিদ্র    — দুর্গত, নির্ধন, গরিব, বিত্তহীন, নির্বিত্ত
৮. দরদ    — ব্যথা, বেদনা, মমতা, টান, আকর্ষণ
৯. দয়া     — অনুগ্রহ, করুণা, কৃপা, অনুকম্পা, মায়া
১০. দুঃখ    — কষ্ট, ক্লেশ, যন্ত্রণা, দুখ, ব্যথা, বেদনা
১১. দাস    — ভৃত্য, চাকর, ক্রীতদাস, অনুগত, অধীন
১২. দান    — দেওয়া, অর্পণ, সম্প্রদান, বিতরণ, উৎসর্গ
১৩. দাহ    — দহন, জ্বালা, পোড়া, সৎকার
১৪. দীন    — দরিদ্র, কাতর, অসহায়, দুঃখ, করুণ
১৫. ধন    — বিত্ত, অর্থ, সম্পদ, বিভব, টাকা-পয়সা
১৬. ধর্ম    — রীতি, আচরণ, আইন, সৎকর্ম, পূণ্যকর্ম
১৭. ধ্বংস   — নাশ, বিনাশ, বিলপ, শেষ, ভস্ম, কেয়ামত
১৮. ধবল   — সাদা/শাদা, শ্বেত, শুভ্র, শুল্ক, ধলা, সিতা
১৯. নবীন   — আনকোরা, নতুন, আধুনিক, অধুনা, নব, নয়া
২০. নাম    — খ্যাতি, সুনাম, অভিধা, পরিচয়, মর্যাদা
২১. নিকট   — সন্নিহিত, কাছে, অদূর, অদূরবর্তী
২২. নম্র     — ভদ্র, বিনয়ী, বিনয়াবনত, কোমল, নরম
২৩. নদী    — তটিনী, প্রবাহিনী, তরঙ্গিণী, দরিয়া, গাঙ
২৪. নর     — মানব, মানুষ, মনুষ্য, লোক, জন, পুরুষ
২৫. নারী    — রমণী, মহিলা, স্ত্রী, মেয়ে, ললনা, মানবী
২৬. নিজ    — আপন, স্বীয়, স্বয়ং, নিজস্ব, ব্যক্তিগত
২৭. নিত্য    — সতত, সর্বদা, প্রত্যহ, নিয়মিত, রোজ
২৮. নিদ্রা   — ঘুম, বিশ্রাম, রাতের অবসান, অসাড়
প-বর্গ (প/ফ/ব/ভ/ম)
১. পরিবর্তন — বদল, পাল্টানো, সংস্কার, সংশোধন
২. পানি     — জল, বারি, সলিল, নীর, পয়ঃ
৩. পৃথিবী   — ভুবন, জগৎ, ধরনী, ধরা, বিশ্ব
৪. পাপ     — পাতক, কুলুষ, দুষ্কর্ম, দুষ্কৃতি
৫. পদ্ম     — কমল, উৎপল, পঙ্কজ, কুমুদ, শতদল
৬. পর্বত    — গিরি, পাহাড়, নগ, অচল, ক্ষিতিধর
৭. পিতা    — জনক, জন্মদাতা, বাবা, আব্বা, বাপ
৮. পুত্র     — আত্মজ, দুলাল, তনয়, ছেলে, কুমার, পোলা
৯. পাথর    — পাষাণ, প্রস্তর, শিলা, কাঁকর, কঙ্কর
১০. পুষ্প    — কুসুম, ফুল, রঙ্গনা, প্রসূন
১১. পণ্ডিত   — বিদ্বান, বিজ্ঞ, প্রাজ্ঞ, বিশারদ, মনীষী
১২. পতন   — পড়া, অধোগতি, অবনতি, ধ্বংস, স্থলন
১৩. পতাকা — কেতন, ঝাণ্ডা, ধ্বজা, নিশান
১৪. পত্নী    — বউ, জায়া, সহধর্মিণী, জীবনসাথী, স্ত্রী
১৫. পথ    — রাস্তা, সরণি, সড়ক, নির্গমন, রাহা, দ্বার
১৬. পরম   — শ্রেষ্ঠ, মহৎ, অত্যন্ত , প্রধান, চরম
১৭. পূর্ণ     — পুরা, ভর্তি, সফল, সিদ্ধ, সম্পূর্ণ, সমাপ্ত
১৮. পেলব   — কোমল, মৃদু, লঘু, সুন্দর, নিপুণ, নরম
১৯. পেষণ   — দলন, মর্দন, বাঁটা, চূর্ণন, পেষা
২০. প্রকৃতি   — স্বভাব, চরিত্র, ধর্ম, নিসর্গ
২১. প্রবৃত্তি   — অভিরুচি, স্পৃহা, ব্যাপৃত, চেষ্টা, নিয়োগ
২২. প্রভু    — মনিব, স্বামী, ঈশ্বর, কর্তা, অধিপতি
২৩. পত্র   — পাতা, পল্লব, পত্তর, চিঠি, দ্রব্যাদি
২৪. ফাঁকি   — অবহেলা, বঞ্চনা, প্রতারণা, ঠকামি, ভোগা
২৫. বন্ধুত্ব   — মৈত্রী, সৌহার্দ, সখ্য, মিতালি, দোস্তি
২৬. বায়ু    — হাওয়া, বাতাস, পবন, সমীর, সমীরণ
২৭. বিচিত্র   — বিভিন্ন, রকমারি, রকমফের, বিবিধ, নানান
২৮. বিশৃঙ্খল — ব্যতয়, গোলমাল, গোলযোগ
২৯. বৃহৎ    — বিশাল, প্রকাণ্ড, মস্ত , বিপুল, বড়
৩০. বন    — অরণ্য, অটবী, জঙ্গল, কানন, বনানী, বনভূমি
৩১. বন্ধু    — সখা, মিত্র, সুহৃদ, বান্ধব, স্বজন, প্রিয়জন
৩২. বৃক্ষ    — তরু, মহিরুহ, উদ্ভিদ, গাছপালা
৩৩. বস্ত্র    — বসন, পরিধেয়, কাপড়, পোশাক
৩৪. বসন্ত   — মধুকাল, রাগ, ঋতুরাজ, মধুমাস
৩৫. বিমান   — উড়োজাহাজ, হাওয়াই জাহাজ, আকাশযান
৩৬. বদ    — দুষ্ট, মন্দ, অসাধু, অসৎ, কর্কশ, খারাপ
৩৭. বাদ    — বাতিল, কথন, ভাষণ, উক্তি, বিয়োগ, ত্যাগ
৩৮. বর    — বরণীয়, পতি, স্বামী, জামাই
৩৯. বহু    — যথেষ্ট, অধিক, অনেক, প্রচুর, বেশি
৪০. বড়    — জ্যেষ্ঠ, ধনী, শ্রেষ্ঠ, শীর্ষ, উচ্চ, মহৎ
৪১. বন্ধ    — বাঁধা, আবদ্ধ, রুদ্ধ, যুক্ত, ন্যস্ত , বিন্যস্ত
৪২. বন্যা    — প্লাবন, বান, জলচ্ছ্বাস, জোয়ার, কোটাল
৪৩. বশ    — অধীন, আয়ত্ত, অধীনতা, বশবর্তিতা
৪৪. বসা    — উপবেশন, স্থাপন, সক্রিয় হওয়া
৪৫. বাস্তু    — বাসস্থান, বাসগৃহ, বাসভূমি, আবাস
৪৬. বিদ্যুৎ   — তড়িৎ, বিজলি, শম্পা, চপলা, চঞ্চলা
৪৭. বিফল   — ফলহীন, অচল, নিষ্ফল, অসমর্থ, ব্যর্থ
৪৮. বিচক্ষণ — বহুদর্শী, দূরদর্শী, অভিজ্ঞ, কর্মদক্ষ
৪৯. বিচার   — বিবেচনা, যুক্তিপ্রয়োগ, তর্ক, মীমাংসা
৫০. বিধি    — নিয়ম, বিধান, আইন, পদ্ধতি, উপায়
৫১. বিয়োগ — বিচ্ছেদ, বিরহ, মৃত্যু, অভাব
৫২. বিরক্ত   — বিমুখ, বিপ, অপ্রসন্ন, বিদ্বিষ্ট, ক্ষুব্ধ
৫৩. বিবাহ   — বিয়ে, পরিণয়, পাণিগ্রহণ, উদ্বাহ, শাদি
৫৪. ভয়    — শঙ্কা, ত্রাস, ভীতি, ডর
৫৫. ভাই    — ভ্রাতা, সহোদর, ভাইয়া, ভায়া
৫৬. ভাগ্য   — বিধি, কপাল, নসিব, তকদির, নিয়তি
৫৭. ভুল    — ভ্রম, ভ্রান্তি , ত্রুটি, প্রমাদ, গলদ, দোষ
৫৮. ভ্রমর   — ভোমরা, মৌমাছি, মধুকর, মধুপ, অলি
৫৯. ভগ্ন    — ভাঙা, খণ্ডিত, চূর্ণিত, দুমড়ানো, কুঞ্চিত
৬০. ভজন   — স্তুতি, আরাধনা, সেবা, প্রশংসা
৬১. ভয়ানক — ভয়ঙ্কর, ভয়াবহ, খুব, ভীষণ
৬২. ভর    — অবলম্বন, নির্ভর, সহযোগিতা, ভার
৬৩. ভাব   — সত্তা, অস্তিত্ব, স্থিতি হওয়া
৬৪. মাতা   — জননী, মা, প্রসূতি, গর্ভধারিণী, জন্মধাত্রী
৬৫. মৃত্যু    — মরণ, নিধন, ইন্তেকাল, মহাপ্রস্থান
অন্যান্য বর্ণ
১. রাজা    — রাজ্যপাল, নৃপতি, ভূপতি, মহীপাল, সম্রাট
২. রানি     — রাজ্ঞী, মহিষী, সম্রাজ্ঞী, রাজমহিষী, বেগম
৩. ঋষি     — তপস্বী, মুনি, যোগী, সাধুপুরুষ
৪. ঋদ্ধ     — সমৃদ্ধ, উন্নত, পুষ্ট, কল্যাণকর
৫. ঋতু     — আর্তব, কাল, মৌসুম, মরশুম
৬. শিক্ষক   — গুরু, ওস্তাদ, মাষ্টার, টিচার
৭. হস্তি     — হাতি, করী, গজ, দ্বিপ, মাতঙ্গ
৮. হরিণ    — মৃগ, কুরঙ্গ, সাঙ্গ, সৃনয়ন